বাড়ছে লিথিয়ামের চাহিদা, মজুদ আছে ৮ কোটি টন

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকম:বিশ্বজুড়ে লিথিয়ামের চাহিদা বাড়ছে। ব্যাটারি ও ইলেকট্রনিকস পণ্য তৈরিতেঅত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এই মৌলিক পদার্থটি। বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি লিথিয়ান জমা আছে ৬টি দেশে। তারা হলো- বলিভিয়া, আর্জেন্টিনা, চিলি, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং চীন। লিথিয়ামের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে বিশ্বে এসব রিজার্ভ বা লিথিয়ামের মজুদাগার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এর আহরণ প্রক্রিয়ায় এসেছে গতি। যুক্তরাষ্ট্রে জিওলজিক্যাল সার্ভের (ইউএসজিএস) মতে, ২০১৯ সাল নাগাদ সারা বিশ্বে মোট মজুদ আছে আট কোটি টন লিথিয়াম। আগের বছরের তুলনায় এই পরিমাণ শতকরা ৩০ ভাগ বেশি।
লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি তৈরিতে এই পদার্থটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটারি তৈরির কারখানাগুলোতে বৃহৎ আকারে এর কদর খুব বেশি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনএস এনার্জি। এতে বলা হয়, সামনের বছরগুলোতে লিথিয়াম আহরণের গতি অনেক বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, সিলভার-সাদা এই ধাতব পদার্থটির চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সাল নাগাদ এই চাহিদা দ্বিগুনের বেশি হতে পারে।
কোথা থেকে লিথিয়াম সংগ্রহ করা হচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করে তা আলাদা করার প্রক্রিয়ায় ভিন্নতা রয়েছে। সাধারণত লবণের যেসব পুল বা ক্ষেত্র আছে সেখানে সৌর বাষ্পীকরণের মাধ্যমে অথবা প্রচণ্ড শক্ত পাথর থেকে আকরিক স্পোডুমেন পৃথকীকরণ করা হয়। আরো নতুন নতুন কৌশল আবিষ্কার করা হচ্ছে।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি লিথিয়ান জমা আছে বলিভিয়াতে। এখানে মজুত আছে ২ কোটি ১০ লাখ টন। বিশ্বে মোট যে পরিমাণ লিথিয়াম পাওয়া যায় তার এক চতুর্থাংশ পাওয়া যায় এই দেশটিতে। এখানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় লিথিয়ামের একটি মজুদাগার হলো সালার ডি উয়ুনি সল্ট ফ্ল্যাট। মহাকাশ থেকে এটা দৃশ্যমান। ভৌগলিক কারণে এই মজুদ থেকে লিথিয়াম উত্তোলন সম্ভব হয়নি অনেকদিন। কিন্তু দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন যে, লিথিয়াম শিল্পকে উন্নত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কিন্তু রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ২০১৯ সালে তিনি পদত্যাগ করেন। তার উত্তরসুরি প্রেসিডেন্ট লুইস আরচি এই পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি বলিভিয়াকে বিশ্বে লিথিয়ামের রাজধানী বানানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

এরপরেই রয়েছে আর্জেন্টিনা। এখানে মজুদ আছে এক কোটি ৭০ লাখ টন লিথিয়াম। প্রতিবেশী বলিভিয়া এবং চিলির মতো, এখানে লিথিয়ামের মজুদ রয়েছে ভূপৃষ্ঠের একটি বিশাল লবণাক্ত স্তরে। সেখানে সৌর তাপে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে লিথিয়াম সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ দেশটিতে সবচেয়ে বড় লিথিয়ামের মজুদ রয়েছে সালার ডেন হোমব্রে মুয়ের্তোতে। অনেক কোম্পানি আর্জেন্টিনার এই শিল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। কিন্তু দেশটিতে আর্থিক অস্থিতিশীলতা এবং অন্যান্য ইস্যুতে এখনও যথাযথ উপায় অবলম্বন করা যায়নি লিথিয়াম সংগ্রহে।
এরপরে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চিলি। এখানে মজুদ আছে ৯০ লাখ টন লিথিয়াম। তারা সফলভাবে এই ধাতব পদার্থটি আলাদা করার উপায় বের করেছে। ২০১৯ সাল পর্যন্ত এটিই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় লিথিয়াম খনির দেশ। ওদিকে চতুর্থ অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আছে ৬৮ লাখ টন লিথিয়াম। তবে উত্তোলন কর্মকাণ্ড নিম্ন পর্যায়ের। ২০১৯ সালে সেখানে একটিমাত্র লিথিয়াম উত্তোলনের সক্রিয় কর্মকাণ্ড ছিল নেভাদা রাজ্যে। যুক্তরাষ্ট্রে লিথিয়ামের চাহিদা মেটায় আর্জেন্টিনা ও চিলি।
তালিকায় পঞ্চম স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ার কাছে আছে ৬৩ লাখ টন লিথিয়াম। ২০১৯ সালে সেখানে উত্তোলন করা হয় ৪২ হাজার টন লিথিয়াম। এর ফলে সর্বোচ্চ লিথিয়াম পৃথক করেছে তারা ওই বছরে। আর দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল চিলি। তারা ওই বছর লিথিয়াম আলাদা করেছে ১৮ হাজার টন। তালিকার ষষ্ঠ নম্বরে ৪৫ লাখ টন লিথিয়ামের মজুদ আছে চীনের। ২০১৯ সালে তারা উত্তোলন করেছে ৭৫০০ টন। এর মধ্য দিয়ে তারা ছিল লিথিয়াম উত্তোলনে তৃতীয় সর্বোচ্চ দেশ।

1