বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বছরের তাৎপর্য বুঝতে হবে, অন্যথায় এ অঞ্চলে চীনের প্রবেশ

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকম: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বছরটিতে দিল্লিকে এই মুহূর্তটি হারানো কিংবা ঢাকাকে অবমূল্যায়ন করা যাবে না বলে ভারতের দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এর সম্পাদকীয়তে মন্তব্য করা হয়েছে। “প্রকৃত বন্ধুরা” শিরোনামের ওই সম্পাদকীয়টি সোমবার (০৮ মার্চ) প্রকাশিত হয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে এতে বলা হয়- ঢাকা সফরকালে তার প্রচেষ্টা ছিল ভারতের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্বকে কেবল দক্ষিণ এশিয়াতেই নয় বরং দিল্লির ‘লুক ইস্ট’ নীতিমালায় এবং আরো বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে “গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার” হিসেবে দৃষ্টি নিবদ্ধ করা। জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষ উদযাপনের জন্য ২৬ শে মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের ভিত্তি প্রস্তুত করার জন্যই জয়শঙ্কর ওই সফর করেছিলেন। এই বছরটিতে আরও দুটি বার্ষিকী রয়েছে – পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের মুক্তির পঞ্চাশতম বছর যেখানে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল এবং ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর। এসব ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশকে ভারতের শুভেচ্ছা জানানোর অনেককিছু জমা রয়েছে। এর পাশাপাশি মজবুত আন্তঃসীমান্ত ভাষাতাত্ত্বিক এবং সাংস্কৃতিক সংযোগতো রয়েছেই। তবে এসব করে বাংলাদেশকে দিল্লির অবমূল্যায়ন বন্ধ করা উচিত। সাম্প্রতিক বছর এবং মাসগুলোতে, বিজেপির জ্যেষ্ঠ সদস্যদের বিশেষত নির্বাচনের সময় এবং নাগরিকত্ব সংশোধন আইন কার্যকর হওয়ার পরে ঘরোয়া আলোচনায় বাংলাদেশ এবং এর জনগণের সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যগুলো দুই দেশের সম্পর্কে ছায়া ফেলেছে।
গত বছর পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার ঢাকা সফর এবং এ বছর (ভারতের) প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ ছিল অনেকদিন পর প্রথম লক্ষণ যে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। ভারত বাংলাদেশকে ভ্যাকসিনের ২ মিলিয়ন ডোজ প্রেরণ করেছে যা বাইরের কোন দেশে প্রেরিত বৃহত্তম চালান।

সম্পাদকীয়তে আরো বলা হয়- জয়শঙ্কর “বাস্তবে ব্যবহারিক অগ্রগতির” দিকে ইঙ্গিত করেছিলেন – বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আগরতলার উদ্দেশ্যে কন্টেইনারবাহী কার্গোর পরীক্ষামূলক যাত্রা; অভ্যন্তরীণ নৌপথে দুটি নতুন প্রোটোকল রুট যা ত্রিপুরাকে বাংলাদেশের জাতীয় নৌপথের সাথে সংযুক্ত করে, ১০ টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ হস্তান্তর, কনটেইনার এবং পার্সেল ট্রেনের চলাচলের সূচনা এবং জ্বালানি খাতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ। তিনি বলেন, “উভয় পক্ষই আমাদের সম্পর্ককে পুরোপুরি মাত্রায় প্রসারিত করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, পরিবহন ও যোগাযোগ থেকে শুরু করে সংস্কৃতি, জনগণের সাথে জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক আমাদের অভিন্ন সম্পদ বিকাশের নিশ্চয়তা বিধান করে।” এসব অভিন্ন সম্পদের মধ্যে তিস্তা নদীর পানিও রয়েছে। এই পানি বাংলাদেশের সাথে ভাগাভাগি করে নেয়া ঢাকাকে দেয়া দিল্লির দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যার সাথে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের দুর্দান্ত যোগাযোগ রয়েছে, তিনি এই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় দিল্লির ‘দৌড়ঝাপ’ দেখেছেন এবং এই বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজ দেশে তীব্র সমালোচিত হয়েছেন।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করে বলা হয়- এমনকি মহামারীকালীন সময়েও নিজের চমৎকার অর্থনৈতিক পারফরমেন্সের কারণে আজকের বাংলাদেশ এক নতুন আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান। সামাজিক কল্যাণমূলক বিভিন্ন সূচকেও দেশটি ভারতের চেয়ে এগিয়ে। বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কোন্নয়নের রাস্তা কেবল বাণিজ্য বা নদীর পানি বন্টনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সামনেই পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন, সেখানে বাঘা বাঘা প্রচারণাকারীদের স্লোগানগুলোও লক্ষ্য করা হবে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের “দেশ থেকে বের করে” দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুহূর্তটিকেই বেছে নেওয়া ভালো কিছুর পূর্বাভাস নয়। বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের জন্য এই বছরের তাৎপর্যকে (ভারত) সরকারের প্রতিনিয়ত মনে রাখতে হবে। অন্যথায়, এই মুহূর্তটি হারানো এবং এই অঞ্চলে চীনের প্রবেশের পথ প্রশস্ত করা খুব সহজ হতে পারে।

1