লঞ্চডুবিতে ৩৪ জনের লাশ উদ্ধার ,জানিয়েছেন নাহিদা বারিক

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকম:  নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যায়  লঞ্চডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক৷ এখন নিখোঁজ রয়েছেন এনএসআইয়ের এক কর্মকর্তাসহ দু’জন৷

মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে নাহিদা বারিক বলেন, স্বজনদের মাধ্যমে করা তালিকা অনুযায়ী ৩৬ জন নিখোঁজ ছিলেন৷ তাদের মধ্যে ২৯ জনের লাশ উদ্ধারের পর হস্তান্তর করা হয়েছে৷ নিখোঁজ থাকা আরও পাঁচজনের লাশ মঙ্গলবার সকালে উদ্ধার করা হয়েছে৷ সেগুলো হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে৷ এখনও দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন৷ তাদের মধ্যে একজন এনএসআইয়ের কর্মকর্তা৷

ইউএনও নাহিদা বারিক জানান, মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত উদ্ধার অভিযানে নিহত সুনিতা সাহার অপর ছেলে অনিক সাহা (১২), মধ্য কোন্ডাগাও এলাকার মতিউর রহমান কাজীর পুত্র ইউসুফ কাজী, ঢাকা মিরপুর-১১ এর বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের পুত্র মো. সোহাগ হাওলাদার (২৩), মৃত আনোয়ার ও মুন্সিগঞ্জ সদরের দক্ষিণ ইসলামপুরের নুরুল আমিনের ছেলে তানভীর হোসেন হৃদয়, মালপাড়া এলাকার সিরাজের পুত্র রিজভী (২০)এই পাঁচজনের লাশ পাওয়া যায়৷ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি বেতকা এলাকার মুছা শেখের ছেলে জাকির হোসেন (৪৫) ও এনএসআইয়ের এক কর্মকর্তা৷

 জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, রাতেই ২৯ জন যাত্রী সাঁতরে জীবিত অবস্থায় নদী পার হতে সক্ষম হন। পাওয়া যায় পাঁচ নারীর লাশ। নিখোঁজ ছিলেন আরও ৩০ জন। লঞ্চডুবির ঘটনার ১৮ ঘন্টা পর গতকাল দুপুর বারোটার দিকে লঞ্চটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হলে তার ভেতর পাওয়া যায় আরও ২১ জনের লাশ। বিকেলে মেলে আরও ৩ জনের লাশ।

নিহত আরও ২৯ জন হলেন: মুন্সিগঞ্জ সদরের নুড়াইতলীর মুখলেছের মেয়ে রুনা আক্তার (২৪), একই থানার মোল্লাকান্দির চৌদ্দমোড়ার সুমর আলী বেপারীর ছেলে সোলেমান বেপারী (৬০), সোলেমানের স্ত্রী বেবী বেগম (৫৫), মালপাড়ার হারাধনের স্ত্রী সুনিতা সাহা (৪০), তার ছেলে বিকাশ সাহা (২২), উত্তর চরমসুড়ার ওলিউল্লাহর স্ত্রী পাখিনা (৪৫), একই এলাকার আরিফের স্ত্রী বিথি (১৮), মেয়ে আরিফা (১), মুন্সিগঞ্জ সদরের প্রীতিময় শর্মার স্ত্রী প্রতিমা শর্মা (৫৩), চর কিশোরগঞ্জ মোল্লাকান্দির মো. ফাজিলের ছেলে শামসুদ্দিন (৯০), শামসুদ্দিনের স্ত্রী রেহেনা বেগম (৬৫), দক্ষিণ কেওয়ার দেবেন্দ্র দাসের ছেলে নারায়ণ দাস (৬৫), নারায়ণের স্ত্রী পার্বতী রানী দাস (৪৫), বরিশালের উজিরপুরের খায়রুল হাওলাদারের ছেলে হাফিজুর রহমান (২৪), হাফিজুরের স্ত্রী তাহমিনা (২০), ছেলে আব্দুল্লাহ (১), নারায়ণগঞ্জের বন্দরের কল্যান্দীর আজমীর (২), মুন্সিগঞ্জের রিকাবিবাজার এলাকার মুশকে আলম মৃধার ছেলে শাহ্আলম মৃধা (৫৫), রতন পাতরের স্ত্রী মহারানী পাতর (৩৭), ঢাকার যাত্রাবাড়ি শনিরআখড়ার রশিদ হাওলাদারের ছেলে আনোয়ার শেখ (৪৫), আনোয়ারের স্ত্রী মাকসুদা বেগম (৩০), আট মাস বয়সী মেয়ে মানসুরা, মুন্সিগঞ্জের নোয়াগাও পূর্বপাড়া এলাকার মিঠুনের স্ত্রী ছাউদা আক্তার লতা (১৮), শরিয়তপুরের নড়িয়ার মৃত নুরনবী শেখের ছেলে আব্দুল খালেক (৭০), ঝালকাঠির কাঠালিয়া এলাকার তোফাজ্জলের মেয়ে লাবনী জিবু (১৩), বরিশালের স্বরূপকাঠির খাদিজা বেগম (৫০), বন্দরের সেলসারদী এলাকার নুরু মিয়ার ছেলে মো. নয়ন (২৯), সাদিয়া (১১) এবং দোলা বেগম (৩৪)। লঞ্চে ডুবে যাওয়া যাত্রীদের গন্তব্য স্থান ছিল মুন্সিগঞ্জ। মৃতদের অনেকের গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলাতে।

1