সবজিসহ ১৩ পণ্যের বাজার চড়া

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকম:  হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার পর সপ্তাহের ব্যবধানে  বাজারগুলোতে পিয়াজের দাম কমলেও আগের মতোই চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি।

এদিকে কর আরোপ না করলেও বাজেট প্রস্তাবের কয়েকদিনের ব্যবধানে চাল-ডাল থেকে শুরু করে আটা-ময়দা, আদা, রসুন, ডিম ও শিশুখাদ্য গুঁড়াদুধসহ ১৩টি নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন। এমন পরিস্থিতিতে মাথায় হাত খেটে খাওয়া মানুষের। রাজধানীর মুগদা, বাসাবো এলাকার বিভিন্ন বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, হঠাৎ করেই বাজারে দেশি পিয়াজের সরবরাহ কমে গিয়েছিল, যে কারণে দাম বেড়ে যায়। ৪০ টাকা থেকে লাফিয়ে দাম বেড়ে কেজি ৬০ টাকা হয়ে যায়। তবে এখন সরবরাহ বাড়ায় দাম কমে খুচরা ৫০ টাকায় নেমে এসেছে। কাওরান বাজারের ব্যবসায়ী কালাম বলেন, ভারত থেকে আসা বন্ধ থাকায় পিয়াজের সরবরাহ কমে যায়।
সেই সঙ্গে ফরিদপুরের বাজারেও দেশি পিয়াজের সরবরাহ কম ছিল। যে কারণে হুট করে পিয়াজের দাম বেড়ে যায়। তবে এখন সরবরাহ অনেকটাই ঠিক হয়ে গেছে। যে কারণে দাম কমেছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক মাসের ব্যবধানে ১৩ পণ্যের দাম বেড়েছে। মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি চাল সর্বোচ্চ ৩.৩৬ শতাংশ বেড়েছে। কেজিতে ময়দার দাম বেড়েছে ১.১৫ শতাংশ। ভোজ্যতেলের মধ্যে প্রতি লিটারে বেড়েছে সর্বোচ্চ ৮.১১ শতাংশ। প্রতি কেজি ডালের সর্বোচ্চ দাম বাড়ানো হয়েছে ১১.৭৬ শতাংশ। দেশি পিয়াজে মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে কেজিতে ১৮.০৭ শতাংশ। রসুন ১১.১১ শতাংশ বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। আদার দাম কেজিতে বেড়েছে ১৩.০৪ শতাংশ, দারুচিনি ৪.৯৪, রুই মাছ ৯.০৯, গুঁড়াদুধ ০.৭৯ শতাংশ দাম বেড়েছে।
এছাড়া মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি চিনির দাম বেড়েছে ৫.০৭ শতাংশ। প্রতি কেজি প্যাকেটজাত লবণের দাম বেড়েছে ৮.৮৮ শতাংশ। প্রতি হালি (চার পিস) ফার্মের ডিমের দাম বেড়েছে ১৫ শতাংশ।
রাজধানীর খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ভালো মানের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৪-৬৫ টাকা। এই চাল বাজেটের আগে বা এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ৬০-৬২ টাকা। একইভাবে প্রতি কেজি বিআর-২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২-৫৪ টাকা, যা আগে বিক্রি হয়েছে ৪৮-৫০ টাকা। এছাড়া মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫১ টাকা, যা আগে বিক্রি হয়েছে ৪৫-৪৬ টাকা। কাওরান বাজারের আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির মালিক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সরকারি গুদামে চাল নেই। সরকারের মজুত কমেছে। মিলাররা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চালের মৌসুমেও দাম বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি বাজেটের অজুহাত দেখাচ্ছে।
বাজেট ঘোষণার পর নতুন করে বেড়েছে আটা ও ময়দার দাম। ৩২ কেজি দরে খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৩৪ টাকা কেজিতে। বাজেটের আগে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া প্যাকেট ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকা দরে। খোলা সয়াবিন তেলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩২-১৩৩ টাকা, যা বাজেটের আগে বা এক মাস আগে ১২৬-১২৭ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৭৩০ টাকা, যা বাজেটের আগে ৬৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা, যা এক মাস আগে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পিয়াজের সঙ্গে কেজি প্রতি আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা, যা আগে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
ডালের মধ্যে ভালো মানের মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১৫-১২০ টাকা কেজিতে। এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ১০০-১১০ টাকা। কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা। প্রতি কেজি চিনি ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা। প্রতি কেজি প্যাকেটজাত লবণ ৩ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা।
এদিকে ব্রয়লার, সোনালি ও লাল লেয়ার মুরগি আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৩০.১৪০ টাকায় বিক্রি করছেন। লাল লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৩০.২৪০ টাকা। আর সোনালি মুরগির কেজি ২১০.২৩০ টাকা। এদিকে সবজি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে আগের মতো ফুলকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে শসা, বেগুন, পটোল, ঢেড়সের দাম। মানভেদে শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। পটোলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। ঢেড়সের কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এছাড়া বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, গাজর ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পাকা টমেটো ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঝিঙে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কাঁচকলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। লাউয়ের পিস বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। এক কেজি কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। উস্তের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা।
সবজি ব্যবসায়ী আয়নাল বলেন, প্রতি বছরই এমন সময় সবজির দাম একটু বেশি থাকে। শীতের সবজি আসার আগে দাম কমার সম্ভাবনা কম বরং সামনে সবজির দাম আরো বাড়তে পারে।
কনজিউমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। কারণ বাজেটে নতুন করে পণ্যের ওপর কর আরোপ করা হয়নি। বরং কিছু পণ্যের দাম কমানো হয়েছে। তারপরও ক্রেতা বাজারে তার সুফল পাচ্ছে না।

1