জয় বাংলা বলে আগে বাড়ো, মেয়র প্রার্থী বাবুও ছুটছেন তেমন করে

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: হঠাত করেই বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর চাষাড়া চত্বরে মশাল মিছিল। রাত তখন ৮টা হবে। গর্জে ওঠো আরেকবার ধ্বনিত আওয়াজে কাঁপছিল রাজপথ।তেমন মুখরিত সুরে ‘জয় বাংলা আগে বাড়ো’ উচ্চারণে থেকে দ্রোহের সাথে আকুল আহ্বানের এক মিশেল। নগরীর শহর রক্ষার আন্দোলন নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া জয় বাংলা নাগরিক কমিটির নেতাকর্মীদের মশাল মিছিল। বার্তা ছিল, আমরা থামবো না। বুধবারের পর খানিকটা বিরতি দিয়ে শনিবার তাঁদের মনোনীত মেয়র প্রার্থী কামরুল ইসলাম বাবুও তার প্রাত্যহিক গণসংযোগে বললেন, জয় বাংলা বলেই আগে বাড়ো, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে আমরাই গড়তে চাই প্রিয় বাংলাদেশকে, নারায়ণগঞ্জকে।

বুধবারের ১৩ নং ওয়ার্ডের গণসংযোগে কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে খাজা মামুন, মোশ্তাক আহমেদ, আনিসুর রহমান, তুষার খান ও শাজাহান কবীরেরা জানান দিলেন, “আমরা যোগ্য ব্যক্তিকেই মনোনয়ন দিয়েছি। এই শহরের জ্যেষ্ঠ ও আলোকিত মানুষগুলো, যারা এখনো সামনে আসেন নাই, তাঁরাই কামরুল ইসলাম বাবুকে নিয়ে আগামী দিনগুলোয় নির্বাচনী প্রচারণায় নামবেন। আমরা আগভাগে নেমেছি। কিন্তু, একজন বাবুর পেছনে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি বর্গ রয়েছেন।“

এদিকে বাবু তাঁর স্বভাবসুল্ভ ভঙ্গিতে পথসভার মত করে এদিনেও বললেন, “নারায়ণগঞ্জ, গুরুত্বের দিক দিয়ে বাংলাদেশের অন্যতম একটি জেলা শহর। শিল্প ও বন্দর নগরী হিসাবে ইতিহাসে জায়গা করে নেয়া একটি জেলাও। সরকার এক পর্যায়ে অন্যান্য বিভাগীয় শহরের মত করে নারায়ণগঞ্জও যাতে করে অধুনা শহর হিসাবে আবির্ভূত হতে পারে, সে বিবেচনায় সিটি কর্পোরেশন করে এই শহরটিকে সাজানোর উদ্যোগে যায়। কিন্তু, শহরের চাল চলন, বলন সাক্ষ্য দেয় না, এটি কোন সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। অথচ, আমি এখন শহরটিকে পর্যটন নগরী করতে চাইছি। “

বাবু বলেন, নাসিক এখন নখদন্তহীন কাগুজে বাঘের মত। যেখানে মাঝেমাঝে ব্যক্তিবিশেষ শুধু হুংকার ছড়িয়ে বলতে থাকেন, “অমুক খারাপ, তমুক খারাপ।কেহই আত্মসমালোচনায় থাকেন না।“

বাবু জামতলার এক পথসভায় বলেন, “এখানে মাদকের ব্যবসা টিকিয়ে রেখে একশ্রেণির রাজনীতিকেরা দিব্যি সুখে আছেন। চাঁদাবাজি তো তাঁদের সম্বলই। আমাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে, শহরে গুন্ডা-পান্ডা মার্কা নেতৃত্বের যেন বিকাশ না হয়। তাঁদের কাছে নগরভবন নামের স্থাপনা যেন না চলে যায়। চোর তাড়িয়ে ডাকাত আনাও যাবে না। নগরবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে।“

কামরুল ইসলাম বাবু বললেন, “তাহলে, আমাদের এখন কাজ কি ? হয়তো বলবেন, ভোটে জেতার জন্য নীতিকথার চাদরে পরিবেষ্টিত হয়ে কথা বলছি। তুমিও, কেমন ভাল ? জীবন দিয়ে দেখাতে পারবো না, আমি কেমন ! তবে, ঘড়ি ধরে সেকেন্ডের কাঁটা মিলিয়ে দিয়ে পাঁচটি বছরে কি কি করব তা জানাতে সচেষ্ট থাকব। যদি প্রতিশ্রুতি দিয়ে কথা রাখতে না পারি, তবে আজকের জয় বাংলা নাগরিক কমিটি কিংবা এই শহরের মানুষ ভবিষ্যতে জনতার আদালত বসিয়ে হলেও যেন আমার শাস্তির ব্যবস্থা করে।“

বাবু গণসংযোগকালে বগরবাসীদের উদ্দেশে বলেন, নভেম্বরের শেষ নাগাদ এই জনপদের লক্ষ জনতা শহরের স্বার্থে আমার সাথে গণসংযোগে নেমে পড়বে। জয় বাংলা নাগরিক কমিটির বলয় ছোট থেকে মাঝারি হয়ে বড় হতে থাকবে। অতি বড় হবে। তখন, আমরা শহরকে ঢেলে সাজানোর জন্য সক্কলে ‘শহর সেনা’ হব। কেন এত আত্মবিশ্বাস ? আমি বলবো, শহরের জন্য সেরাটা তুলে রেখেছি।নগরবাসী তা এবার বুঝে যাবে। তাঁরা জানেন যে, আসলে কোন উন্নয়নই হয় নাই। পুরোনো ঢাকার মত করে আমাদের জীর্ণ নগরী। আর বরদাশত করা যায় না।“

1