হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে: মেয়র আইভী

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকমঃ  জাতীয় শ্রমিক লীগের ৫২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ শহরের ২নং রেল গেইট এলাকার আওয়ামী লীগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, আমি আলী আহমেদ চুনকার সন্তান এবং আপনারা জানেন আমার বাবা শ্রমিক লীগের একজন নেতা ছিলেন। আমি দেখেছি আমার বাবা সাধারণ মানুষের সাথে কাজ করেছেন। আমরা দেখছি সব জায়গায় বিবাদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। শ্রমিক সংগঠনেও বিভাজন করা হবে এটা আমাদের মোটেও কাম্য ছিল না। আপনার প্রতি অবিচার করা হয়েছে। কেন্দ্র যেন সেটা সুনজর দেয়। এই অবিচার যেন না করা হয়। এই প্রহসনের রাজনীতি আমরা চাই না। একক ব্যক্তির কথার উপড় নারায়ণগঞ্জে কমিটি দিয়ে প্রত্যেকের সাহস বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জেলা শ্রমিকলীগ ও মহানগর শ্রমিকলীগ সবসময় নিরপেক্ষভাবে সম্মেলন করা হতো। কিন্তু এবার জানতে পারলাম একটি পক্ষ কেন্দ্র থেকে কমিটি অনুমোদন করিয়ে নিয়ে দ্বিধা বিভক্তির সূচনা করেছে। তবে আমাদের অনুরোধ করছি কেন্দ্রে সাথে যোগাযোগ করে আপনাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। যেন আপনাদের এই কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করে একটি সুন্দর কমিটি উপহার দেয়া হোক।

নিজের নামে স্লোগান দিতে নিষেধ করে আইভী বলেন, এখানে যারা আছেন দয়া করে কেউ আমার স্লোগান দিবেন না। সবসময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনার নামে স্লোগান দিতে হবে। শেখ হাসিনার নামে স্লোগান দিতে হবে। অন্যদের নামে স্লোগান দিলে খারাপ দেখায়। আপনি যেমন শেখ হাসিনার কর্মী আমি একজন শেখ হাসিনার কর্মী। এখানে নেতা বলে কেউ নেই। আমাদের নেতা একজনই। আমাদের নেতা বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর পর তার কন্যা শেখ হাসিনা। ধৈর্য্য ধরবেন যেভাবে রাজপথে ছিলেন সেভাবে থাকবেন।

আইভী বলেন, সবসময়ই বঞ্চিত হয় যারা দলের দুঃসময়ে দলের শোচনীয় অবস্থায় হাল ধরে। পরবর্তীতে সুবিধবাদীরা এসে হাল ধরা ব্যক্তিদের দূরে বঞ্চিত করে দেয়। এটা আমরা সবসময় দেখে আসছি। এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। ভয় পাওয়ার কিছু নাই। আপনিও শেখ হাসিনা স্লোগান ধরবেন তারাও শেখ হাসিনার স্লোগান ধরবে। কিন্তু রাজপথে শেষ পর্যন্ত যে ঠিকে থাকতে পারে সেই শেখ হাসিনার কাছে মূল্যায়িত হবে। শুধু প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করেই যেন কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না থাকে। শেখ হাসিনার উন্নয়ন তুরে ধরার দায়িত্ব আপনাদের।

আইভী আরো বলেন, ‘তারা কি একবারও চিন্তা করেছে? নারায়ণগঞ্জে এক আইভীকে ঠেকাতে গিয়ে জাতীয় ভাবে কোন দুর্যোগ ডেকে আনছে কি না!’ ‘আমি মনে করি, শেখ হাসিনা যাকে ভালো মনে করবে, তাকেই মনোনয়ন দিবে। কিন্তু এই ভাবে একজন নারীকে যখন, যা খুশি তা বলবে, ফাঁসির মঞ্চে দাঁড় করাবে, এ ভাবে নারায়ণগঞ্জের পরিবেশকে অস্থির করা ঠিক কি না?’

সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে শহরের মধ্যে অযথা বিভিন্ন ভাবে প্রতিবন্ধকতা শুরু হয়েছে। দেখেন এই নারায়ণগঞ্জ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শহর। বহুদূর থেকে এসে মানুষ এক সাথে বসবাস করেন। কিন্তু কে বা কারা পূজা মন্ডপে এসে জোড় করে সা¤প্রদায়িক আইভী লিখে ব্যানার দিয়েছেন। গত সিটি নির্বাচনে বাংলাদেশের জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনিত প্রার্থী আমি ছিলাম। জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। সেখানে কিভাবে আমারই এই দলের একটি চক্র, এই ভাবে সাম্প্রদায়িক আইভী বলে পোষ্টার লাগান। তারা নারায়ণগঞ্জকে অস্থির করার চেষ্টা করছে। হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কে করছে এ সব? তারা কিন্তু এই আওয়ামী লীগের মধ্যে ডুব মেরে থেকে ব্যক্তি স্বার্থ দেখছে। এমনও ব্যাপার আছে, তাঁর ব্যবসা নাই, কিন্তু কোটি কোটি টাকা আয়। এই শহরে তাদের টাকার কোন অভাব নেই। টাকা দিয়ে তারা সব কিছু করতে পারে।’

আলোচনা সভা শেষে শহরে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, শ্রমিকলীগের প্রয়াত সভাপতি শুক্কুর মাহমুদের নেতৃত্বাধীন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মাইনউদ্দিন আহমেদ বাবুল, সহসভাপতি মো: শহীদুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক সবুজ শিকদার, শ্রমিকলীগের আরেকটি জেলা কমিটির সভাপতি জনতা ব্যাংক সিবিএ নেতা মো: আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক ও সোনালী ব্যাংক সিবিএ নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের সভাপতি আকতার হোসেন, সহসভাপতি হুমায়ন কবির, মহিলা শ্রমিকলীগের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোদেজা খানম নাসরিন প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ১ অক্টোবর আব্দুল কাদিরকে আহবায়ক ও কামাল হোসেনকে সদস্য সচিব করে নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিকলীগের ২৭ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে ৩ অক্টোবর বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন শ্রমিকলীগের বিবদমান দুই গ্রæপের নেতৃবৃন্দ যাদেরকে বাদ দিয়েই গত ১ অক্টোবর শ্রমিকলীগের নতুন আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারী।

নারায়ণগঞ্জ জেলার শ্রমিকলীগের নবঘোষিত কমিটিকে পকেট কমিটি দাবি করে এই কমিটিকে অবৈধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন পদবঞ্চিত জেলা শ্রমিকলীগের নেতারা। রাতের আধাঁরে অর্থের লেনদেনের মাধ্যমে অগঠনতান্ত্রিকভাবে এই পকেট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে যা অবৈধ বলে দাবি করেছেন তারা। এছাড়া দীর্ঘ ২০ বছর পূর্বে শ্রমিকলীগ থেকে বহিস্কৃত নেতা যিনি এই দীর্ঘ ২০ বছরেও শ্রমিকলীগের কোন কর্মকান্ডে ছিলেন না তাকে আহবায়ক হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পাশাপাশি ত্যাগীদের বাদ দিয়ে হাইব্রীড নেতাদেরকে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন নেতৃবৃন্দ। এছাড়া শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা ৫ জন নেতা স্থান পেলেও নবঘোষিত আহবায়ক কমিটির বিষয়ে তারা কিছুই জানেনা বলে জানান নেতৃবৃন্দ।

1