‘ফাইনালেও আমরা সাকিবকে পাচ্ছি, সে গুণী খেলোয়াড়’

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকমঃ   ত্রয়োদশ আইপিএলের শিরোপার লড়াইয়ে নামছে সাকিব আল হাসানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স ও চেন্নাই সুপার কিংস। ভারতের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায়।
বুধবার শারজায় আসরের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে দিল্লি ক্যাপিটালসকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। এর আগে প্রথম কায়ালিফায়ারে দিল্লি ক্যাপিটালসকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটে চেন্নাই। শারজায় এদিন ব্যাটে-বলে খুব উজ্জ্বল ছিলেন না কেকেআরের বাংলাদেশি অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। উইকেটবিহীন ৪ ওভারের পর ব্যাট হাতে ফেরেন শূন্য রানে। তবে ফিল্ডিংয়ে নজর কেড়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। দিল্লির শেখর ধাওয়ানের ক্যাচ ধরে জিতে নেন ‘ভিভো পারফেক্ট ক্যাচ অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার।

খেতাবটির পুরস্কার স্বরূপ এক লাখ রুপি পান সাকিব। বুধবার রাতে হাই ভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হয় দিল্লি ও কলকাতা। টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন কেকেআর অধিনায়ক এউইন মরগান। কলকাতার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দিল্লি দ্রুত রান তুলতে ব্যর্থ হয়। তবে উইকেটে থিতু হয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছিলেন শেখর ধাওয়ান। ৩৯ বলে ৩৬ রান করা ধাওয়ান সাজঘরে ফেরেন সাকিবের দুর্দান্ত ক্যাচে। এলিমিনেটর ম্যাচে সাকিবের ব্যাটেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরকে হারায় কলকাতা নাইট রাইডার্র্স। কোয়ালিফায়ারে ব্যাটে বলে পারফরম্যান্স দেখাতে না পারলেও বাংলাদেশি অলরাউন্ডারের ভূয়সী প্রশংসা করেন কেকেআরের চিফ মেন্টর ডেভিড হাসি। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অলরাউন্ডার বলেন, ‘আমি মনে করি ফাইনাল ম্যাচেও আমরা সাকিবকে পাচ্ছি। আশা করি সবাই ফাইনাল ম্যাচের জন্য থাকবেন। গত কয়েক ম্যাচে সাকিব দলকে অনেক কিছু দিয়েছে। দু’টি জয়ে দলে বড় অবদান রেখেছে। সে একজন গুণী খেলোয়াড়।’ দিল্লি ক্যাপিটালসের দেয়া ১৩৬ রানের সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করে কলকাতা নাইট রাইডার্স। ১ উইকেটেই ৯৬ রান তোলে কেকেআর। দ্বিতীয় উইকেট হারায় ১২৩-এ। ২৪ বলে সাকিব আল হাসানদের প্রয়োজন মাত্র ১৩ রান, তখনও হাতে রয়েছে ৮ উইকেট। এরপরই দৃশ্যপটে আমুল পরিবর্তন আনে দিল্লির বোলাররা। মাত্র ৭ রান জড়ো করতেই কলকাতা হারায় ৬টি উইকেট। শেষ ২ বলে প্রয়োজন ৬ রান, পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে নাইটদের রোমাঞ্চকর জয় এনে দেন রাহুল ত্রিপাঠি। শারজায় দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে বুধবার ৩ উইকেটে জেতে কলকাতা। কলকাতার পক্ষে বরুণ চক্রবর্তী নেন দুই উইকেট। সুনীল নারাইনও পাননি কোনো উইকেটের দেখা। ৪ ওভারে ২৭ রান দেন এই ক্যারিবীয় অফস্পিনার। সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করেন কেকেআরের দুই ওপেনার শুভমন গিল ও ভেঙ্কটেশ আইয়ার। উদ্বোধনী জুটিতেই দল পায় ৯৬ রান। ৪১ বলে চারটি চার ও তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে ৫৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন ভেঙ্কটেশ। এরপর ৪৬ বলে ৪৫ রান করে আউট হন শুভমন গিল। নিতীশ রানা ১৩ রান করে ফিরলে কলকাতা চাপে পড়ে যায়। দীনেশ কার্তিক ও এউইন মরগান দুইজনই ৩ বলের মোকাবিলায় কোনো রান না করেই আউট হন।
শেষ ওভারে ব্যাট হাতে মাঠে নামেন সাকিব। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের করা এই ওভারে কলকাতার প্রয়োজন ছিল ৭ রান। সাকিবকে বিনা রানে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন অশ্বিন। এরপর সুনীল নারাইনও ব্যর্থ হন শূন্য রানে। অবশেষে রাহুল ত্রিপাঠির নৈপুণ্যে জয় পায় কলকাতা নাইট রাইডার্স। এর আগে একবারই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল চেন্নাই-কলকাতা। ২০১২’র আসরে তাদের দুই শিরোপার প্রথমটি জিতেছিল কলকাতা।

1