সুপার টুয়েলভ: টাইগারদের সম্ভাবনা কতোটুকু

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকমঃ   বিশ্বকাপের প্রথম পর্বেই কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে সাকিব-মাহমুদুল্লাহদের। স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে সুপার টুয়েলভের পথ হয়ে পড়ে কঠিন। আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরায় ওমানের মতো দলের বিপক্ষেও ম্যাচের অনেকটা জুড়ে লড়াই করতে হয়েছে। ওমানকে হারিয়ে টিকে থাকার রসদ যুগিয়ে পাপুয়া নিউগিনিকে উড়িয়ে আরব আমিরাতে পা রেখেছে টাইগাররা। এখন লড়াই বিশ্বকাপের ফেভারিটদের সঙ্গে। গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে আসায় বাংলাদেশ খেলবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ, টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ের নাম্বার ওয়ান ইংল্যান্ড; যারা ২০০৯ আসরের শিরোপাধারী আবার ওয়ানডের বিশ্বচ্যাম্পিয়নও। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। যারা ২০১৪’র চ্যাম্পিয়ন।

যদিও লঙ্কান ক্রিকেটে চলছে পালা-বদলের হাওয়া। শক্তি হারিয়ে ফেভারিট তকমা নেই দিনেশ চান্দিমাল-কুশল পেরেরাদের গায়ে। ক্রিকেটবোদ্ধাদের মতে, বাংলাদেশ অপেক্ষাকৃত সহজ গ্রুপে পড়েছে। বিশ্লেকষকদের এমন ভাবনার পেছনে যুক্তি হিসেবে কাজ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কন্ডিশন। এশিয়ান কন্ডিশনে খেলা। ‘গ্রুপ ওয়ানে’ বাংলাদেশের পাঁচ প্রতিপক্ষের চারটিই অন্য মহাদেশের। শ্রীলঙ্কাও আর আগের মতো নিরঙ্কুশ ফেভারিট নয়। সাকিব আল হাসান শুরু থেকেই বলে আসছেন সেমিফাইনাল খেলার কথা। সেজন্য পাড়ি দিতে হবে আমিরাতের বিশাল মরুভূমির মতোই কঠিন পথ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ডের মতো দলকে পেছনে ফেলতে হবে। কখনো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না জেতা অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার লক্ষ্যও শেষ চারে নাম লেখানো। স্কোয়াড যেমনই হোক বড় মঞ্চে শ্রীলঙ্কা বরাবরই ভালো করে।

ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ একটি দিকই এগিয়ে। আর সেটা ‘কন্ডিশন’। যদিও আইসিসির আসরে ব্যাটিং উইকেটে খেলা হয়ে থাকে। তবে আরব আমিরাতে স্পিনাররা কিছুটা হলেও সুবিধা আদায় করে নিতে পারে। সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশের হবে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতাও। টি-টোয়েন্টিতে কখনই ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়নি বাংলাদেশ। ইংলিশরা এবারের আসরের অন্যতম ফেভারিট। কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে টাইগাররা প্রথমবার ইংলিশদের মুখোমুখি হবে আবুধাবিতে। সুপার টুয়েলভে আগামী বুধবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে এউইন মরগানদের বিপক্ষে বাংলাদেশ খেলবে আবুধাবিতে।
২৯শে অক্টোবর ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বিশ্ব আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের। ২০০৭ আসরে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে জয়। ঘরের মাঠে ২০১৪ বিশ্বকাপে মাত্র ৯৮ রানে অলআউট হয়ে ৭৩ রানে হারের লজ্জা সঙ্গী হয় বাংলাদেশের। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে অবশ্য জয়-হারে খুব বেশি পার্থক্য নেই। উইন্ডিজের ৫ জয়ের বিপরীতে ৪ জয় টাইগারদের। যদিও দ্বিপাক্ষিক সিরিজে পূর্ণশক্তির দল নিয়ে খেলে না ক্যারিবিয়ানরা। উইন্ডিজের বিপক্ষে বিশ্বমঞ্চে আগের দুই লড়াইয়ে একটি করে জয় ও হার বাংলাদেশের। তৃতীয় দেখায় জিততে চাইবে বাংলাদেশ। কাইরন পোলার্ড, আন্দ্রে রাসেলদের বিপক্ষে জিতলে বিশ্বকাপে পরের পথটা সহজ হয়ে যাবে টাইগারদের।

২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে অবশ্য টি-টোয়েন্টিতে জয় নেই বাংলাদেশের। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ৫ ম্যাচের সবকটিতেই হার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে একবারই প্রোটিয়াদের বিপক্ষে খেলেছে বাংলাদেশ। ২০০৭ এ কুড়ি ওভারের প্রথম বিশ্বকাপে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারে টাইগাররা। সেবার ঘরের মাঠে বাংলাদেশকে হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেমিফাইনাল স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে প্রোটিয়াদের হারানোর বিকল্প নেই বাংলাদেশের। সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। দুবাইয়ে ৪ঠা নভেম্বর অজিদের বিপক্ষে বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাস যোগাবে সবশেষ সিরিজ জয়ের স্মৃতি। যদিও ঘরের মাঠে ধীরগতির উইকেটে অজিদের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। বিশ্বমঞ্চে অজিদের বিপক্ষে লড়াইটা হবে ভিন্ন আবহে।

সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশ ম্যাচের সূচি
২৪ অক্টোবর: বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা, ভেন্যু-শারজা
২৭ অক্টোবর: বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড, ভেন্যু-আবুধাবি
২৯ অক্টোবর: বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভেন্যু- শারজা
২ নভেম্বর: বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা, ভেন্যু-আবুধাবি
৪ নভেম্বর: বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া, ভেন্যু-দুবাই

1