দ্বিতীয় দিনেও ভিড় ভোগান্তি কমেছে

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকমঃ   করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে রাজধানীর ৮টি কেন্দ্রে স্কুল শিক্ষার্থীদের গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুলগামী শিশুদের ফাইজারের টিকা প্রয়োগ করা হয়। সোমবার মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও গতকাল থেকে টিকা পায় ঢাকার শিশুরা। সকাল থেকে কেন্দ্রের সামনে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ভিড় ছিল। কিছু কিছু কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ে টিকা না পৌঁছায় কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিরপুর কমার্স কলেজ কেন্দ্রে দেরিতে টিকা আসায় শিক্ষার্থীরা কিছু সময় হৈচৈ শুরু করে। তবে দ্বিতীয় দিনে কেন্দ্রে ভিড় থাকলেও ভোগান্তি ছিল কম। ছেলেমেয়েরা টিকা গ্রহণের পর অভিভাবকরাও অনেকটা স্বস্তিতে ছিলেন।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, প্রথমে কিছুটা উদ্বেগ উৎকণ্ঠা কাজ করলেও টিকা নেয়ার পর আনন্দ বিরাজ করছে।

করোনার দুশ্চিন্তার কিছুটা হলেও অবসান হয়েছে। রাজধানীর যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিকা দেয়া হবে-হার্ডকো ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, সাউথপয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ,  চিটাগং গ্রামার স্কুল, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ,  মিরপুর কমার্স কলেজ, কাকলি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সাউথ ব্রিজ স্কুল এবং স্কলাসটিকা স্কুল এক এক করে শিক্ষার্থীরা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকাকেন্দ্রে প্রবেশ করছে। ভেতরে প্রবেশের পর কেন্দ্রের ওয়েটিং রুমে বসানো হয়। পরে এক একজন করে বুথে প্রবেশ করে টিকা নিয়ে বেরিয়ে আসছে। এই কেন্দ্রে কোনো ভোগান্তি ও বিড়ম্বনা ছাড়াই শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে টিকা গ্রহণ করতে পেরেছে। সকাল নয়টা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত টিকা কার্যক্রম চলছে। এদিকে প্রথম ডোজ টিকা নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে আনন্দ করতে দেখা গেছে। আবার টিকা নেয়ার আগে অনেকে ভয়েও ছিলেন। তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা সাহসের সঙ্গে টিকা গ্রহণ করেছে। ছেলেমেয়েদের টিকা নেয়ার পর অভিভাবকদের মধ্যেও দেখা গেছে স্বস্তি। বাইরে অভিভাবকরা জটলা পাকিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। কেন্দ্রের বাইরে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে সেজন্য পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। স্কুল কর্তৃপক্ষও সচেতনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। দুপুর বারোটা বাজতেই কেন্দ্রের প্রথম শিফটে টিকাদান শেষ হওয়ায় অন্যান্য স্কুল থেকে দ্বিতীয় শিফটে টিকা নিতে কয়েকটি বাসযোগে শিক্ষার্থীরা চলে এসেছেন কেন্দ্রে। প্রথম ও দ্বিতীয় শিফটে বিকাল তিনটা পর্যন্ত টিকা দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এই কেন্দ্রে ২ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হয়। এ কেন্দ্রে মোট ২৫টি বুথ থাকলেও গতকাল ১০টি বুথে টিকা দেয়া হয়েছে। প্রতিটি বুথে ২০০ জন শিক্ষার্থী টিকা নিতে পারবকাকলি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ দীন মোহাম্মদ খান , স্বাস্থ্যবিধি মেনে টিকা কার্যক্রম শুরু করেছি। আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রথম দিন হওয়ায় বুথের সংখ্যা একটু কমানো হয়েছে। বুধবার এর চেয়ে আরও বেশি শিক্ষার্থী হবে। বুথ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীরাও বাড়বে। এখনো ২৫টি বুথ রেডি অবস্থায় আছে। সোমবার সন্ধ্যার পরে আমরা জানতে পেরেছি শুধু আজকের জন্য বুথ সংখ্যা কমিয়ে দিয়ে দশটি করা হয়েছে। মোট ২ হাজার শিক্ষার্থী টিকা দেয়া হয় বিকাল তিনটা পর্যন্ত। এই ২ হাজার শিক্ষার্থী দুই শিফটে ভাগ করা আছে। প্রথম শিফট ছিল সকাল নয়টা থেকে বারোটা পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় শিফট দুপুর বারোটা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত। তিনি আরও বলেন, আমরা শুধু পরীক্ষামূলকভাবে মঙ্গলবার টিকা কার্যক্রম শুরু করেছি। বুধবার বুথের সংখ্যা ২৫টি বাড়ানো হবে। এবং শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। প্রতিদিন ৮ হাজার শিক্ষার্থীকে আমাদের এই কেন্দ্রে টিকাদান করতে সক্ষম হবো। এই রকম প্রস্তুতি আমাদের আছে। ২ হাজারের মধ্যে অল্প কিছু শিক্ষার্থী সময়ের পরে আসায় তাদের টিকা দেয়া সম্ভব  হয়নি। যারা বাদ পড়েছে তাদেরকে বুধবার দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।কাকলি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী হানিফা বলেন, টিকা নেয়ার আগে খুব ভয় ছিল। এখন খুব একটা ভয় করছে না। শুধু একটু ব্যথা করছে। বিসিএসআইআর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলেন, মনে হয়েছে একটা পিঁপড়ায় কামড় দিয়েছে। ভাইয়ার সঙ্গে টিকা নিতে এসেছি। মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী নওশিন বলেন, ভয়ে আব্বু-আম্মুকে সঙ্গে নিয়ে এসেছি। টিকা নেয়ার পর আর ভয় মনে হচ্ছে না। কাকলি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আদির মা জানান, গত পরশু রেজিস্ট্রেশন করেছি। সোমবার সন্ধ্যায় মোবাইলে টিকা নেয়ার মেসেজ এসেছে। সকাল দশটায় ছেলেকে নিয়ে কেন্দ্রে চলে আসি।

মাউশি’র উপ-পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস মানবজমিনকে বলেন, সকাল থেকেই এসে দেখি সারিবদ্ধভাবে ছেলেমেয়েরা দাঁড়িয়ে আছে। সঙ্গে অনেক অভিভাবকও এসেছেন। ছেলেমেয়েরা একা আসতে ভয় পায়। প্রথমে যতটুকু তাদের মধ্যে ভয় ছিল তারচেয়ে বেশি সাহস নিয়ে সবাই টিকা নিয়েছে। এই কেন্দ্রে আমাদের দশটি বুথ আছে। ২৫টি বুথ ছিল কিন্তু মঙ্গলবারের জন্য মাত্র দশটিতে টিকা কার্যক্রম চালানো হয়েছে। সুশৃঙ্খলভাবে সুন্দর পরিবেশে টিকা দেয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর ও টিকা কর্মসূচির পরিচালক ডা. শামসুল হক  জানান, সোমবার ঢাকার একটি কেন্দ্রে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন  হলেও  মঙ্গলবার থেকে ৮টি কেন্দ্রে টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়, চলে বিকাল ৩টা পর্যন্ত। সকাল থেকে এসব স্কুলে টিকা নিতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকার জন্য অপেক্ষা করছে। ছেলে ও মেয়েদের জন্য করা হয়েছে আলাদা লাইন। শিক্ষার্থীদের টিকা প্রয়োগে রাজধানীর ৮টি কেন্দ্র ও সারা দেশে আপাতত ২১ জেলা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকায় প্রাথমিক পর্যায়ে ৮টি স্কুলে টিকা দেয়া হয়। প্রতিদিন বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ৫ হাজার করে ৪০ হাজার টিকা দেয়া হবে। ১২ বছরের নিচে বয়সীরা এখনই টিকা পাচ্ছে না।
1