এবার লড়াইটুকুও করতে পারলো না বাংলাদেশ

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকমঃ   আগের ম্যাচের মতো কালও ব্যর্থ বাংলাদেশের টপ অর্ডার। ওই ম্যাচে শেষ দশ ওভারে লোয়ার মিডল অর্ডার তবু লড়াই করেছিল। এদিন সেটাও হলো না। নাজমুল হোসেন শান্ত ছাড়া বাকিরা ছিলেন মলিন। স্বাভাবিকভাবেই আরও বিবর্ণ দেখালো স্বাগতিকদের ব্যাটিং। মামুলি রান তাড়ায় এবার পাকিস্তানি ব্যাটাররা টাইগারদের লড়াইয়ের সুযোগ দেয়নি। শুরুতে বাবর আজমকে হারালেও মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ফখর জামান ৮৫ রানের জুটি গড়ে দলকে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। রিজওয়ান করেন ৩৯ রান।ফখর জামানের ব্যাট থেকে আসে ৫৭ রানের ইনিংস। আর এতেই মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আরেকটি হতাশার বিকাল কাটে টাইগারদের। সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ৮ উইকেট হারায় সফরকারীরা। এতে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জয় নিশ্চিত হয় পাকিস্তানের। বাংলাদেশের করা মাত্র ১০৮ রান ১১ বল আগেই টপকে যায় বাবর আজমের দল।
শুরুতে চাপ, এরপর সেটা সামাল দেয়া। তার মাঝেই খেই হারানো। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিং করতে নামা বাংলাদেশ ইনিংসের গতিপথ ছিল এমনই। ৫ রানে ২ উইকেট হারানোর পর নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে আফিফ হোসেনের জুটি আশা জাগালেও বাংলাদেশ পথ হারায়। প্রথম ম্যাচে শেষ দিকে একটা লাফ দিলেও গতকাল হয়নি সেটাও। পাকিস্তানি বোলারদের সামনে রীতিমতো হাঁসফাঁস করেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। এদিন ২ ওভারে ২ উইকেট হারানোর চাপ সামাল দেন আফিফ-শান্ত। পাওয়ারপ্লেতে অন্তত আগের দিনের তুলনায় ভালো সময় কাটায় বাংলাদেশ, ওঠে ৩৬ রান। তবে আফিফ ২০ রানে আউট হলে ভাঙে ৪৫ রানের জুটি। মাহমুদুল্লাহ নেমে সুবিধা করতে পারেননি। ফিরেছেন ১৫ বলে ১২ রান করেই। ইনিংসে বাংলাদেশের একমাত্র স্বস্তির জায়গা বলতে গেলে শান্তর ব্যাটিংই। যদিও ৩৪ বলে ৪০ রান করে থেমে পড়েন শান্ত। ইনিংসে মারেন ৫টি চার। আগের দিন ক্যামিও খেলা নুরুল হাসানও ফেরেন বড় শটের চেষ্টায় উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে। এর আগেই নওয়াজকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মেহেদী। শেষ দিকে আমিনুল ইসলাম অপরাজিত ছিলেন ৮ রানে, তাসকিন করেন ২ রান। দুজনেরই স্ট্রাইক রেট ছিল ৫০। শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশ তোলে মাত্র ৪৪ রান। পুরো ২০ ওভার খেলে ১০৮। টি-টোয়েন্টিতে ২০ ওভার খেলে নিজেদের ইতিহাসেই এর চেয়ে কম রানের সংগ্রহ বাংলাদেশের আছে আর দুটি- ২০১১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষেই ৯ উইকেটে ৮৫ রানের পর গত আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯ উইকেটে ১০৪ রান। আগের দুটি ঘটনাও মিরপুরেই। সহজ রান তাড়ায় নেমে সতর্ক শুরুর পর তৃতীয় ওভারে গিয়ে ধাক্কা খায় পাকিস্তান। আগের দিন তাসকিন আহমেদের বল স্টাম্পে টেনে বোল্ড হয়েছিলেন বাবর আজম। এদিন মোস্তাফিজের বলে একই ধরনের আউট হন তিনি। ১২ রানে প্রথম উইকেট হারানো পাকিস্তানকে পরে এক ওভারে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। কিন্তু দারুণ বল করলেও মেলেনি উইকেট। সেই ঝাঁজ সামলে ক্রিজে থিতু হয়ে যান রিজওয়ান-ফখর। রানের চাপ না থাকায় তাদের কাজটাও ছিল না কঠিন। প্রথম ম্যাচে একাদশে থেকেও শেষ ওভারের আগে বল পাননি লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। এবার অষ্টম ওভারে বোলিংয়ে আসেন তিনি। পেতে পারতেন উইকেটও। ২৬ রানে থাকা বাঁহাতি ফখরের সহজ ক্যাচ ডিপ মিডউইকেটে ফেলে চার বানিয়ে দেন সাইফ হাসান। পরে তার বলে পড়ে ৩৮ রানে থাকা মোহাম্মদ রিজওয়ানের ক্যাচও। যদিও ওই ওভারেই রিজওয়ানকে আউট করে উইকেটের দেখা পান বিপ্লব। ততক্ষণে অবশ্য ম্যাচের কেবল আনুষ্ঠানিকতাটুকুই বাকি।

1