বিএনপি’র গণঅনশন

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকমঃ   বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তার সুচিকিৎসার দাবিতে শনিবার রাজধানীতে গণঅনশন কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। নয়াপল্টনস্থ বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সকাল নয়টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত চলা অনশনে অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এ সময় তারা অনতিবিলম্বে খালেদা জিয়ার বিদেশে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এদিকে একই দাবিতে আগামী সোমবার রাজধানীসহ সারা দেশের জেলা, মহানগর এবং উপজেলায় সমাবেশ করবে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে আমাদের মুক্ত করতে হবে। এর জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত আমরা। তাই আসুন আজকে আমরা দুই হাত তুলে শপথ গ্রহণ করি- বেগম জিয়ার মুক্তি এবং বিদেশে সুচিকিৎসার দাবি আদায় না করা পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাবো না।মির্জা ফখরুল বলেন, এই অবৈধ সরকার বেগম জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটকে রেখেছে।তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছেন। আমরা দেশে এবং বিদেশের ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা আমাদেরকে বলেছেন, এদেশে বেগম জিয়ার চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তার এমন কিছু জটিলতা রয়েছে যেগুলোর জন্য বিদেশে এডভান্স ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছিল তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেয়ার জন্য কিন্তু সরকার তা দেয়নি। আমরা পরিষ্কার বলতে চাই- বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে অনতিবিলম্বে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। তা না হলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এই অবৈধ সরকারকে গদিচ্যুত করা হবে।গণঅনশনে অংশ নিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম রব বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করতে দিচ্ছে না সরকার। অথচ জেলখানায় ফাঁসির আসামিকে বিয়ে পড়ানো হয়। খালেদা জিয়ার মুক্তি দিচ্ছেন না, সুচিকিৎসা করছেন না। ফাজলামির একটা সীমা আছে। আওয়ামী লীগ সারা জীবন ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।

রব বলেন, সরকার আইনের দোহাই দেখাচ্ছেন। সরকার চাইলে পারে না এমন কোন কাজ নেই। আসলে খালেদা জিয়াকে তারা চিকিৎসা করাবে না, কারণ সরকার খালেদা জিয়াকে ভয় পায়। অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। আর যদি তা না করেন তাহলে এই সরকারকে চরম মাশুল দিতে হবে।নাগরিক ঐক্যর আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ গুরুতর অসুস্থ। সরকার তার উন্নত চিকিৎসায় বিদেশ যেতে দিচ্ছে না। এত নিষ্ঠুর সরকার হতে পারে ভাবতে পারছি না। আমি বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে বলতে চাই, আমি ও আমার দল নাগরিক ঐক্য বিএনপির ন্যায়সঙ্গত যেকোনো আন্দোলনে আছে, থাকবে।বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক বলেন, আপনারা (সরকার) যদি বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা করতে দেন বাংলাদেশের রাজনীতি এক দিকে যাবে। আর যদি চিকিৎসা করতে না দেন তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতি আরেক দিকে যাবে। আর যদি অন্যদিকে যায় আপনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। পৃথিবীর বুকে আপনার যতো বন্ধুই থাকুক তাদের কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।

জামায়াতের নেতা আব্দুল হালিম বলেন, খালেদা জিয়া শুধু বিএনপি চেয়ারপারসন নয়, তিনি দেশের জনগণের নন্দিত নেত্রী। তিনি কোনো সাধারণ নাগরিক নন। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, এ নেত্রীকে যেন তিনি সুস্থতা দান করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন।শনিবার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকা থেকে বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা যোগ দেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে নয়াপল্টন এলাকায় জন সমুদ্রে পরিণত হয়। এ সময় নয়াপল্টন ও এর আশে পাশের এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। অনশনে উপস্থিত নেতাকর্মীরা অনতিবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে নিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান। কর্মসূচিকে ঘিরে কাকরাইল মোড়, নাইটেঙ্গেল মোড়, নয়াপল্টন এবং ফকিরাপুল এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এ সময় রাস্তায় বিভিন্নজনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তল্লাশি করতে দেখা যায়। বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর পরিচালনায় গণঅনশনে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ।

এছাড়া আরও বক্তব্য দেন- পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, এলডিপির একাংশের মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, এলডিপির অপর অংশের মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাগপার একাংশের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব প্রফেসর আব্দুল করিম, ন্যাপ ভাসানীর নেতা অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. ওবায়দুল ইসলাম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন প্রমুখ।

1