আওয়ামী লীগের সামনে দুই চ্যালেঞ্জ

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকমঃ   ২০২২ সালকে চ্যালেঞ্জের বছর বলে মনে করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে দু’টি চ্যালেঞ্জকে সবচেয়ে বড় হিসেবে দেখছে দলটি। এগুলো হচ্ছে-সাংগঠনিক তৎপরতা ও রাজনীতির মাঠে প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করা। ২০২৩ সাল পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের বছর। তাই নির্বাচনের আগের বছর হিসেবে ২০২২ আওয়ামী লীগের জন্য নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। টানা ক্ষমতায় থাকার কারণে সাংগঠনিক চেইন অব কমান্ড অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর কারণ হিসেবে দলের নেতৃত্বে হাইব্রিড নেতাদের অনুপ্রবেশ বলে মনে করা হচ্ছে। এটাকে কেন্দ্র করে দলের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভেদ, গ্রুপিং আর নিজস্ব বলয়।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা জানান, চলতি বছর সাংগঠনিকভাবে দলকে অনেক শক্তিশালী করাই হচ্ছে আমাদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। কারণ সামনে নির্বাচন। এখন রাজনীতির মাঠ বলতে গেলে সবসময় উত্তপ্ত থাকবে। বিরোধী শক্তিরা নির্বাচনকেন্দ্রিক নানা তৎপরতা চালাবে। ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনও তারা গড়ে তুলতে পারে। আর এসবের লক্ষ্য থাকবে সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামানো। আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, সাংগঠনিকভাবে দল শক্তিশালী না থাকলে এসব মোকাবিলা করা যাবে না। এজন্য দলের নেতাদের সুর্নিদিষ্ট দায়িত্ব দেয়া হবে। তারা দেশব্যপী সাংগঠনিক সফর করে দলের নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করবেন। বিভেদ মেটাবেন। পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে দলের সভাপতি শেখ হাসিনাও দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় সমাবেশে উপস্থিত হবেন। আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আগাম নির্বাচন বা সরকার হঠানোর আন্দোলনে নামলে তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে। সে প্রস্তুতিও থাকবে আমাদের। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ হচ্ছে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল। ২০২২ সালেও এই সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখাটাই হবে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক, জঙ্গিবাদী, উগ্র ধর্মান্ধ শক্তির উত্থান রোধ করাটাও বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জতো সবসময় রয়েছে। ২০২২ সালকেও আমরা চ্যালেঞ্জের বছর হিসেবে ধরে নিয়ে সফলতার দিকে অগ্রসর হবো। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা বলেন, দল ও সরকার আলাদা করা গেলে দুটিই গতিশীল হবে। তাই নতুন বছরে দলকে সুসংহত করার ওপর জোর দিচ্ছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তারা জানান, নতুন বছরের শুরু থেকেই বিভিন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক অ্যাকশনে যাবে আওয়ামী লীগ। সারা দেশে এ তালিকা ৩ শতাধিক। প্রথমে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য তাদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হবে। পরে নেয়া হবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। শাস্তির মধ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দুই রকমই রয়েছে। প্রত্যক্ষ শাস্তির মধ্যে আছে-দল থেকে অথবা পদ থেকে সাময়িক বা স্থায়ী বহিষ্কার। পরোক্ষ শাস্তি হিসেবে রয়েছে-এমপি পদ থেকে শুরু করে যেকোনো নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না দেয়া। মূলত তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত করতেই এ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে দলটি। কেন্দ্রীয় কয়েক নেতা জানান, প্রায় ৩০০ জন নেতার বিরুদ্ধে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে সরাসরি কাজ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সহযোগী সংগঠনের আরও শতাধিক নেতার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া শতাধিক এমপি-মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। সবমিলিয়ে ২০২২ সালে দল হিসেবে নিজেদের সব ধরনের বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার চেষ্টা করবে বলে জানান দলটির শীর্ষ নেতারা। পাশাপাশি রাজনৈতিক মাঠে নিজেদের শক্তিমত্তাও ধরে রাখতে চান তারা। এদিকে আওয়ামী লীগ জানিয়েছে, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দলটির ৫০ হাজারের বেশি কমিটি আছে। তাতে পদের সংখ্যা ২৫ লাখের বেশি। এর মধ্যে ৬৪টি জেলা ও ১২টি সিটি করপোরেশনসহ মোট সাংগঠনিক জেলা কমিটি ৭৮টি। এসব জেলার আওতায় ৬২২টি উপজেলা কমিটি, ৫ হাজার ৬৪৩টি ইউনিয়ন কমিটি ও ৪৩ হাজার ৫৯৬টি ওয়ার্ড কমিটি রয়েছে। আওয়ামী লীগের মূল দলের বাইরে ৮টি সহযোগী ও দু’টি ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনেরও তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত কমিটি আছে সারা দেশে। এতেও লাখো নেতাকর্মী দলীয় পদ পান। বিদেশেও প্রবাসীদের নিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি রয়েছে। এর বাইরে পেশাজীবী ও বিভিন্ন খাতে আওয়ামী লীগের সমমনা হিসেবে আরও অনেক সংগঠন আছে। এসব সংগঠনের নেতাকর্মীরাও সরকারি দলের পরিচয় ব্যবহার করেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের অনুসারী হিসেবে এসব কমিটিতে ঢুকে পড়েন অনেকে। অনেক কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকে। তারা নিজ নিজ পক্ষের শক্তি বাড়াতে অনেক সময় বিতর্কিত ব্যক্তিদের দলে টানেন। আবার টাকার বিনিময়ে দলীয় পদ দেয়ার অভিযোগও উঠেছে বিভিন্ন সময়। নতুন বছরে এ ধরনের অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগ নিজেদের মুক্ত রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে শীর্ষ নেতারা জানান।

1