আমেরিকা নিপাত যাক- স্লোগানে মুখরিত বাগদাদ

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকমঃ   আমেরিকা নিপাত যাক স্লোগানে মুখরিত হলো ইরাকের রাজধানী বাগদাদ। ইরানের শীর্ষ কমান্ডার ও কুদস বাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও তার এক লেফটেন্যান্টকে হত্যার দ্বিতীয় বার্ষিকীতে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। সেই বিক্ষোভ থেকে ওই স্লোগান দেয়া হয়েছে। ২০২০ সালের ৩রা জানুয়ারি ইরাকের বিমানবন্দরের কাছেই এক ড্রোন হামলায় কাসেম সোলায়মানিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র।

তার স্মরণে ওই বিক্ষোভে যোগ দিয়ে মার্কিন বিরোধী স্লোগান দেন সাধারণ ইরাকিরা। ইরান সমর্থিত হাশেদ গ্রুপের সমর্থনে এই র‌্যালি হচ্ছে। হাশেদ গ্রুপ আবার পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) নামেও পরিচিত। বিক্ষোভে ‘যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসের ইতি হতে হবে’ লেখা ব্যানারে দেখা যায়।
আরেকটি প্লাকার্ডে লেখা- শহীদদের এই ভূমিতে আজকের পর আর তোমাদের থাকতে দিতে পারি না। এ সময় তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পতাকা মাটিতে বিছিয়ে তা পদদলিত করে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

রাজধানী বাগদাদ থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক মাহমুদ আবদেল ওয়াহেদ বলেছেন, এই র‌্যালিকে বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও বিদেশি সব সেনাদের ইরাক থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রত্যাহারের দাবি জানানোর একটি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি আরো বলেন, এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এর মধ্যে আছেন ইরাকের পিএমএফের সদস্যরাও। তারা ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার সেনাদের উপস্থিতির বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। বিক্ষোভকারীরা ইরাক সরকারকে দায়ী করে বলছেন, মার্কিন সেনাদের সঙ্গে সহযোগিতা করছে সরকার। একই সঙ্গে জেনারেল কাসেম সোলায়মানি ও আবু মাহদি আল মুহান্দিসকে হত্যার দু’বছর পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোনো পরিষ্কার বা স্বচ্ছ তদন্ত করা হয়নি।

ওদিকে ইরানের শিয়া সম্প্রদায়ের সমর্থনকারীরা ইরাকের বিভিন্ন অংশ থেকে গিয়ে জাদরিয়া শহরের র‌্যালিতে অংশ নিয়েছে। সেখানেই শক্তিধর এই গ্রুপগুলোর প্রধান কার্যালয়।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ২০২০ সালের ৩রা জানুয়ারি বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে কাশেম সোলায়মানি ও তার ডেপুটি আবু মাহদি আল মুহান্দিসকে হত্যা করে মার্কিন সেনারা। এরপরই ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে একটানা হামলার জবাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। ইরানের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সামরিক কৌশল নির্ধারণের মূলে ছিলেন কাশেম সোলায়মানি। তাকে ও তার ডেপুটিকে হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এক শোকের আবহ ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যে, কয়েক দশকের শত্রু তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী। এর মাত্র কয়েক দিন পরে ইরাকের পার্লামেন্ট একটি বিল পাস করে। তাতে ইরাক থেকে সব সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। তবে এই আহ্বান বাধ্যতামূলক নয়।

পক্ষান্তরে সোলায়মানি হত্যার বদলা নেয়ার হুমকি দেয় ইরান। এরই মধ্যে তারা প্রতিবেশী ইরাকের ওপর চোখে পড়ার মতো প্রভাব সৃষ্টি করেছে। সোলায়মানিকে হত্যার ৫ দিন পরে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে ইরান। আরেকটি হামলা হয় উত্তরে ইরবিলের কাছে। তখন থেকেই ইরাকজুড়ে পশ্চিমা নিরাপত্তা, সামরিক এবং কূটনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে কয়েক ডজন রকেট হামলা চালানো হয়েছে। রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এসব হামলার জন্য ইরাকি ও পশ্চিমা কর্মকর্তারা ইরানপন্থি অংশগুলোকে দায়ি করেছে। তবে হামলার দায় এ যাবত কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি।

গত বছর ফেব্রুয়ারিতে ইরাক-সিরিয়া সীমান্তে ইরান সমর্থিত ইরাকি আধাসামরিক বাহিনী খতিব হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আকাশপথে অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে বাগদাদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও রাজধানীর উত্তরে সামরিক ঘাঁটিতে রকেট হামলা করেছিল খতিব হিজবুল্লাহ।

ইরাক থেকে বার বার যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের প্রত্যাহার দাবি করে আসছে হাশেদ গ্রুপ। ইরাকে আইসিসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বহুজাতিক জোটের অংশ হিসেবে এখনও কিছু মার্কিন সেনা সেখানে রয়ে গেছে। তাদের প্রত্যাহার দাবি করে শনিবার হাশেদের সিনিয়র কর্মকর্তা ফালেহ আল ফায়েদ বলেছেন, কাশেম সোলায়মানি ও আল মুহান্দিসকে হত্যা হলো ইরাকের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ক্রাইম।

ডিসেম্বরে আইএসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে জোটের লড়াই শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা দেয় ইরাক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৫০০ এবং অন্য দেশগুলোর প্রায় ১০০০ সেনা ইরাকে থেকে যাবে। তারা ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সহায়তা করবে।

1