নতুন বই হাতে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকমঃ    করোনার প্রকোপে এবারো হয়নি বই উৎসব। তবে সময়মতো শিক্ষার্থীরা শুঁকতে পারছেন নতুন বইয়ের গন্ধ। শিক্ষার্থীরা স্কুলে গেছেন খালি হাতে, ফিরেছেন নতুন বই হাতে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে দু’বার হলো না বই উৎসব। বিশেষজ্ঞদের মতে দেশে শিক্ষায় যতটুকু অবদান তার মধ্যে অন্যতম বছরের প্রথম সকালে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া। তবে প্রথম দিনে সবার হাতে মেলেনি নতুন বই। সংক্রমণের রশি টেনে ধরতে ভিন্ন ভিন্ন দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হবে নতুন বই। ভিড় এড়াতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস রুমে বই তুলে দেয়া হয়।এবছর ২০২২ সালে মোট ৪ কোটি ১৭ লাখ ২৬ হাজার ৮৫৬ শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেয়া হবে ৩৪ কোটি ৭০ লাখ ২২ হাজার ১৩০টি বই।
তবে মাধ্যমিক শ্রেণির কিছু সংখ্যক বই ছাপা না হওয়ায় কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে তাদের। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) তথ্যমতে মাধ্যমিকের ২৫ কোটি বইয়ের মধ্যে ছাপা হয়েছে ২২ কোটি বই। নির্দেশনা অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ১ থেকে ৩রা জানুয়ারি, সপ্তম শ্রেণিতে ৪ থেকে ৬ই জানুয়ারি, অষ্টম শ্রেণিতে ৮ থেকে ১০ই জানুয়ারি এবং নবম শ্রেণিতে ১১ থেকে ১৩ই জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া হবে।
আরও জানা যায়, ২০২২ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক স্তরে ৯ কোটি ৩০ লাখ ৩৪ হাজার ৩০টি, প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ৬৬ লাখ ৫ হাজার ৪৮০টি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৬৪ টিসহ মোট ৯ কোটি ৯৮ লাখ ৫৮ হাজার ৮৭৪টি বই শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হবে। প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যপুস্তক-পঠন-পাঠন সামগ্রীর মধ্যে আমার বই এবং অনুশীলন খাতা বিতরণ করা হবে যথাক্রমে ৩৩ লাখ ২ হাজার ৭৪০টি।
অন্যদিকে জেলা-উপজেলা ও থানার জন্য ৫১২টি উপজেলা ও থানায় বাংলা ভার্সনে এবং ৫৬টি জেলায় ইংরেজি ভার্সনের বই দেয়া হবে। প্রথম শ্রেণিতে মোট ১ কোটি ২৪৯৬ হাজার ৪৯৪টি বইয়ের মধ্যে বাংলা ভার্সনে ৫১২টি উপজেলা ও থানায় ১ কোটি ২৩ লাখ ৭৬ হাজার ৫৯৯টি, ইংরেজি ভার্সনে ৫৬টি জেলায় ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৯৫টি বই বিতরণ করা হবে। দ্বিতীয় শ্রেণিতে মোট ১ কোটি ২১ লাখ ৪৩ হাজার ৩০৯টির মধ্যে বাংলা ভার্সনে ১ কোটি ২০ লাখ ২৩ হাজার ৭৮০ এবং ইংরেজি ভার্সনে ১ লাখ ১৯ হাজার ৫২৯টি। তৃতীয় শ্রেণিতে মোট ২ কোটি ৩৬ লাখ ৫ হাজার ১৮৬টির মধ্যে বাংলা ভার্সনে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৯৯ হাজার ৩৪৮টি এবং ইংরেজি ভার্সনে ২ লাখ ৫ হাজার ৮৩৮টি। চতুর্থ শ্রেণিতে মোট ২ কোটি ২৯ লাখ ৪৫ হাজার ৯৯৭টি বইয়ের মধ্যে বাংলা ভার্সনে ২ কোটি ২৭ লাখ ৫৮ হাজার ৭৬৭টি এবং ইংরেজি ভার্সনে ১ লাখ ৮৭ হাজার ২৩০টি বই বিতরণ করা হবে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ২ কোটি ১০ লাখ ২৪ হাজার ৫২৩টির মধ্যে বাংলা ভার্সনে ২ কোটি ৮ লাখ ৬০ হাজার ১৯৩টি এবং ইংরেজি ভার্সনে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৩৩০টি।
এ ছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের জন্য নিজস্ব বর্ণমালা সংবলিত মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির পঠন-পাঠন সামগ্রী এবং প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই প্রণয়ন এবং সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২২ শিক্ষাবর্ষে ৫টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও সাদরী) শিশুদের মাঝে প্রাক-প্রাথমিক এবং প্রাথমিক পর্যায়ে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হচ্ছে। এই বই দেয়া হবে বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, শেরপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, নওগাঁ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, চাঁদপুর, ফেনী, কক্সবাজার, সুনামগঞ্জ ও চাঁপাই নবাবগঞ্জে।
রাজধানীর কামরুন্নেসা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দেখা যায়, ক্লাসে ক্লাসে বিতরণ করা হচ্ছে নতুন বই। বই একত্রে নিয়ে শ্রেণি শিক্ষক বিতরণ করছেন নতুন বই। নেই কোনো জটলা। তবে নতুন বইয়ের উচ্ছ্বাসে উদ্বেলিত শিক্ষার্থীরা। বইমেলার পরই তারা পাতা উল্টাতে শুরু করেন।
ষষ্ঠ শ্রেণির একটি ক্লাসে দেখা যায়, শিক্ষক বই তুলে দিচ্ছেন লাল ফিতা মুড়িয়ে। বই পাবার পরই বইয়ের নাম ও নতুন অধ্যায় কি আছে, না আছে তা দেখতে শুরু করেন তারা। বিশেষ করে গল্প ও কবিতা নিয়ে আগ্রহ বেশি এই শিক্ষার্থীদের।
গোটা দেশ জুড়েই হয়েছে বই উৎসব। রাজধানীর বাইরেও উচ্ছ্বাস, আনন্দে নতুন বই গ্রহণ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের ফেসবুক ওয়ালে দিয়েছেন বিতরণের ছবি। রংপুর জেলার পীরগঞ্জের বড়দরগা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. হাসান লাবলু তার ফেসবুক ওয়ালে লেখেন, শিক্ষার্র্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়ার সময় মনে হচ্ছিল আমিই যেন বই পাচ্ছি।
নীলফামারীর জলঢাকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইমুম জান্নাত বলেন, আমি নানা বাড়ি ছিলাম। আম্মু আরও দুইদিন থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু শুরুতেই বই দেবে শুনে রাতেই চলে আসছি। বই পেয়ে অনেক খুশি লাগছে।
আফ্রাদ রহমান টাঙ্গাইল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। তার মা ছেলের বই হাতে ছবি ফেসবুকে দিয়ে লেখেন ‘আফ্রাদ বই আমাকে ছুঁতে পর্যন্ত দিচ্ছে না। আফ্রাদ বলে, নতুন বইয়ে অন্য মানুষ হাত দিলে দাগ হয়। নতুন বই পুরাতন হলে তারপর সবাইকে ধরতে দেবো।’
শিক্ষক শিউলি জান্নাত গাইবান্ধা জেলার পীরেরহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি বলেন, ‘আমার ছোট মেয়েটাও আজ স্কুলে বই পেয়েছে। বাড়িতে এসে মেয়ে বই দেখিয়ে যা খুশি হয়েছে মনে হচ্ছে যেন আমিই বই পেয়েছি।’

1