গেইল-সাকিবদের হারিয়ে ঢাকার প্রথম জয়

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকমঃ   ক্রিস গেইল, সাকিব আল হাসান, ডোয়াইন ব্রেভোদের বিপক্ষে যেকোনো দলের জয় কঠিন। দুই ম্যাচ হারের পর আত্মবিশ্বাস যখন তলানিতে থাকে তখন জয়ে ফেরা আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তবে প্রতিকূলতা কাটিয়ে মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা প্রথম জয়ের দেখা পেলো বিপিএল’র ৮ম আসরে। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ফরচুন বরিশালকে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের দল হারায় ৪ উইকেটের ব্যবধানে।১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অবশ্য জয় সহজেই আসেনি। ঢাকা ১০ রানেই হারিয়েছিল ৪ উইকেট। সেখান থেকে দলের অধিনায়ক সামনে থেকে ব্যাট হাতে রুখে দাঁড়ান। ৪৭ রানের ধৈর্য্যশীল ইনিংসে দলকে জয়ের পথ দেখান।শেষ দিকে শুভাগত হোমের ২৯ ও ক্যারিবিয়ান তারকা আন্দ্রে রাসেলের ১৫ বলে ৩০ রানের ঝড় ১৫ বল হাতে রেখে মাহমুদুল্লাহর দলকে এনে দেয় দারুণ এক জয়। বিপিএলে মিরপুর মাঠের উইকেটে দিনের প্রথম ম্যাচে ব্যাটসম্যানরা ভুগছেন রান খরায়। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ১২৯/৮-এ থামে সাকিবের দল। ৩০ বলে ৩৬ রান করেন গেইল। হাত খুলে মারার আগেই তাকে বিদায় করেন ইসুুরু উদানা। তা না হলে ম্যাচের চিত্র অন্যরকমই হতো! এই ম্যাচেও খেলতে পারেননি ঢাকার তারকা মাশরাফি বিন মুর্তজা। ব্যথা কমলেও তাকে এখনো পর্যবেক্ষণে রেখেছে দল। গতকালও তিনি অনুশীলনে চার ওভার বল করেছেন। শোনা যাচ্ছে ঢাকায় না হলেও চট্টগ্রাম পর্বে মাঠে দেখা যেতে পারে ম্যাশকে! এদিন ব্যাট হাতে ব্যর্থ ছিলেন ঢাকার হয়ে টানা দুই ফিফটি হাঁকানো তামিম ইকবাল। ঢাকাকে প্রথম জয় এনে দিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ব্যাট হাতে ৩ চার ১ জয়ে ৪৭ বলের ইনিংস খেলেন তিনি। বল হাতে ৩১ রান দিয়ে নিয়েছেন একটি উইকেটও। টসে হেরে ব্যাট করতে নামা বরিশালের ব্যাটিংও খুব বাজে ছিল। দলের পক্ষে অধিনায়ক সাকিবের ব্যাট থেকে আসে তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৩ রানের ইনিংস। বরিশালের দুই ওপেনার সৈকত আলী ও নাজমুল হোসেন শান্ত শুরু করেন সাবধানী। তবে তাদের ২১ রানের জুটি শেষ হাত খুলে মারতে গিয়ে। ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে শুভাগতকে উড়িয়ে মারার চেষ্টায় ভারসাম্য হারান শান্ত। লং অফে ধরা পড়েন মোহাম্মদ নঈম শেখ হাতে। ১৩ রানে তামিমের হাতে ক্যাচ তুলেও জীবন পাওয়া সৈকত আলীও টিকেননি বেশিক্ষণ। ১৮ রানে তাকে ফেরান আসরে প্রথম খেলতে নামা হাসান মুরাদ। পঞ্চম ওভারে যখন আন্দ্রে রাসেল এলবিডব্লিউ করে দিলেন তৌহিদ হৃদয়কে, বরিশালের রান তখন ৩ উইকেটে ২৩। শুরুর ধাক্কার পর বরিশালকে এগিয়ে নেন গেইল-সাকিব জুটি। ১৯ বলে ২৩ রান করা সাকিবকে ফিরিয়ে ৩৭ রানের এই জুটি থামান রুবেল হোসেন। এরপর কোভিড নেগেটিভ হয়ে মাঠে ফেরা নুরুল হাসান সোহান বিলিয়ে আসেন উইকেট। থিতু হয়েও ইনিংসটিকে বড় করতে পারেননি গেইল, শিকার হন উদানার। ৩০ বলে ৩৬ রানের ইনিংসে ৩টি চারের সঙ্গে দুটি ছয়ের মার। উদানা ওই ওভারে ফেরান জিয়াউর রহমানকেও। এরপর দলকে টানেন ডোয়াইন ব্রাভো। ৩ চার ও ১ ছক্কায় তার ২৬ বলে ৩৩ রানের ইনিংসেই ১৩০ রানের কাছাকাছি যেতে পারে বরিশাল। জবাব দিতে নেমে ১০ রান তুলতেই সাজঘরে ফেরেন ৪ ব্যাটার। তামিম ইকবাল। (০), নাইম শেখ ৪, জহরুল ইসলাম ০ ও মোহাম্মদ শেহজাদ ৫ রান করে আউট হন। সেখান থেকে মিনিস্টার ঢাকাকে টেনে তুলেন মাহমুদুল্লাহ-শুভাগত। পঞ্চম উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৬৯ রান। ২৫ রানে ২৯ রান করা শুভাগতকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। শেষ ৬ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ৪৭ রান। আলজারি জোসেফের করা ১৫তম ওভারেই ১৯ রান নেন আন্দ্রে রাসেল ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। শেষ দিকে ঢাকার জয়ের পথটা আর সহজ করেন রাসেল। তাইজুলের করা ১৭তম ওভারে তুলেন ১৬ রান। ১৮তম ওভারের প্রথম বলেই সাকিবকে দারুণ এক ছক্কা হাঁকান রিয়াদ। অবশ্য ফিরেছেন পরের বলেই। আউট হন সেঞ্চুরি থেকে ৭ রান দূরে থাকতে। তবে রাসেল আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি, দলকে ১৫ বল আগেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। ৩ চারের সঙ্গে ছক্কা হাঁকান ২টি।

1