ক্ষমতাসীনরা ইষ্ট ইন্ডিয়া কো¤পানীর মত বাংলাদেশটাকে একটা লুটের বাজারে পরিণত করেছে– শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদ

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকমঃ  শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ক্ষমতাসীনরা ইষ্ট ইন্ডিয়া কো¤পানীর মত বাংলাদেশটাকে একটা লুটের বাজারে পরিণত করেছে। করোনার অতিমারীতে শ্রমিক-কৃষকসহ যে উৎপাদক শ্রেণী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উৎপাদনের চাকা সচল রেখেছেন তাঁরা রাষ্ট্রের সহযোগিতার বদলে পেয়েছেন তিরষ্কার। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বদলে সরকার রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলসমূহ বন্ধ ও চিনিকলগুলো বন্ধকরে বেকারত্ব বাড়িয়ে তুলছেন। দ্রব্যমূল্যের ভয়াবহ উর্ধ্বর্গতি আর জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয়বৃদ্ধির কারণে গ্রাম-শহরের শ্রমিক-মেহনতিদের প্রকৃত আয় কমে গেছে। বর্তমান বেতনে শ্রমিকদের ১৫ দিন চলাই কঠিন। কেবল গত দুই বছরেই চার কোটি মানুষ নতুন করে দারিদ্রসীমার নীচে নেমে এসেছে; উল্টোদিকে এই একই সময়ে ২০ হাজার নতুন কোটিপতির জন্ম হয়েছে।

শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ‘মহান মে দিবসের তাৎপর্য ও শ্রমিকশ্রেণীর মুক্তির লড়াই’ শীর্ষক আলোচনা সভাতে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

তোপখানাস্থ বাসদ(মার্কসবাদী) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভাতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, শ্রমিক আন্দোলনকে দুর্বল ও বিভক্ত রাখতে সরকার মালিকদের মদদে অসংখ্য দালাল আর সুবিধাবাদী শ্রমিক সংগঠন সৃষ্টি করেছে জন্ম দিয়েছে কথিত শ্রমিক নেতাদের। তার উপরে নানা রকম চাপ, হুমকি, চাকুরীচ্যুতি, দমন-নিপীড়নের মাধ্যমে সরকার ও মালিকপক্ষ শ্রমিকদেরকে সংগঠিত হতে দেয় না। ট্রেড ইউনিয়নসহ শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার নেই। শ্রমিকদের বাঁচার ন্যায্য আন্দোলনকে তারা ষড়যন্ত্র হিসাবে আখ্যায়িত করে কথায় কথায় শ্রমিকদের চাকুরীচ্যুৎ করছে। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দি পরও শ্রমিকশ্রেণীসহ শ্রমজীবী মেহনতি পরিবারসমূহের উপযুক্ত চিকিৎসা, শিক্ষা, বাসস্থান নিশ্চিত হয়নি; শ্রমিক পরিবারসমূহের জন্য দুর্মূল্যের বাজারে রেশনের ব্যবস্থা নেই, নেই মহার্ঘ্য ভাতা, ঝুঁকি ভাতা। আসলে মালিকশ্রেণী ও সরকার শ্রমিকদের উৎপাদন যন্ত্রের বেশী কিছু মনে করে না।

শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক এ.এ.এম ফয়েজ হোসেন এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভাতে বক্তব্য রাখেন শ্রমিকনেতা জহিরুল ইসলাম, আবু হাসান টিপু, হারুন অর রশীদ, বিধান দাস, আবদুল আলী, আলিফ দেওয়ান, শবনম হাফিজ, রাজু আহমেদ, মাস্টার মোখলেছুর রহমান প্রমূখ।

1