সেঞ্চুরিতে পথ দেখানো তামিমকে নিয়ে শঙ্কা নেই

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকমঃ   ৩ বছর ২ মাস আগে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে সর্বশেষ টেস্ট সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম ইকবাল। এরপর ৮ ইনিংসে দুইবার সেঞ্চুরির কাছে গিয়েও ৯০ এর ঘরে আউট হয়েছেন। তবে গতকাল আর ভুল করেননি। ৬৬ ম্যাচের ক্যারিয়ারে ১০ম শতকের দেখা পেয়েছেন। তাও নিজের শহর চট্টগ্রামে। সাগরিকা স্টেডিয়ামে তার সবশেষ সেঞ্চুরিটি ছিল ৭ বছর ৬ মাস পাঁচ দিন আগে। ২০১৪ তে ১০৯ রানের ইনিংসটি খেলেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগের খেলা ১২ ম্যাচে ৭ ফিফটি থাকলেও এইবারই প্রথম দেখা পেলেন সেঞ্চুরির।

তরুণ ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়কে নিয়ে ৭৬ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করেন তামিম। শেষ পর্যন্ত দেশের হয়ে চতুর্থ সর্বোচ্চ ১৬২ রানের ওপেনিং জুটি গড়ে থামেন দু’জন। কিন্তু ব্যক্তিগত ১৩৩ রানের সময় চা বিরতিতে গিয়ে আর মাঠে ফিরতে পারেননি

মাংসপেশিতে টান লেগে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে থেকে গেছেন সাজঘরে। তবে তাকে নিয়ে শঙ্কা নেই বলে দৈনিক মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছেন জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। তিনি বলেন, ‘তামিম ভালো আছেন। ওকে নিয়ে কোন শঙ্কা নেই।’
তামিমের শতকের পর হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন মুশফিকুর রহীম ও লিটন দাস। তাদের কল্যাণে চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিন দারুণ কেটেছে বাংলাদেশের। টেস্ট ক্রিকেটের তৃতীয় দিন এতটা ভালো কাটানোর রেকর্ড কমই আছে। তামিম রিটায়ার্ড হার্ট হওয়ার আগে করেছেন ১৩৩ রান। ৫৮ রানের অবদান মাহমুদুল হাসান জয়ের। মুশফিক ও লিটনের যথাক্রমে অপরাজিত ৫৩ ও ৫৪ রানে। ৩ উইকেটে টাইগারদের স্কোরবোর্ডে ৩১৮ রান। তবে লঙ্কানদের চেয়ে স্বাগতিকরা পিছিয়ে আরও ৭৯ রানে।
দিনের দ্বিতীয় ওভারেই বিশ্ব ফার্নান্দোকে চার দিয়ে শুরু করেন তামিম। ইনিংসের ২৪তম ওভারে রমেশ মেন্ডিসকে কাট শটে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৭৩ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। ২৫তম ওভারে তামিম-জয়ের উদ্বোধনী জুটি পেরোয় ১০০ রান। ৬১ ইনিংস পর বাংলাদেশ ওপেনিং জুটিতে পেয়েছে শতরান। যে পথে তামিমের মতো ছন্দে ছিলেন জয়ও। আসিথা ফার্নান্দোর করা ইনিংসের ৩৭তম ওভারে সিঙ্গেল নিয়ে ১১০ বলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি পূর্ণ করেন জয়।

১৪০ রানে জুটি ভাঙার সুবর্ণ সুযোগ পায় শ্রীলঙ্কা। আসিথা ফার্নান্দোর করা ৩৯তম ওভারের তৃতীয় বলে ফাইন লেগে জয়ের সহজ ক্যাচ ছাড়েন লাসিথ এম্বুলদেনিয়া। তখন ৫১ রানে ব্যাট করছিলেন এই ডানহাতি। রমেশ মেন্ডিসের করা ৪৪তম ওভারে সুযোগ দেন তামিম, ব্যক্তিগত ৮৭ রানে স্লিপে দেয়া ক্যাচ অবশ্য সহজ ছিল না ফিল্ডারের জন্য। বিনা উইকেটে ১৫৭ রানে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। তামিম ১৫২ বলে ৮৯ ও জয় ১৩৪ বলে ৫৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো ১৫০ পেরোনো শত রানের উদ্বোধনী জুটি পেলো টাইগাররা। কিন্ত লাঞ্চ থেকে ফেরার পর দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরে ফেরেন জয়। ১৪২ বলে ৯ চারে ৫৮ রান করা জয় আসিথা ফার্নান্দোর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন।

জয় ফিরলেও নিজের ১০ম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলতে ভুল করেননি তামিম। আসিথা ফার্নান্দোর করা ৫১তম ওভারের প্রথম বলে চার মেরে পৌঁছান ৯৯-এ। পরের বলেই ফ্লিক করে ডিপ মিড উইকেটে বল ঠেলে পূর্ণ করেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার। এরপর ৩৩ রান যোগ করে মাসংপেশীতে টান লাগায় ফিরে গেছেন। তবে দলের ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্সেরও জোর দাবি তামিম আবার ব্যাট করতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘দুই দিন মাঠে থাকার পর যে ব্যাটিংটা সে করেছে, রানিং বিটুইন দ্য উইকেট করতে হয়েছে এই গরমের মধ্যে। এমন অবস্থায় শক্তি ধরে রাখা কঠিন। আপনারাও যদি এসি রুম ছেড়ে মাঠে যান বুঝতে পারবেন কতটা গরম ও আপনাকে কীভাবে ডিহাইড্রেট করে দেয়। ওর ক্র্যাম্পের বিষয়টা আমি বুঝেছি। তবে আমার বিশ্বাস সে কাল (আজ) ঝরঝরে হয়েই নামবে। সঠিক পরিমাণে খাবার ও পানি খেলে অবশ্যই সে ঠিক হয়ে যাবে।’

1