ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ইস্যুতে বিএনপি’র আলোচনা শুরু

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকমঃ   দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপ শুরু করেছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে এ সংলাপ শুরু হয়। নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে এর সূচনা করে বিএনপি। দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা বৈঠকে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির তিন সদস্যের প্রতিনিধি অংশ নেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আপনাদের আমি দুপুরের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বলেছি যে, আমরা গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করার জন্য, দেশের মানুষের যে অধিকারগুলো হারিয়ে গেছে তাদের ভোটের অধিকার, বেঁচে থাকার অধিকার, কাজের বিচার পাওয়ার অধিকার, ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার, তাদের কল্যাণের অধিকার আজকের এই ফ্যাসিস্ট সরকার অধিকারগুলো হরণ করেছে এই বিষয়গুলোকে ফিরে পাওয়ার জন্য তাদেরকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থে জনগণের একটি সরকার গঠন করার জন্য বৃহত্তর আন্দোলনের কথা ভেবে ইতিপূর্বে অনানুষ্ঠানিকভাবে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি যৌক্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য এখন আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছি।
তিনি বলেন, আজকে দেশের মানুষ আশা করে আছে যে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তারা একটা ঐক্যের মধ্যে এই সরকারের বিরুদ্ধে একটা সফল কার্যকরী আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হবে এবং সেই আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে পরিবর্তন হবে সেই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে জনগণের সরকার এবং পার্লামেন্ট গঠন হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা কথা বলেছি। আমরা এখনো কথা বলছি অন্য দলগুলোর সঙ্গে কথা বলবো। অতি দ্রুত তাদের সঙ্গে কথা আলোচনা শেষ করে আমরা আশা করছি একটা যৌথভাবে আন্দোলনের সূচনা করতে পারবো। এবং আশা করি খুব শিগগিরই আমরা এই কাজটা করতে পারবো।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছি তার মূল বিষয় হচ্ছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার। প্রধান বিষয় একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন সময়ে একটা সরকার নিরপেক্ষ হবে। আলোচনা করেছি, তারপরের নির্বাচন কমিশন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল দলগুলোকে নিয়ে একটি মতামতের ভিত্তিতে সরকার গঠন করা

আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইতিমধ্যে বলেছেন যে, একটা জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। আরেকটি প্রধান বিষয় পক্ষ থেকে যা আছে তাতে উনিও (মান্না) একমত হয়েছেন, তিনি বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে আটক করে রাখা হয়েছে। তার মুক্তি শুধু আমরা নই দেশের বেশির ভাগ মানুষ চাই। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর যে মিথ্যা মামলা, গায়েবি মামলা এবং আটক করে রাখা হয়েছে তাদের মুক্তির মামলাগুলো প্রত্যাহার এই যে নির্যাতন-নিপীড়ন চলছে এগুলোকে বন্ধ করা।’
মির্জা ফখরুল বলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলতে চাই, আজকের আলোচনা অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এবং একটি কার্যকরী হয়েছে আমরা আশা করছি এই আলোচনার রেশ ধরে বাকি দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হবে। আমরা আশা করছি অতি দ্রুত একটা সত্যিকার অর্থে আন্দোলন নিয়ে জনগণের সামনে প্রস্তুত হতে পারবো।’
এ সময় মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে একটা আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য যা যা করা দরকার, তা নিয়ে বিস্তারিত না হলেও মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। একটি বিষয়ে আমরা একমত যে, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়, নির্দলীয় সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে আমরা লড়াই করবো। বৈঠকের শুরুতেই আমরা সেই বিষয়ে কথা বলেছি। এটাই ছিল আলোচনার ভিত্তি। আন্দোলনকে যৌক্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে দলগুলোর বোঝাপড়ার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, নির্বাহী সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন অংশ নেন। অন্যদিকে মান্নার সঙ্গে নাগরিক ঐক্যর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এস এম আকরাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাখরুল ইসলাম নবাব, জিল্লুর চৌধুরী দীপু, যুগ্ম সম্পাদক ডা. জাহেদ উর রহমান, কেন্দ্রীয় সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবু জাহেদ মোহাম্মদ সারওয়ার, আনিসুর রহমান খসরু, মাহবুব মুকুল, মনজুর কাদের, এস এম এ কবির হাসান, আবু তালেব দেওয়ান, মুহিদুজ্জামান মুহিদ, আব্দুর রাজ্জাক রাজা প্রমুখ বৈঠকে অংশ নেন।

1