আশা ছাড়ছেন না সালাহ

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ  টুয়েন্টিফোর ডটকম:   গতবার ব্যালন ডি’ অর জয়ের লড়াইয়ে সেভাবে ছিলেন না মোহামেদ সালাহ। তাই বলে সাত নম্বরে থাকাটা তার জন্য ছিল বড় ধাক্কা। হতাশার সেই অধ্যায় পেছনে ফেলে এবার স্বপ্ন দেখছেন তিনি শিখরে পৌঁছানোর। আফ্রিকা থেকে এখনও পর্যন্ত কেবল একজনই পেয়েছেন এই স্বীকৃতি। এবার সেখানে নিজের নাম দেখতে চান লিভারপুলের ফরোয়ার্ড।

এমনিতে সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে যেভাবে খেলেছেন সালাহ, তাতে আশা তিনি করতেই পারেন। দুইটি শিরোপা জিতেছে এবার লিভারপুল, লিগ কাপ ও এফএ কাপ। এছাড়াও মৌসুমের শেষ পর্যন্ত তারা ছিল প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লড়াইয়ে। তাদের এই পথচলায় বড় ভূমিকা ছিল সালাহর। লিগে ২৩ গোল করে টটেনহ্যাম হটস্পারের সন হিউং-মিনের সঙ্গে তিনি ছিলেন যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫১ ম্যাচে ৩১টি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ১৬টি গোল।

তার জন্য সমস্যা হলো, সালাহ দারুণ খেললেও মৌসুম জুড়ে অসাধারণ খেলে লড়াইয়ে দৃশ্যত এগিয়ে করিম বেনজেমা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৪ গোল করা রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি ফরোয়ার্ডের হাতে ব্যালন ডি’ অর নিশ্চিতভাবেই দেখতে পাচ্ছেন অনেকেই। সেই দলে আছেন রেকর্ড সংখ্যকবার এই খেতাব জয়ী লিওনেল মেসিও।
লিগের পর চ্যাম্পিয়ন লিগে লিভারপুলকে স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণায় পুড়তে হয় ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে। ওই ম্যাচটিকে অনেকে ধরে নিচ্ছিলেন বেনজেমা ও সালাহর মধ্যে ব্যালন ডি’ অর জয়ের লড়াইয়ে এগিয়ে যাওয়ার ধাপ হিসেবেও।
সালাহর মতো ফাইনালে গোল পাননি বেনজেমাও। ব্যবধান গড়ে দেওয়া গোলটি করেন ভিনিসিউস জুনিয়র। তবে শেষ ষোলো থেকে বেনজেমার অবিশ্বাস্য কিছু পারফরম্যান্সে ভর করেই ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল রিয়াল, যার মধ্যে রয়েছে পিএসজি ও চেলসির বিপক্ষে টানা দুটি হ্যাটট্রিক। দলটির লা লিগা জয়েও তার বড় অবদান ছিল।

তবে অনেকের চোখে বেনজেমা আপাতত এগিয়ে থাকলেও নিজেকে মোটেও পিছিয়ে রাখছেন না সালাহ। নিজের নাম তিনি কল্পনা করছেন জর্জ উইয়াহর পাশে। লাইবেরিয়ার এই সাবেক ফরোয়ার্ড ১৯৯৫ সালে পান ব্যালন ডি’ অর ও ফিফা বর্ষসেরার স্বীকৃতি। আফ্রিকা থেকে আর কেউ এখনও পুনরাবৃত্তি করতে পারেননি কোনেটিরই।

লেকিপেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সালাহ বললেন, গতবারের হতাশা ভুলে এবার নিজেকে সর্বোচ্চ সাফল্যের মঞ্চে দেখার আশা তার। তবে হাল ছাড়বেন না তিনি এবার হারলেও। তিনি বলেন, জর্জ উইয়াহর সঙ্গী হতে চাই আমি, যিনি একমাত্র আফ্রিকান (ব্যালন ডি’অর জয়ী)। এটা সত্যি যে, গতবারের অবস্থান (সপ্তম) দেখে আমি বিস্মিত হয়েছিলাম। এই বছর রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে হারটা আমাকে পিছিয়ে দিচ্ছে বটে, তবে ফাইনালে আমি ভালো খেলেছি।

সালাহ আরও বলেন, মাসের পর মাস ধরে আমি যা অর্জন করেছি, তা নিশ্চয়ই মুছে দেবে না এটি (ফাইনালের হার)। ভোটের জন্য অপেক্ষা করা যাক। ২০২২ সালেও যদি ব্যালন ডি’অর না জিতি, তাহলে সম্ভব সবকিছুই করব যেস পরেরবার জিততে পারি।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে সালাহ-মানেদের সামনে রীতিমত দুর্ভেদ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন রিয়াল মাদ্রির গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। বেলজিয়ান তারকার প্রশংসা ঝড়ে পড়ল সালাহর কণ্ঠেও। তিনি বলেন, জয়টা আমাদের প্রাপ্য ছিল, সুযোগ আমরাই বেশি পেয়েছিলাম। আমি দুই-তিনটি পরিস্কার সুযোগ পেয়েছি, তবে থিবো কোর্তোয়া অবিশ্বাস্যভাবে বাঁচিয়ে দিয়েছে। তার কাজই এটা, এজন্যই রিয়াল তাকে দলে টেনেছে। রাতটি ছিল তার।

এবারের ব্যালন ডি’ অর জয়ীর নাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে আগামী অক্টোবরে। সালাহ-বেনজেমাদের সঙ্গে লড়াইয়ে থাকবেন বায়ার্ন মিউনিখ ফরোয়ার্ড রবের্ত লেভানদোভস্কিও। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ মিলিয়ে এই মৌসুমে সর্বোচ্চ (৫০টি) গোল করেছেন তিনি।

1