‘‘হুমাইরা আক্তার’’ হত্যা মামলার মূল হত্যাকারী সেলিম উদয় সহ ২ জন আসামী গ্রেফতার

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকমঃ  র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমাজের বিভিন্ন অপরাধের উৎস উদ্ঘাটন, অপরাধীদের গ্রেফতার, অপরাধ দমন ও আইন শৃঙ্খলার সামগ্রিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাছাড়া যে কোন চা ল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটনের জন্য র‌্যাব ছায়া তদন্ত করে আসছে।

গত ২৮ই জুলাই ২০২২ তারিখে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ থানাধীন বড় নয়াগাঁও এলাকায় ‘‘হুমাইরা আক্তার’’ নামে ০৭ বছর বয়সী এক শিশুর বালুর মধ্যে অর্ধেক পুঁতে রাখা অবস্থায় একটি লাশ পাওয়া যায়। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের মা মোছাঃ সেতেরা বেগম বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ আকারে প্রকাশিত হয় যা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

 উল্লেখিত বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সংগ্রহ সহ চা ল্যকর ও নৃশংস এই হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতারের জন্য র‌্যাব-১১ এর একটি গোয়েন্দা দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় অদ্য ০১ আগষ্ট ২০২২ তারিখ রাতে র‌্যাব-১১ এর অভিযানে চা ল্যকর ও নৃশংস শিশু ‘‘হুমাইরা আক্তার (৭)’’ হত্যা মামলার মূল হত্যাকারী ১। মোঃ সেলিম মিয়া @ উদয় (২২), পিতা-মোঃ শুক্কুর আলী এবং অপর সহযোগী ২। মোঃ শুক্কুর আলী (৫০), পিতা-মৃত হাসন আলী, উভয় গ্রাম-চেংগাকান্দি, থানা-সোনারগাঁ, জেলা-নারায়ণগঞ্জ’দ্বয়কে মুন্সীগঞ্জের সদর থানাধীন দক্ষিণ কেওয়ার এলাকা হতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামী মোছাঃ বৈশাখী আক্তারের স্বামী মোঃ সজীবের সাথে আসামী মোঃ সেলিম মিয়া @ উদয় (আসামী মোছাঃ বৈশাখী আক্তারের ভগ্নিপতি) এর বিরোধ চলছিল। উক্ত বিরোধের জের ধরে সেলিম সজীবের প্রতি প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে তার বোন হুমাইরাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। উক্ত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সেলিম তার শ্যালিকা বৈশাখীকে শিশু হুমাইরাকে তার হাতে তুলে দিতে বলে। আসামী বৈশাখী তার শ^শুরবাড়ীর লোকজনের সাথে পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় উক্ত প্রস্তাবে রাজি হয় এবং ভিকটিমকে বেড়ানোর কথা বলে তাকে সাথে নিয়ে আসামী সেলিমের কাছে তুলে দেয় এবং বাড়ীতে এসে ভিকটিম হারিয়ে যায় বলে জানায়। পরবর্তীতে আসামী সেলিম এজাহারে উল্লেখিত অন্যান্য আসামীদের সহযোগিতায় পরস্পর যোগসাজশে শিশু হুমাইরাকে হত্যা করে লাশ গুম করে এবং নিখোঁজের দুইদিন পর তার লাশ সোনারগাঁ থানাধীন বড় নয়াগাঁও এলাকায় বালুর মধ্যে অর্ধেক পুঁতা অবস্থায় পাওয়া যায়। মূলত পারিবারিক কলহের জের ধরে এই হত্যাকান্ড সংঘঠিত হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা যায়।

 প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয় উক্ত হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে। উক্ত হত্যা মামলার অধিকতর তদন্তের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়কে তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। র‌্যাব-১১ কর্তৃক উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

1