নারায়ণগঞ্জের কিংবদন্তি ফুটবল কোচ বিদ্যুৎ চাচার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীত আজ

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকমঃ প্রাচ্যের ডান্ডি নারায়ণগঞ্জের একসময় গর্ব ছিলো নদী বন্দর, পাট,বস্ত্র, আর ফুটবলের জন্য, কালের বির্বতনে সেই গর্ব আজ ম্রিয়মাণ। শুধু মাত্র বস্ত্র ( সূতা,কাপরের) তার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে আর বাকি গর্বগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে।

তারমধ্য ফুটবল অন্যতম,আর এর কারন অনিয়মিত ফুটবল লীগ,আর বিদ্যুৎ চাচাদের মত নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো ফুটবলের নিবেদিত প্রাণ মানুষগুলোর শূন্যতা।

বিদ্যুৎ চাচা ছিলেন বাংলাদেশের কিশোর ফুটবল তৈরি করার পাইপলাইন। তাঁর হাত ধরে গড়ে উঠেছে জাকির,বিদ্যুৎ, মাসুম,ওয়ালি ফয়সাল, আব্দুল্লাহ পারভেজ, তপু সহ আরো অনেক বাংলাদেশের মাঠ কাঁপানো জাতীয় ও প্রিমিয়ার লিগের ফুটবলার।

আমার সৌভাগ্য হয়েছিল তাঁর সান্নিধ্যে থাকার,তাঁর কাছে প্রেকটিস করার। অসম্ভব রসিক আর আমোদ প্রিয় বিদ্যুৎ চাচার ফুটবল সমন্ধে ছিলো নিজস্ব কৌশল আর বিচক্ষণতা।

তামাকপট্টি বাটার মাঠে( এখন কুমুদিনী ফার্মাসিটি আর রনদা প্রসাদ বিশ্ববিদ্যালয়) সকাল- বিকাল চলতো কিশোর তরুণদের আনন্দে ফুটবল খেলার প্রশিক্ষণ। মাঠের বাইরে একজন বন্ধুর মতো মানুষ তখন হয়ে যেত আমাদের ফুটবল শিক্ষক,একেবারে স্কুলের হেডমাস্টারের মত! তখন তাঁর সমস্ত ধ্যান থাকতো কার কি ভুল,মাঠে কার সেন্স দুর্বল তা দেখিয়ে দেওয়া।আবার প্রশিক্ষণ শেষে সে হয়ে যেত আমাদের পরম বন্ধু। রসিকতা, আর মজার মজার কথার আমুদে আমাদের ক্লান্তি আমরা যেতাম ভুলে।

আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা এই ফুটবল তৈরি করার কারিগর, নারায়ণগঞ্জ ফুটবলকে যিনি দিয়ে গেলেন জীবনের সমস্তটা,বিনিময়ে আমরা তাঁর বিদুৎ চাচার অবদানের কিছুই দিতে পারলাম না,তাঁর যোগ্য সম্মাননা তিনি পেলেন না এটা তাঁর নয় আমাদের, আমাদের ক্রীড়া সংস্থার লজ্জা।

ওপারে ভালো থাকবেন চাচা,মহান দয়াময় আল্লাহ আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে নসীক করুন। আমিন লেখকঃ আলমগীর আলম।

1