শেখ হাসিনা যা বলবে তার উল্টোটা বিশ্বাস করবেন–রিজভী

0

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকমঃ  ‘শেখ হাসিনা যখনই বলেছে, বিএনপি যদি গণভবন ঘেড়াও করতে আসে, তাদের আমি চা খাওয়াবো। তার পরদিনই ভোলায় দুইটি ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তার কয়েকদিন পর তাদেরই এক মন্ত্রী বললেন, বিএনপির কোন কর্মসূচিতে বাঁধা দেওয়া হবে না। কথাটি বলার পরের দিনই নারায়ণগঞ্জে শাওনকে হত্যা করা হলো। তাই ওরা যা বলবে, তার উল্টোটা বিশ্বাস করবেন। উল্টো কথার মা হচ্ছেন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা যদি বলে ডান দিকে যাবো, আপনারা সবাই বুঝে নিবেন- বাম দিকে যাবে। তাদেরকে প্রতিহত করার জন্য আপনারা বাম দিক থেকেই প্রস্তুত থাকবেন।নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় এসে শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে এ কথা বলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদল নেতা শাওন প্রধানসহ মুন্সিগঞ্জ এবং ভোলায় পুলিশের গুলিতে নিহত ও আহত হওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি।

জেলা কমিটির আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবির সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশের প্রধান অতিথি ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়া।

রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, ‘জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপি এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। নারায়ণগঞ্জে অনেক বাড়ি রয়েছে, অধিকাংশ বাড়িতেই চুলা জ্বলছে না। দ্রব্যর মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, মানুষ চলতে পারছে না। তাই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল, এটাতো জনস্বার্থের কর্মসূচি ছিল। অথচ, আপনি এই কর্মসূচিতে আঘাত করছেন। আপনি এই কর্মসূচিতে গুলি চালাচ্ছেন আর জাতিসংঘে গিয়ে আপনি চোখ দিয়ে পানি ফেলেন। এই ভন্ডামি এদেশের মানুষ ও জনগণ জানে। আপনি ভোট কেড়েছেন, এদেশের মানুষের কথা বলা কেড়েছেন। আপনি মিছিল করার অধিকার কেড়ে নিয়েছেন, আপনি বিএনপির মিছিলে গুলি চালাতে দ্বিধা করছেন না। এক দেড় মাসের মধ্যে আপনি ৪টা প্রাণ কেড়ে নিয়েছেন। আপনারা এতো নির্লজ্জ- বেহাইয়া, দিনের ভোট রাতে করেন, জনগণ আপনাদের নিশিরাতের সরকার হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এই কারণেই আপনাদের কোন বৈধ সত্যা নেই। টিকে থাকার জন্য বন্দুক ব্যবহার করছেন কিন্তু এই বন্দুকের নল যে ঘুরে যেতে পারে, এটা ভাবছেন না কেন। গণতন্ত্র একদিন ফিরে আসবে, সেদিন প্রতিটি প্রাণের বিচার করা হবে। শাওনকে হত্যার বিচারও এই নারায়ণগঞ্জের মাটিতেই হবে।’

রুহুল কবির রিজভী আহমেদ আরো বলেন, ‘বিখ্যাত ঔপন্যাসিক হুমায়ন আহম্মেদের একটি উপন্যাসের নাম হচ্ছে আয়না ঘর। এক সময় নবাব বা জমিদারদের আয়না ঘর ছিল। সেখানে বাড়ির বউ-মেয়েরা সাজগোজ করতো। শেখ হাসিনারও একটা আয়না ঘর আছে। সেই আয়না ঘর মেয়েদের সাজগোজের জন্য না, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের সেখানে সাজগোজ করানো হয়। তাদেরকে সেখানে গুম করে রেখে ভয়াবহ নিপিরন চালানো হয়। এখন আয়নাঘর শব্দটা মানুষের কাছে আতঙ্কের, ভয়ের।’

তিনি বলেন, গ্রাম বাংলায় এক ধরণের আমন ধান হয়, চারা রোপনের পর জমিতে পানি বৃদ্ধি পেলে ধানের শীষটাও বৃদ্ধি পায়। বিএনপির অবস্থাও একই রকম, ঝড় ঝাপটা যত বৃদ্ধি পাচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীদের মনোবলও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন ওরা পুলিশের গুলির মধ্যেও মাথা উচুঁ করে থাকে।

এ সময় উপস্থিত ছিলো নারায়গঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব আবু আল ইউছুফ টিপু, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য মাশুকুল ইসলাম রাজিব, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুব দলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি প্রমুখ।

0