নেতৃত্ব পরিবর্তণের দাবি উঠেছে কলাগাছিয়া আওয়ামীলীগে

0

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জের কলাগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কমিটি নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন চলছে গ্রুপিং-লবিং অন্যদিকে চলছে পরস্পরের কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ি। বলা যায় পদ দখলের প্রতিযোগিতায় কেউ কেউ নিজেদের ত্যাগী হিসেবে দাবী করে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ার চেষ্টায় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অপ-প্রচারে লিপ্ত কেউবা আবার নানাভাবে তৃনমূল নেতা-কর্মীদের ম্যানেজ করে চলেছেন। সব মিলিয়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগের আসন্ন কমিটি গঠন নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে গোটা কলাগাছিয়া ইউনিয়ন। তবে কর্মী বা কাউন্সিলররা তাদের নেতৃত্বের প্রয়োজনে দলের স্বার্থে যোগ্য ব্যক্তিকেই ভাইটাল পদে আসীন করতে একাট্রা হচ্ছে বলে এমনটাই প্রকাশ পাচ্ছে সর্বত্রই। এক্ষেত্রে ইউনিয়নের সভাপতি পদে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনের নাম শোনা গেলেও তাদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে উঠে এসেছে সাবেক সভাপতি মোঃ আমিরুজ্জামান,মোঃ কুতুবউদ্দিন,হাজী আহমেদ তুষার মাইনুদ্দিন ও আক্তারুজ্জামান (বিএ)’র নাম। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক পদে সাবেক সাধারণ সম্পাদক একেএম ইব্রাহিম কাশেম ও শোয়েব মোহাম্মদ লিটনের নাম খুব জোরে সোরে প্রচারিত হচ্ছে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে,বিগত দিনের মন্থর গতির কর্মকান্ড পরিবর্তণের লক্ষ্যে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সিংহভাগ কর্মী-সমর্থকের দৃষ্টি নতুনদের দিকেই। তারা চায় দলের কল্যাণে যারা নিবেদিত হতে পারবে তাদেরকেই যেন এ ইউনিয়নের কান্ডারী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। নতুন-পুরাতন,ত্যাগী-ভোগীর হিসেব নয় সভা-সমাবেশ রাজনৈতিক কর্মসূচীতে সক্রিয় থাকাটাও এখানে মুখ্য বিষয়। জনমত জরিপে নতুন মুখের পক্ষের সমর্থনই বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ ব্যপারে কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা হাজী রফিক জানান,পুরনোদের অলংকরণে আমরা দীর্ঘ দিন ছিলাম। তাদের কর্মকান্ড খারাপ ছিল সেটা বলবোনা দলের জন্য যে নিবেদিত ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। তবুও আমরা চাই পুরনোদের উচ্চ পর্যায়ে পদায়নের মাধ্যমে মূল্যায়নের মাধ্যমে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যেনো নতুনদের নেতৃত্বের সুযোগ করে দেয়া হয়। তাতে দলও চাঙ্গা হয়ে উঠবে সাংগঠনিক অবকাঠামোর মজবুত হবে। একই ইউনিয়নের ৪,৫ ও ৬নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, আমরা এমন কমিটি চাই যাদের দ্বারা মূল্যায়ন পাওয়া যাবে। বিগত কমিটি আমাদেরকে কোনভাবে মূল্যায়ন করেনি আমরা অবমূল্যায়ন প্রথা থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশ তারুন্যের হাতে তুলে দেয়ার কথা বার বার বলেন। আমরা আমাদের নেত্রীর কথার বাস্তবায়ন চাই। নতুনরা কমিটিতে এলে কলাগাছিয়া আওয়ামীলীগে প্রাণচা ল্যতা ফিরে আসবে। নির্দ্বিধায় বলতে পারি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক শোয়েব মোহাম্মদ লিটন নিঃসন্দেহে একজন এ্যাকটিভ লিডার। আমার মতে,এবার সাধারণ সম্পাদক পদে আমার কাছে তাকেই যোগ্য মনে হচ্ছে। বাকীটা নীতি-নির্ধারকদের ব্যাপার। অপরদিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ২১শে’র গ্রেনেড হামলায় আহত কলাগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা আশ্রাফ হোসেন অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে জানান,১৭ বছর ধরে কমিটি না হওয়ায় দলে গতি নেই। নিজের সুবিধার জন্য অনেকেই পদ আঁকড়ে রেখেছেন এই রাহু গ্রাস থেকে দলকে মুক্ত করতে হবে। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকদের নেতৃত্ব চাই। সে হোক প্রবীণ বা নবীন। ১৭বছরের মরিচা বেস্টিত দলকে ঘষা-মাজা না করলে ভবিষ্যতে কলাগাছিয়া আওয়ামীলীগ অস্বিত্ব সংকটে পড়বে।

0