ফতুল্লায় রোকসানার নেতৃত্বে সক্রিয়নারী পাচারকারী সিন্ডিকেট

0

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ ফতুল্লার কুতুবপুরের পশ্চিম শাহী মহল্লার (আকনগলি) বাসিন্দা ফজলুল করিমের মেয়ে রোকসানা নারী পাচারকারীদের একজন সক্রিয় সদস্য। বর্তমানে সে পাগলা নয়ামাটি এলাকার বাসিন্দা। দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের সাথে প্রথমে সম্পর্ক তৈরি করে পরবর্তীতে বেশি টাকা রোজগারের লোভ দেখিয়ে ভারত, সৌদি, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে তাদেরকে বিক্রি করে দেয় বিদেশি মদের বার বা আবাসিক হোটেলে। তাদেরকে বাধ্য করা হয় অনৈতিক কর্মকা-ে লিপ্ত হতে। এহেন কর্মকান্ডে রাজী না হলে তাদেরকে করা হয় বিভিন্ন ধরনের অমানষিক নির্যাতন। এমনটিই জানিয়েছে বিদেশ ফেরত পপি-সিনতিয়া সহ একাধিক মেয়েরা। অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এই রোকসানারা নারীদের পাচার করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। আর এই বিষয়ে থানায় একাধিক জিডি অভিযোগ বা মামলা থাকলেও অধরাই রয়ে যাচ্ছে এই রোকসানা সহ নারী পাচারকারী চক্রের সদস্যরা। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে শত শত নারী-শিশু পাচারের শিকার হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে নারী-শিশু পাচার হওয়ার মূল কারণ দারিদ্র্য, বেকারত্ব, নারীর নিম্নমানের পেশা, চাকরির সুযোগের অভাব, মাথাপিছু নিম্ন আয়, সম্পদে নারীর অনধিকার, চাকরির ক্ষেত্রে সমান সুযোগের অভাব ইত্যাদি। বাংলাদেশে বিভিন্ন গবেষণা ও সমীক্ষায় দেখা গেছে, যে এলাকার নারী-পুরুষরা পাচারের শিকার হয় সে এলাকার লোকজন অত্যন্ত দরিদ্র, সেখানে ভূমিহীনদের সংখ্যাধিক্য, খাদ্যাভাব এবং চরম বেকারত্ব বিরাজমান। এ পরিস্থিতিতে এসব এলাকার পিতা-মাতারা নগদ অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। এমন কারো নিকট থেকে পরিবারের নারী ও শিশুদের জন্য বিবাহ বা চাকরির প্রস্তাব পেলে তা গ্রহণ করতে বিলম্ব করে না। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং ভোগ্যপণ্য পাওয়ার লোভে পাচারকারীরা নিজেদেরও নিপুণভাবে পরিচালনা করে থাকে। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি জানায় যে, বিগত ১০ বছরে ভারতে পাচার হওয়া ২ হাজার নারীকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ফিরে আসা নারীদের খুব কমই তাদের অভিজ্ঞতা অন্যদের জানায়। অনেকের হয়ত বলার মতো মানসিক অবস্থাও থাকে না। এর পিছনে কাজ করে সমাজ, পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজনের কাছে হেয় হবার ভয়। কারণ, অনেক নারী ফিরে এসে সামাজিক এবং পারিবারিকভাবে আবারও হেনস্থার শিকার হয়েছেন। অনেকেই ভোগেন অনিরাপত্তায়। পারিবারিকভাবে সমর্থন না পাওয়ায় অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আবার হতাশ হয়ে পড়ছেন।

0