LOGo  


২৪ ঘন্টা আপনার পাশে, আপনার সাথে ডেইলি নারায়ণগঞ্জ ২৪ ডটকম

dailynarayanganj24@gmail.com

 

 

নারায়ণগঞ্জের সেই নাসিম ওসমান

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ ২৪ ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক অঙ্গনে ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবার। নাম

ডাক, প্রতিপত্তি ও রাজনৈতিক কৌশল ছাড়াও এই পরিবারের আরেকটি নাম রয়েছে গডফাদার। এ নিয়ে সারা বাংলাদেশে মিডিয়ার মাধ্যমে আলোচনা সমালোচনার ঝড় ভয়ে গেছে একাধিক বার। এই লেখনির মাধ্যমে কারো চাটুকারীতা বা মুখরোচক কোন কাহিনী তুলে ধরা হবে না। ইতিহাস যা বলে আজ তাই লেখা হবে এই রির্পোটে তবে সেটা এই প্রজন্মের জানার জন্য। আজ ২ শে এপ্রিল ৪ বার নির্বাচিত প্রয়াত সাংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের ২য় মৃত্যু বার্ষিকী। প্রয়াত সাংসদ ভাষা সৈনিক বীর মুক্তিযুদ্ধা একেএম শামসুজ্জোহা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। তার বড় ছেলে নাসিম ওসমান ১৯৫৩ সালের ৩১ শে জুলাই জন্মগ্রহন করেন। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হওয়ায় ছোট বেলা থেকেই সাংগঠনিক কর্মকান্ডে ছিলেন আসক্ত। সব সময় মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকার চেষ্টা করতেন। জনগনের সমস্যা সব সময় নিজের সমস্যা মনে করে সমাধান করার চেষ্টা করে যেতেন। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি ছিলেন সাহসী ও প্রতিবাদী কন্ঠোস্বর। ১৯৭১ সালে তিনি দেশকে স্বাধীন করার জন্য পরিবার পরিজন ফেলে কাউকে কিছু না পাড়িযমান ভারতের দেবাদুনে সেখানে আত্মঘাতী প্রশিক্ষন নেন। প্রশিক্ষন শেষে দেশে এসে পাকবাহিনীদের উপর ক্ষুর্ধাত হায়নার মত যাপিয়ে পরেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি বীরের ভেসে বাড়িতে ফেরেন। বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সাথে তাদের পরিবারের সু-সম্পর্ক বজায় থাকায় শেখ মুজিবুর রহমানকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন এবং মিশতে পেরেছেন। তাই তার আর্দশকে বুকে লালন করতে বেশী সময় নেই নি সেই সময়ের উদিয়মান প্রতিভা নাসিম ওসমানের। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনককে সপরিবারে হত্যার একদিন আগে ১৪ আগস্ট বিয়ে করেছিল নাসিম ওসমান। সেই বিয়েতে উপস্থিত ছিলো বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামালসহ অনেকেই। পর দিন বঙ্গবন্ধু হত্যার খবর শুনে নবপরিণীতা স্ত্রীসহ পরিবারের কারও দিকে তাকান নি তিনি। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নিতে সবাইকে ছেড়ে ঢাকায় প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন এবং পরে ভারতে গিয়ে খুনীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে সবাইকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেন। তৎকালীন কাদের বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। নাসিম ওসমান ছোট বয়সেই মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিশোধ নিতে জীবনের সবকিছু উৎসর্গ করেছেন। অকাল মৃত্যুতে নাসিম ওসমানের জীবনটা অপূর্ণই থেকে গেল। যে আত্মত্যাগ নাসিম ওসমান করে গেছেন, তা বাঙ্গালী জাতির কাছে চিরদিন অমর হয়ে থাকবে। তার মৃত্যুর পর সংসদে শোক প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশিদ, এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, মশিউর রহমান রাঙ্গা সহ আরো অনেকেই। তিনি ১৯৮৬ সালে, ১৯৮৮, ১৯৯৮ এবং ২০১৪ সালে ৪ বার সাংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৪ সালে ১৮ই এপ্রিল চিকিৎসার জন্য ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ২৯ শে এপ্রিল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১ টায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে, ভারতের রাজধানী দিল্লীর দেরদুন শহরে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তার রেখে যান তিনি। তার মৃত্যুতে নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দরা হারিয়েছেন একজন সাহসী, আপোষহীন ও কর্মীবান্ধব অভিবাবক।

সংবাদ শিরোনাম