ঢাকায় কেরির ব্যস্ত ৬ ঘণ্টা

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকম: ঢাকায় প্রায় ৬ ঘণ্টার ব্যস্ত সফর করে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা অবধি একের পর এক বৈঠকে কাটিয়েছেন তিনি। মূলত ওয়াশিংটন আয়োাজিত জলবায়ু বিষয়ক আসন্ন ভার্চ্যুয়াল সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পক্ষে আমন্ত্রণ জানাতে এসেছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার হাতেই আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করে গেছেন। সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের সঙ্গে তার বৈঠক ছাড়াও জলবায়ু, বন ও পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী এম শাহাব উদ্দিনসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভোজ-বৈঠক হয়েছে তার। মার্কিন দূতাবাসের আয়োজনে রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারের অফিসিয়াল বাসভবনে গোলটেবিল বৈঠক করেছেন ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে। ক্লাইমেট ফাইনান্স বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমন ও অভিযোজনে বিশ্ব কীভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে পারে সে বিষয়ে কেরি ও ঢাকাস্থ কূটনৈতিক অংশীদারদের মধ্যে অসাধারণ আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়। বৈঠকে জলবায়ু বিষয়ক পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশসহ নাজুক দেশগুলোর অভিযোজন ও সহিষ্ণুতা বাড়াতে অর্থায়ন জরুরি বলে মত দিয়েছেন জন কেরি।
শুক্রবার দুপুরের ওই বৈঠকে ঢাকাস্থ বৃটিশ হাইকমিশনার, জাপান রাষ্ট্রদূত, জার্মান রাষ্ট্রদূত, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত, আইএমএফ প্রতিনিধি, ইউএনডিপি আবাসিক প্রতিনিধি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক প্রতিনিধি এবং এডিবি প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। কেরির সফর বিষয়ে সিরিজ টুইট বার্তা প্রচার করেছে মার্কিন দূতাবাস। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক বিষয়ে মার্কিন দূতাবাসের টুইট বার্তায় বলা হয়- ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জলবায়ু দূত কেরির সভায় যোগ দিয়ে সম্মানিত। দুর্বল দেশগুলোর কথা শুনতেই হবে। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্টের জলবায়ু বিষয়ক দূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লিডার্স ক্লাইমেট সামিটে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের সভাপতি হিসেবে গ্লাসগোতে অনুষ্ঠেয় কপ-২৬ এ বাংলাদেশের নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরতে।’ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশ্নে বিশেষভাবে নাজুক দেশগুলোর পক্ষে বাংলাদেশের নেতৃত্বদানের বিষয়টি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বলে অন্য টুইটে উল্লেখ করে মার্কিন দূতাবাস। তাতে বলা হয়- জলবায়ু পরিবর্তনের এই অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ এক সঙ্গে লড়তে পারে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জন কেরির আলোচনা বিষয়ক টুইট বার্তায় দূতাবাস জানায়, কেরির সঙ্গে জলবায়ু সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য একে আব্দুল মোমেনকে ধন্যবাদ। বিশ্ব সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী তাপমাত্রা সীমার নাগালে রাখতে ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিধ্বংসী প্রভাব মানিয়ে নিতে বিশ্বের সবচেয়ে নাজুক দেশগুলোকে সহায়তা দিতে প্রতিজ্ঞ যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকাস্থ কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক বিষয়ক টুইট বার্তায় দূতাবাস বলে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমন ও অভিযোজনে বিশ্ব কীভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে পারে সে বিষয়ে জলবায়ু বিষয়ক দূত কেরি ও ঢাকাস্থ কূটনৈতিক অংশীদারের মধ্যে অসাধারণ আলোচনা হয়েছে। জলবায়ু বিষয়ক পদক্ষেপ হিসেবে নাজুক দেশগুলোর অভিযোজন ও সহিষ্ণুতা বাড়াতে অর্থায়ন জরুরি। ওই বৈঠকে উপস্থিত ইইউ দূত রেন্সজে তেরিঙ্ক টুইট বার্তায় লিখেন- ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের আয়োজনে সিনেটর কেরির সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। বড় বিষয় হচ্ছে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরিভাবে ফিরে এসেছে।

কেরির সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা: এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শুক্রবার বিকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জলবায়ু সংক্রান্ত বিশেষ দূত জন কেরি সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান। সেই সাক্ষাৎ-বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত প্যারিস চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাবর্তন জলবায়ু পরিবর্তন কূটনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

জলবায়ু আন্দোলনের নেতৃত্বে ফিরতে চায় যুক্তরাষ্ট্র: কেরি
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বৈঠকের পর যৌথ সম্মেলনে অংশ নেন জন কেরি। সেখানে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন প্যারিস চুক্তির আলোকে আবারো বিশ্বকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকে রক্ষার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিতে চায়। সে কারণে ভবিষ্যতের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ, ভারতসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোর অংশগ্রহণ আশা করছি। ওই সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি ফারুক খান এমপি, সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, ভালনারেবল ফোরাম প্রেসিডেন্সির বিশেষ দূত আবুল কালাম আজাদসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের শুভেচ্ছা বার্তা দিয়ে কেরি সংবাদ সম্মেলনের শুরু করেন। বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অনুরোধে আমি এখানে এসেছি। কারণ যুক্তরাষ্ট্র আবার প্যারিস এগ্রিমেন্টের বাস্তবায়নের নেতৃত্বে ফিরে এসেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, আমাদের নাগরিক এবং দেশগুলোকে সুরক্ষার জন্য এসব প্রচেষ্টা। জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা কোনো একক দেশ সমাধান করতে পারবে না। সংকট যে আছে এ নিয়ে কোনো দেশের সন্দেহ নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন দুর্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরে মানব ইতিহাসের কঠিন দিন, কঠিন সপ্তাহ, মাসগুলোর মুখোমুখি হয়েছি আমরা। বিশ্বব্যাপী মানবসৃষ্ট দুর্যোগ দেখেছি। ভাইরাস, খরা, সমৃদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়া থেকে শুরু করে অনেক কিছু দেখছি। ইতিমধ্যে জলবায়ুর কারণে মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে অন্যত্র যাওয়া শুরু করেছে। বিজ্ঞানের শিক্ষা থেকে আমরা জানতে পেরেছি সবাইকে একসঙ্গে কাজে নামতে হবে। আগামী ২২ ও ২৩শে এপ্রিল বাইডেনের আহ্বানে লিডার্স সামিট অন ক্লাইমেট অনুষ্ঠিত হবে। ওই সামিটে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এই সফর বলে জানান তিনি। এই সম্মেলনের পাশাপাশি নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ২৬তম সম্মেলন বা ‘কপ২৬’ নিয়ে আলোচনার জন্য সফর শুরু করেছেন বাইডেনের বিশেষ এই দূত। ১লা এপ্রিল থেকে শুরু সফরে ইতিমধ্যে আবুধাবি ও নয়াদিল্লিতে গিয়েছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এসব কারণে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বড় অর্থনীতির দেশ ও অংশীদারদের নিয়ে সামিট আহ্বান করেছেন। আলোচনার মাধ্যমে যাতে পরিস্থিতি মোকাবিলার রাস্তাগুলো তৈরি করা যায়, জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলার প্রযুক্তিগুলো সবার মাঝে পৌঁছে দেয়া যায় সেটিই মুখ্য। বাংলাদেশ এই সামিটে অংশ নেবে জেনে আমি খুবই আনন্দিত। প্রযুক্তি, গবেষণা, উন্নয়ন, আর্থিক বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসার জন্য এই সম্মেলন খুবই কার্যকর হবে। সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনান্ড ট্রাম্পের সময় যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ু ইস্যু থেকে পিছিয়ে পড়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে কেরি বলেন, প্যারিস ছিল সূচনা। আমরা জানি আমাদের আরো সামনে যেতে হবে। আমি দুঃখিত যে আমাদের সাবেক প্রেসিডেন্ট এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাইডেন জলবায়ু ইস্যুতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমার বাংলাদেশ, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই সফরের কারণ হচ্ছে, এসব দেশের জলবায়ু সংকট মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ভবিষ্যতের ক্লিন এনার্জি গড়ে তুলতে তাদের সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, দূষণ মুক্ত বাতাস, রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাব কম হওয়া, ক্যান্সার নির্মূল করা, লাখ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নিওএনার্জির জন্য প্রযুক্তির সংযুক্তি- এসবের জন্য প্রেসিডেন্ট বাইডেনের পরিকল্পনা হচ্ছে দুই ট্রিলিয়ন ডলারের। এর মাধ্যমে ২০৩৫ সালের মধ্যে আমাদের বিদ্যুৎ খাত জিরো কার্বণে ফিরে আসবে, ৫ লাখ ইলেক্ট্রিক গাড়ির চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা হবে। ফলে জনগণ ইলেক্ট্রিক কার কিনতে পারবে, সাচ্ছন্দ্যে চার্জ দিতে এবং নিজের কর্মস্থলে যেতে পারবে। কেরি বলেন, বিশ্বের কোনো দেশই জলবায়ু ঝুঁকির বাইরে নয়। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। এই লক্ষ্যে আমরা গ্রিন টেকনোলজি ট্রান্সফার ও ফান্ড গঠনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।

রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব একা বাংলাদেশের নয়, এটা সবার: কেরি
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে জন কেরি বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের জন্য অনেক উদারতার পরিচয় দিয়েছে। বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যুক্তরাষ্ট্র কৃতজ্ঞ। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যা হয়েছে এবং এখন মিয়ানমারের জনগণের সঙ্গে যা হচ্ছে, সেটি বর্তমান সময়ের একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে কেরি বলেন, আপনারা তাদের একটি দ্বীপ (ভাসানচর) দিয়ে দিয়েছেন। রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশ কাজ করছে কিন্তু এটি দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নয়। এটি তাদের সমস্যা সমাধান করবে না। কেরি বলেন, বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের প্রতি খুব সদয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। এজন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ। কিন্তু রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব শুধু বাংলাদেশের নয়, এই দায়িত্ব জাতিসংঘেরও। সবারই এই ইস্যুতে ভূমিকা নিতে হবে। মিয়ানমার পরিস্থিতি বিষয়ে জন কেরি বলেন, নতুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিনকেন এ বিষয়ে নজর রাখছেন। তিনি এবং মার্কিন প্রশাসন মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য সবকিছু করবেন। এর ফলে রোহিঙ্গাদের ওপর যে চাপ ও চ্যালেঞ্জ আছে, সেটি কিছুটা কমবে আশা করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের এগিয়ে আসা উচিত। কারণ, এটি বাংলাদেশের একার বোঝা নয়। যুক্তরাষ্ট্র অনেক চেষ্টা করেছে যাতে করে মিয়ানমার সঠিক পথে অগ্রসর হয়। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেরি খানিকটা হতাশার সুরে বলেন, আমাদের আশা অনেক বেশি ছিল। আমি অং সান সুচির সঙ্গে নিজে দেখা করেছি, যাতে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া যায়। আমি মিয়ানমারে গিয়েছি এবং সেখানকার জেনারেলদের সঙ্গে দেখা করেছি। দায়বদ্ধতার বিষয়ে বলেছি। কিন্তু তারা এটিকে সম্মান দেয়নি। সংবাদ সম্মেলনে করোনা বিষয়ক এক প্রশ্নের উত্তরে জন কেরি বলেন করোনা ঝুঁকি মোকাবিলায় আমরা ভ্যাকসিনেশনে বৈশ্বিক সহযোগিতা চাই। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

মোমেন বললেন কেরির সফলতা অনেক, জলবায়ু দূত হিসেবেও তিনি সফল হবেন: সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্লাইমেট সামিটে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বৈশ্বয়িক উষ্ণতা কমানোর কৌশলগুলো প্রয়োগের বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ কী কী উদ্যোগ নিচ্ছে সেগুলো তাকে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় জলবায়ু কর্মপরিকল্পনা, ১৪ হাজার ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন, জলবায়ুর জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা, মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান, প্ল্যানেটারি ইমার্জেন্সি রেজুলেশন, সুন্দরবন সুরক্ষা পদক্ষেপসহ অন্যান্য পদক্ষেপ নিয়েছে বর্তমান সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু বিষয়ক নীতি সাফল্য পাবে আশা করে মোমেন বলেন, জন কেরির জীবনে অনেক সাফল্যের গল্প আছে। তিনি যেখানে হাত দিয়েছেন সেখানেই সাফল্য এসেছে। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি হয়েছে তার দৃঢ়তার কারণে। ভিয়েতনাম যুদ্ধেও তার অনেক সাফল্য রয়েছে। ভিয়েতনামের সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টায়ও তিনি সফল হয়েছেন। আমরা আশা করবো প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বিশেষ দূত হিসাবে জন কেরি আগামী বছর থেকে ক্লাইমেট ফান্ডে ১০০ বিলিয়ন ডলার অর্জন করতে পারবেন। এটা হবে তার আরেক সাফল্য। এই ফান্ডের ৫০ শতাংশ এডাপটেশন এবং ৫০ শতাংশ মিটিগেশনের কাজে ব্যয় করা হবে বলে আশা রাখি। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের বন ও পাহাড় ধ্বংস করছে উল্লেখ করে মোমেন বলেন, তাদের ফিরিয়ে নেয়ার উদ্যোগে কেরি বা যুক্তরাষ্ট্র ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। মোমেন বলেন, রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের বনায়ন ধ্বংস করছে। তাদের টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে এর সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা দরকার বলে কেরিকে জানিয়েছি। জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ক্ষতি মোকাবিলায় অর্থ ও প্রযুক্তি প্রয়োজন এবং বাংলাদেশ আশা করে, যুক্তরাষ্ট্র সেটি জোগান দেবে বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য, জন কেরিকে সহধর্মিণী সেলিনা মোমেনকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন জন কেরিকে স্বাগত জানান। এ সময় ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার উপস্থিত ছিলেন। বিকালে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার সময়ও মন্ত্রী মোমেন এবং রাষ্ট্রদূত মিলার তাকে বিমানবন্দরে বিদায় জানান।

1