জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা ঘোষণা করতে হবে মে’ দিবসের সমাবেশে – টিইউসি

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকম:  মহান মে দিবস- উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র ও গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’র জেলা কমিটির যৌথ উদ্যোগে পহেলা মে শনিবার সকাল ৯ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে শ্রমিক সমাবেশ ও শহরে লাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি এম এ শাহীন বক্তব্য রাখেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এডভোকেট মন্টু ঘোষ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাফিজুল ইসলাম, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দুলাল সাহা, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দাস, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, প্যারাডাইজ কেবলস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রুবেল প্রমূখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন মহান মে’ শহীদদের আত্মদান ও লড়াই সংগ্রামের ১৩৫ বছর ও দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছর পার হলো আজও আমাদের দেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবনে প্রকৃত স্বাধীনতা আসেনি। যে লক্ষ নিয়ে মে দিবস ইতিহাস সৃষ্টি করে ছিল তার সুফল আজও এদেশের শ্রমজীবী মানুষ পায়নি। তারা দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজ, ন্যায্য মজুরি ও অন্যান্য ন্যায়সঙ্গত অধিকার থেকে বঞ্চিত। শোষিত-নির্যাতিত এবং অগণতান্ত্রিক কালাকানুনের বেড়াজালে আটকা পড়ে রয়েছে। শ্রমজীবী মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ও কর্মস্থলে পেশাগত স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নেই। করোনা মহামারীর মধ্যে মালিকরা শ্রমিকদের দায়িত্ব নেওয়ার পরিবর্তে ছাঁটাই-বরখাস্ত ও কারখানা লে-অফ করে দিয়ে তাদেরকে বেতন-ভাতা ও আইনি পাওনা থেকে বঞ্চিত করে চরম বিপদে ফেলেছে। বকেয়া বেতন চাইতে গেলে পুলিশ দিয়ে গুলি করে হত্যা করছে। এতো শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পরেও আজ অবদি কোন হত্যার বিচার হয়নি। মালিকদের এই হিংস্রতম কৌশলি আক্রমণ বন্ধ করতে হবে নতুবা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলে সকল অন্যায়-অত্যাচার ও জুলুমের দাঁত ভাঙা জবাব দেয়া হবে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে শ্রমিকদের প্রাপ্ত মজুরিতে জীবন ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বাজার দরের সাথে সঙ্গতি রেখে মহার্ঘ্য ভাতা চালু করতে হবে। মজুরি বোর্ড পুর্নগঠন করে জাতীয় ন্যুনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা ঘোষনা করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক সকল শ্রমজীবী মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, চাকুরী, কর্মসংস্থান, খাদ্য ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে বাঁশখালীর শ্রমিক হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আইএলও কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮ মোতাবেক অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করাসহ শ্রমিক বিরোধী আইন পরিবর্তন করে বাংলাদেশের সংবিধান এবং আইএলও কনভেনশন অনুসারে শ্রম আইন ও শ্রম বিধিমালা সংশোধন করতে হবে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল, চিনিকল সহ বন্ধকৃত সকল কলকারখানা চালু করা এবং ঈদের আগে সকল শ্রমিকদের এক মাসের বেসিক বেতনের সমপরিমাণ ঈদ বোনাস ও সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবি জানান।

1