ব্যাটিং ব্যর্থতায় হারের মুখে বাংলাদেশ

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকম: ক্যান্ডিতে সিরিজ হারের মুখে বাংলাদেশ। একদিন বাকি থাকতেই ম্যাচের ফল অনেকটা স্পষ্ট। শ্রীলঙ্কার ছুড়ে দেয়া ৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে মুমিনুল হক সৌরভের দলের সংগ্রহ ১৭৭ রান। এই টেস্ট বাঁচানোর জন্য টাইগারদের হাতে আছে শেষ পাঁচ উইকেট ও একদিন। জিততে হলে করতে হবে ২৬০ রান। ড্র করতে হলেও টিকে থাকতে হবে আজ সারাদিন! হ্যাঁ, টেস্টের পঞ্চম দিন এই সমীকরণে ম্যাচ বাঁচানো ভীষণ ভীষণ কঠিন অলৌকিক কিছু না হলে। পাল্লেকেলেতে প্রথম ম্যাচ ড্র করেছে বাংলাদেশ। তাই দ্বিতীয় ম্যাচে ছিল সিরিজ জয়ের হাতছানি।
মাঠে নামার আগে বেশ আত্মবিশ্বাসীও ছিল দল। কিন্তু বিধিবাম, টসে হেরে লঙ্কানরা ব্যাট হাতে রুখে দাঁড়ায়। প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেট হারিয়ে ৪৯৩ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিক অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নে। জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় ২৫১ রানে। ২৪২ রানে এগিয়ে থাকা লঙ্কানরা অবশ্য দ্বিতীয় ইনিংসে সুবিধা করতে পারেনি। ১৯৪ রান করে ৯ উইকেট হারানোর পর ইনিংস ঘোষণা করে। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে জবাব দিতে নেমে আবারো ব্যাট হাতে ব্যর্থ টাইগাররা। আজ শেষ দিন মাঠে ১৪ রানে অপরাজিত থাকা লিটন দাস মাঠে নামবেন। তার সঙ্গী ৪ রান করা মেহেদী হাসান মিরাজ। বলতে গেলে এই দুজনই দলের ব্যাটিংয়ের শেষ ভরসা। ক্যান্ডির প্রথম ম্যাচের উইকট ছিল ব্যাটসম্যানদের জন্য স্বর্গ। টানা ৪ দিন ব্যাটসম্যানরা রাজত্ব করেছেন। কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টে উইকিটের চরিত্র ছিল ভিন্ন। প্রথম দুই দিনই ব্যাটসম্যানরা ছিলেন এখানে রাজা। প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে লঙ্কান দুই ওপেনার করুনারত্নে ও থিরামান্নে সেঞ্চুরি তুলে নেন। তাদের দু’জনের ব্যাটে ভর করে রানের পাহাড় গড়ে স্বগতিকরা। জবাব দিতে নেমে দারুণ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ধীরে ধীরে খেই হারায় ব্যাটসম্যানরা। আবারো ৯০ রান করে আউট হন ওপেনার তামিম ইকবাল। শেষ পর্যন্ত দলের আর কোনো ব্যাটসম্যানই ফিফটি করতে পারেননি। মুমিনুল হক আউট দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৯ রান করে। শ্রীলঙ্কার ছুড়ে দেয়া লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে গতকালও ব্যর্থ টাইগার ব্যাটসম্যানররা। টেস্ট ইতিহাসেই এত রান তাড়া করে জয়ের কোনো নজির নেই। বাংলাদেশ তো কখনও ২১৫ রানের বেশি তাড়া করেও জিততে পারেনি। দেশের বাইরে চতুর্থ ইনিংসে তাদের ২৮২ রানের বেশি নেই। সেখানে ১৭৭ রানেই হারিয়েছে পাঁচ উইকেট। দলের সেরা ওপেনার তামিম দ্রুতই আউট হয়ে ফিরে যান সাজঘরে। ব্যাটিংয়ে নেমে তামিম যথারীতি শুরু করেন দারুণ সব শট খেলে। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই সুরাঙ্গা লাকমলকে বাউন্ডারি মারেন ব্যাকফুট পাঞ্চে। তবে মেন্ডিস দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ফেরান তামিমকে। তার বল তামিমের ব্যাটের একপাশে আলতো ছুঁয়ে জমা পড়ে কিপারের গ্লাভসে। টানা চার ফিফটির পর এবার তামিম আউট ২৬ বলে ২৪ করে। এই সিরিজে দুই ম্যাচেই সুযোগ পান তরুণ ওপেনার সাঈফ হাসান। কিন্তু ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে বেড় হতে পারেননি। গতকাল তার ব্যাট থেকে এসেছে ৩৪ রান। বাঁহাতি স্পিনার প্রবীন জয়াবিক্রমাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন কাভার পয়েন্টে। এছাড়াও প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকানো নাজমুল হোসেন শান্ত আর একটিও ফিফটির দেখা পাননি। গতকাল তার ব্যাট থেকে এসেছে ২৬ রান। চা বিরতির একটু আগে জয়াবিক্রমা থামান শান্তকেও। উইকেটের ক্ষতে পিচ করে বল বিশাল টার্ন নিয়ে শান্তর ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে আঘাত করে স্টাম্পে। অধিনায়ক মুমিনুল লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেও ৩২ রানেই বিদায় নেন তিনি। ধরে রাখতে পারেননি ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা। আশাহত করেছেন দলের আরেক সেরা ব্যাটসম্যান মুশিফকুর রহীম। গতকাল তিনি আউট হন ৪০ রান করে। টেস্টের চতুর্থ দিনে মধ্যাহ্ন বিরতির মিনিট ১৫ পর শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ৯ উইকেটে ১৯৪ রান করে। প্রথম ইনিংসে লঙ্কানদের লিড ছিল ২৪২ রানের। প্রথম ম্যাচে বোলাররা ব্যর্থ ছিলেন। বিশেষ করে টাইগার স্পিনাররা। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ৫ উইকেটের স্বাদ পান বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। এছাড়াও মেহেদী হাসান মিরাজ ২টি উইকেট নিয়েছেন। দুই ম্যাচেই দারুণ বল করা তাসকিন গতকাল নিয়েছেন ১ উইকেট।

1