জামালদের সমীহ করছে ভারত, সতর্ক বাংলাদেশ

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকম: ফুটবল কিংবা ক্রিকেট, ভারত-বাংলাদেশ লড়াই সব সময়ই অন্যরকম আবহ তৈরি করে দুই দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঝে। দুই খেলাতেই মানের দিক থেকে ভারত বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও এই দুই দল মাঠে নামলে সেই পার্থক্য যেন আড়ালে চলে যায়। দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে সাফল্যের পাল্লা ভারতের দিকে অনেকটা হেলে থাকলেও বাংলাদেশ কিন্তু কখনোই ছেড়ে কথা বলেনি। বিশেষ করে ফুটবলে হারা ম্যাচগুলোয় লড়াই হয়েছে, অনেক ম্যাচে বাংলাদেশ জিততে জিততে ড্র করেছে। আজ দোহায় বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে আরো একটি ভারত-বাংলাদেশ লড়াই। র‌্যাঙ্কিংয়ে ৭৯ ধাপ এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশকে বেশ সমীহ করছে ভারত। আর কলকাতার আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে এই ম্যাচে জয় চাইছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হবে এই ম্যাচ।

২০১৯ সালে কলকাতায় বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ৮৮ মিনিটে গোল করে মান বাঁচিয়েছিল ভারত। কোনোমতে ১-১ গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ার সেই ম্যাচে ত্রাণকর্তা হয়ে উঠেছিলেন ডিফেন্ডার আদিল খান। এবার আদিল খানতো বাংলাদেশকে গোল করতেই দিবেন না বলে হুশিয়ারী দিয়েছেন। ভারতীয় মিডফিল্ডার শুভাশিস বোস কলকাতার ম্যাচটিকে আলাদাভাবে মনে রেখেছেন। জামাল ভূঁইয়াদের সঙ্গে খেলে তার উপলব্ধি হয়েছে বাংলাদেশ দলের খেলার মান নিয়েও। ফিফার তালিকায় বাংলাদেশ যদিও ১৮৪তম অবস্থানে, কিন্তু তিনি মনে করেন বাংলাদেশ যথেষ্ট ভালো দল। কেবল ভালো নয়, প্রতি-আক্রমণে খেলে অভ্যস্ত দলটা যে ভারতের জন্য বিপজ্জনক, সেটিও সবাইকে মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি তিনি। ঐতিহাসিকভাবেই ভারত-বাংলাদেশ লড়াইয়ে খেলার বাইরেও অনেক কিছুই থাকে। সে কারণেই ম্যাচটা হয় রোমাঞ্চকর এবং তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তিনি তো সরাসরিই বাংলাদেশকে সমীহ করার কথা বলেছেন।
ভারতীয়দের ‘বাড়তি’ সমীহকে কৌশল হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে। তাই ভারতের এসব কথা আমলে না নিয়ে নিজেদের খেলাকেই ফোকাস করছেন এই বৃটিশ কোচ। উল্টো তিনি ভারতকে শক্তিশালী আখ্যা দিয়ে বলেন, ওদের সবকটি ম্যাচ আমি দেখেছি। সবশেষ কাতারের সঙ্গে ১-০ গোলে হারা ম্যাচে দারুণ ফুটবল খেলেছে ভারত। ওরা এই ম্যাচে অনেক এগিয়ে থেকেই মাঠে নামবে। তবে আমাদের চেষ্টা থাকবে নিজেদের সেরাটা দিয়ে ওদের কাছ থেকে পয়েন্ট কেড়ে নেয়া। বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া অবশ্য কোচের মতো এতোসব বুঝতে রাজি না। তার চাওয়া একটাই ‘জয়’। সেটা করতে ছেলেরা প্রস্তুত আছে জানিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা গ্রুপিং হওয়ার পরই আফগানিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে পয়েন্টের আশা করেছিলাম। প্রথম লেগে ভারতের বিপক্ষে পয়েন্ট পেলেও ভাগ্য সহায় না থাকায় আফগানদের বিপক্ষে পাইনি। এবার দূর্দান্ত খেলে পয়েন্ট কেড়ে নিয়েছি।। ভারত ম্যাচেও পাবো আশা করছি।’
এ ম্যাচে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাংলাদেশ কিন্তু একটা ব্যাপার নিয়ে আলাদা করেই ভাবছে। সেটি ভারতের অধিনায়ক সুনীল ছেত্রীর কারিশমা। এই তারকা ফুটবলার সামপ্রতিক অতীতে অন্তত দুটি ম্যাচে জয়-বঞ্চিত করেছেন বাংলাদেশকে। এছাড়া ভারতের গোলরক্ষক গুরপ্রিত সিং সান্ধুকে নিয়েও জেমি যে আলাদা কাজ করছেন তা মুখে না বললেও অনুমেয়।
বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে এখন পর্যন্ত ২ পয়েন্ট পেয়েছে বাংলাদেশ। যার একটি এসেছে ভারতের সঙ্গে ড্র করে। ভারতের পাওয়া তিন পয়েন্টও এসেছে ড্র থেকে। তারা বাংলাদেশ ছাড়া ড্র করেছে কাতার ও আফগানিস্তানের সঙ্গে। দুই দলেরই বিশ্বকাপ বাছাইয়ে তৃতীয় রাউন্ডে খেলার আশা ফুরিয়েছে। যতটুকু আশা জিইয়ে রয়েছে তা এশিয়ান কাপের। সেটা নিশ্চিত করতে এই ম্যাচে দুই দলেরই প্রয়োজন তিন পয়েন্ট। এই তিন পয়েন্ট পেতে আজও কৌশলে পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশের হেড কোচ জেমি ডে। রক্ষণটাকে আঁটসাঁট রেখে দলে ৪-২-৩-১ ফরমেশনে খেলাতে চাইছেন এই বৃটিশ কোচ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই ফরমেশনে খেলেই সুফল পেয়েছে বাংলাদেশ। ভারত ম্যাচে যথারীতি গোল পোস্টে থাকছেন আনিসুর রহমান জিকু। সামনে দুই সেন্টারব্যাক প্রথম ম্যাচের গোলদাতা তপু বর্মণ ও রিয়াদুল হাসান রাফি। লেফটব্যাক রহমত মিয়া আর রাইটব্যাক তারিক কাজী। আফগান ম্যাচে অভিষিক্ত তারেক কাজী নিজেকে আলাদাভাবে চিনিয়েছেন। রক্ষণভাগকে ছায়া দেয়ার জন্য তাদের সামনে দুই হোল্ডিং মিডফিল্ডার অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া আর মাসুক মিয়া জনি। আক্রমণভাগের বাঁ প্রান্তে রাকিব হোসেন ও ডান প্রান্তে থাকবেন বিপলু আহমেদ। এই দুজনের মাঝে প্লেমেকার হিসেবে সোহেল রানার পরিবর্তে খেলবেন মানিক মোল্লা। আর সবার সামনে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে মতিন মিয়া।

1