বল হাতে ঝলক দেখালেন শরিফুল

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকম: অধিনায়ক তামিম ইকবাল একে একে ৭ বোলারকে ব্যবহার করলেন। এর কারণটাও স্পষ্ট। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে একাদশে থাকা স্পেশালিষ্ট ও সিনিয়র বোলাররা তেমন সুবিধা করতে পারছিলেন না। ২৪ ওভারে তিন উইকেটে ১১১ রান নিয়ে বড় সংগ্রহের দিকেই যাচ্ছিলো জিম্বাবুয়ে। তবে এরপরই বল হাতে স্বাগতিকদের বিধ্বংসী রূপ দেখালেন শরিফুল ইসলাম। ক্যারিয়ারের শুরুর তিন ওয়ানডে ম্যাচে তিনি একটি করে উইকেট পেয়েছিলেন। তবে গতকাল ছাড়িয়ে গেলেন নিজেকে। একাই তুলে নিলেন ক্যারিয়ার সেরা ৪ উইকেট।

বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠা ব্রেন্ডন টেইলরের উইকেট নিয়ে তার শুরু। ইনিংসে ১০ ওভারের স্পেলে ৪৬ রানে চার উইকেট নেন ২০ বছর বয়সী পেসার। এতে আড়াই শ’র আগেই থেমে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস।

অন্যদিকে দলকে প্রথম উইকেট উপহার দেয়া পেসার তাসকিন দেখালেন ভীষণ কৃপণতা। ৬০ বল করে দিলেন মাত্র ৩৮ রান। অভিজ্ঞ সাকিব এই ম্যাচে নিজের ঝুলিতে আরো দুটি উইকেট যোগ করেন। মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ও মিরাজের শিকার একটি করে উইকেট। মোসাদ্দেক হোসেন ও আফিফ বল হাতে  পেলেও থাকেন উইকেটশূন্য। টাইগারদের সাত বোলারকে মোকাবিলা করে দলের পক্ষে একমাত্র ফিফটি হাঁকান ওয়েসলি মাধেভেরে। আর প্রচণ্ড ঠান্ডাতেও টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্বান্ত নেয়া অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলর ব্যক্তিগত ৪৬ রানে অদ্ভুতভাবে হন হিট আউট। দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা সিকান্দার রাজা ভাট করেন ৩০ রান।  ইনিংস শেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৪০/৯-এ।
ওয়ানডে বিশ্বকাপের সুপার লীগের অংশ এই সিরিজে জয় দিয়েই মিশন শুরু করে তামিম ইকবালের দল। প্রথম ওয়ানডেতে ১৫৫ রানের জয়ে আদায় করে নিয়েছে ১০ পয়েন্ট। প্রথম ম্যাচে টসে জিতে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক বাংলাদেশ দলকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল। ১৬৭ রানে পাঁচ উইকেট হারানো টাইগাররা শেষ শেষ পর্যন্ত ওপেনার লিটন দাসের সেঞ্চুরিতে ভর করে ৯ উইকেট হারিয়ে  স্কোর বোর্ডে ২৬৭ রান তোলে। জবাব দিতে নামা সফরকারিদের ৫ উইকেট নিয়ে একাই গুড়িয়ে দেন সাকিব আল হাসান। ১-০ থেকে এগিয়ে থেকে তাই গতকাল টাইগারদের সামনে ছিল সিরিজ জয়ের হাতছানি।
গতকাল বিজয়ী একাদশ নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। বল হাতে দুর্দান্ত শুরু করে তাসকিন আহমেদ। ওপেনার টিনাশে কামুনহুকামুয়ে তার বলে পয়েন্টে আফিফ হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর দলীয় ৩৩ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ে অধিনায়কের ব্যাট করার সিদ্ধান্ত। আরেক ওপেনার টাডিওয়ানাশে মারুমানি পঞ্চম ওভারে আউট হতে পারতেন তিনবার। তাসকিনের ওভারে দ্বিতীয় বলে মিড অনে ক্যাচ নিতে পারেননি মাহমুদুল্লাহ, পরের বলে থার্ডম্যান বাউন্ডারিতে বল হাতে নিয়েও ফেলে দেন সাইফুদ্দিন। ওই ওভারেই আরেকবার বল অল্পের জন্য যায়নি বোলার তাসকিনের কাছে। তবে পরে অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বাজেভাবে স্লগ করে বোল্ড হন।
এখান থেকেই দলকে ভরসা দিতে শুরু করেন সফরকারী অধিনায়ক। ধাক্কা সামলে দুই অভিজ্ঞ ব্যটানসম্যান রেজিস চাকাভা ও ব্রেন্ডন টেইলর টাইগারদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে ওঠেন। তবে দলকে স্বস্তি দেন সাকিব ৪৭ রানের এই জুটি ভেঙে।  তার বলে চাকাভা বোল্ড হন ২৬ রান করে। এখানেই শেষ নয়, বড় ধাক্কাটা অপেক্ষা করছিল তাদের জন্য। ফিফটির পথে ছিলেন অধিনায়ক টেইলর। শরিফুলকে লফটেড শটে বাউন্ডারি মারার পরের বলে তিনি চেষ্টা করেন র‌্যাম্প শট খেলার। ব্যাটে-বলে হয়নি। এরপর শ্যাডো করতে গিয়ে বেখেয়ালিতে ব্যাট দোলাতে গিয়ে ফেলে দেন বেলস। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৫৭ বলে ৪৬ করে সাজঘরে ফেরেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক। তবে  এই ধাক্কার পরও লড়াই জমিয়ে  তোলে স্বাগতিকরা।  ডিয়ন মায়ার্স ও মাধেবের এরপর দলকে এগিয়ে নেন একটু। কিন্তু সাকিবের বলে ৩৪ রান করা মায়ার্সের লং অনে ক্যাচ নেন মাহমুদুল্লাহ। তবে তাদের ইনিংসে একমাত্র ফিফটি জুটি আসে এরপরই। অভিজ্ঞ সিকান্দার রাজাকে নামানো হয় সাতে। তার সঙ্গে জুটিতে দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন মাধেবেরে। তরুণ মাধেভেরে আরও একবার তার প্রতিভার ঝলক দেখান দারুণ কিছু শটে। অষ্টম ওয়ানডেতে তৃতীয় ফিফটিতে পা রাখেন ৫২ বলে। এরপর দ্রত রান তুলতে গিয়ে শরিফুলের বলে ক্যাচ দেন। লং অফ থেকে অনেকটা সামনে ছুটে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন তামিম ইকবাল। টাইগারদের তরুণ পেসার শরিফুল শেষ দিকে উইকেট পান আরও দুটি। তার ফুলটসে ক্যাচ দেন লুক জংওয়ে আর শর্ট বলে ব্লেসিং মুজারাবানি।

1