করোনার চেয়ে দ্বিগুণ মৃত্যু উপসর্গে

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:   দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। এখন প্রায় প্রতিদিনই গড়ে আড়াইশ’ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। করোনার পাশাপাশি এর উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। করোনা শনাক্ত রোগীর মৃত্যুর চেয়ে উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন প্রায় দ্বিগুণ মানুষ। করোনা শনাক্ত হওয়ার পর দেশে প্রতিদিন যত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে তার হিসাব মিলছে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে। তাদের নাম সরকারি তালিকায়ও থাকছে। সরকারি হিসাব মতে, করোনায় গত ১৭ মাসে প্রায় ২৩ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এই সংখ্যা ছাড়াও আরও অনেকেই মারা যাচ্ছে উপসর্গ নিয়ে।

যা হিসাবের খাতায় নেই। দেশের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে জুলাই মাসে মোট মৃত্যুর প্রায় ৬৩ শতাংশ মারা গেছে উপসর্গ নিয়ে। আর করোনার পজেটিভ রোগী এই সময়ে মারা গেছেন ৩৭ শতাংশ। জুলাই মাসে দেশের চিকিৎসাসেবার এই বৃহৎ হাসপাতালে করোনা পজেটিভ ও উপসর্গ (সন্দেহজনক করোনা) মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ৬৪২ জন। এরমধ্যে উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৪০২ জন। বাকি ২৪০ জন করোনা পজেটিভ রোগী ছিলেন।  চলতি আগস্টের ৮ দিনে হাসপাতালটিতে করোনা ইউনিটে মোট ১৫৩ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে উপসর্গ নিয়ে ৭৪ জন এবং করোনা পজেটিভ হয়ে ৭৯ জনের মৃত্যু হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপসর্গে মারা যাওয়ার সংখ্যাটাও বড়। শুধু এবারই নয়, এর আগে আরও দুই দফা দেশে যখন উচ্চমাত্রার সংক্রমণ হয়েছিল, তখনো উপসর্গে মৃত্যুর হিসাবটা এমনটাই ছিল বলে জানান করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার তথ্য পর্যবেক্ষণকারী গবেষকরা। গত কয়েকদিনে দেশে করোনা সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় প্রতিদিনই শনাক্ত হওয়া মৃত্যুর সঙ্গে বাড়ছে উপসর্গে মৃত্যুও। কোনো কোনো এলাকায় শনাক্ত মৃত্যুর পাশাপাশি উপসর্গে মৃত্যুর তথ্যও মিলছে; যারা সবাই ওই হাসপাতালগুলোর করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে ভর্তি থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিল।

ঢাকা  মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ইউনিট-২) ও বার্ন ইউনিটে করোনা রোগীর চিকিৎসা দেয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাসে হাসপাতালটিতে করোনায় এবং উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৪২ জন মারা গেছেন। এরমধ্যে করোনা পজেটিভ ছিলেন ২৪০ জন। বাকি ৪০২ জন উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে হাসপাতালটির পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে। তথ্য মতে, ঢামেকে ৩১শে জুলাই করোনায় মারা যান ৭ জন এবং উপসর্গে ১৩ জন, ৩০শে জুলাই করোনায় ৬ জন এবং উপসর্গে ৭ জন, ২৯শে জুলাই করোনায় ৩ জন এবং উপসর্গে ১৮ জন, ২৮শে জুলাই করোনায় ১৩ জন এবং উপসর্গে ১১ জন, ২৭শে জুলাই করোনায় ৭ জন এবং উপসর্গে ১৪ জন, ২৬শে জুলাই করোনায় ১১ জন এবং উপসর্গে ১৩ জন, ২৫শে জুলাই করোনায় ১০ জন এবং উপসর্গে ১৪ জন, ২৪শে জুলাই করোনায় ৫ জন এবং উপসর্গে ১৫ জন, ২৩শে জুলাই করোনায় ১৩ জন এবং উপসর্গে ১৫ জন, ২২শে জুলাই করোনায় ১০ জন এবং উপসর্গে ২৩ জন, ২১শে জুলাই করোনায় ৬ জন এবং উপসর্গে ১০ জন, ২০শে জুলাই করোনায় ১৫ জন এবং উপসর্গে ১৬ জন, ১৯শে জুলাই করোনায় ৬ জন এবং উপসর্গে ১৩ জন, ১৮ই জুলাই করোনায় ৬ জন এবং উপসর্গে ১৪ জন, ১৭ই জুলাই করোনায় ১২ জন এবং উপসর্গে ১৪ জন, ১৬ই জুলাই করোনায় ১১ জন এবং উপসর্গে ১৩ জন, ১৫ই জুলাই করোনায় ৮ জন এবং উপসর্গে ১৩ জন, ১৪ই জুলাই করোনায় ৭ জন এবং উপসর্গে ১৭ জন, ১৩ই জুলাই করোনায় ৮ জন এবং উপসর্গে ১২ জন, ১২ই জুলাই করোনায় ৭ জন এবং উপসর্গে ১৩ জন, ১১ই জুলাই করোনায় ৮ জন এবং উপসর্গে ১৫ জন, ১০ই জুলাই করোনায় ৯ জন এবং উপসর্গে ১৫ জন, ৯ই জুলাই করোনায় ৭ জন এবং উপসর্গে ৯ জন, ৮ই জুলাই করোনায় ৮ জন এবং উপসর্গে ১৫ জন, ৭ই জুলাই করোনায় মারা যান ৫ জন এবং উপসর্গে ৯ জন, ৬ই জুলাই করোনায় ৬ জন এবং উপসর্গে ১০ জন, ৫ই জুলাই করোনায় ৭ জন এবং উপসর্গে ১১ জন, ৪ঠা জুলাই করোনায় ৬ জন এবং উপসর্গে ৯ জন, ৩রা জুলাই করোনায় ৩ জন এবং উপসর্গে ১৮ জন, ২রা জুলাই করোনায় ৪ জন এবং উপসর্গে ৬ জন এবং ১লা জুলাই করোনায় ৬ জন এবং ৭ জন উপসর্গ নিয়ে মারা যান।
অন্যদিকে আগস্ট মাসের ৮ দিনে ঢামেকের করোনা ইউনিটগুলোতে মোট মারা গেছেন ১৫৩ জন। এদের মধ্যে করোনার উপসর্গ নিয়ে ৭৪ জন এবং করোনা পজেটিভ রোগী ছিলেন ৭৯ জন। তথ্য মতে, ৮ই আগস্ট করোনায় ৭ জন এবং উপসর্গে ১২ জন, ৭ই আগস্ট করোনায় ১২ জন এবং উপসর্গে ৬ জন, ৬ই আগস্ট করোনায় ১১ জন এবং উপসর্গে ৪ জন, ৫ই আগস্ট করোনায় ১৬ জন এবং উপসর্গে ১০ জন, ৪ঠা আগস্ট করোনায় ১০ জন এবং উপসর্গে ১৪ জন, ৩রা আগস্ট করোনায় ৪ জন এবং উপসর্গে ১০ জন, ২রা আগস্ট করোনায় ৯ জন এবং উপসর্গে ৮ জন এবং ১লা আগস্ট করোনায় ১০ জন এবং উপসর্গ নিয়ে ১০ জন মারা গেছেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, করোনার উপসর্গ নিয়ে যারা মারা যান, তাদের ক্ষেত্রে পরীক্ষা করা হয় না অথবা পরীক্ষার ফলাফল আসার আগেই রোগীর মৃত্যু হয়। এর একটি কারণ নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে চাপ অনেক বেশি। জেলা পর্যায়ে এক বা দুই দিনের মধ্যে পরীক্ষা করা ও ফলাফল পাওয়া দুষ্কর। গ্রামের মানুষ রোগীদের এমন সময়ে হাসপাতালে নিয়ে যান, যখন অবস্থা গুরুতর পর্যায়ে চলে যায়। এতে পরীক্ষা ও ফল পেতে সময় পাওয়া যায় না। উপসর্গ নিয়ে মৃতের তালিকায় যাদের নাম ওঠানো হচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টের সমস্যা বেশি পাওয়া যায়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এসব রোগীর জ্বর, সর্দি ও কাশির মতো উপসর্গও থাকছে। তবে তা শুরুর দিকে বেশি দেখা যায়। পরে রোগীর তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে স্বজনেরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। অবশ্য কারও কারও ক্ষেত্রে মাথাব্যথা, গলাব্যথা, ঘ্রাণশক্তি না থাকা ও স্বাদ না পাওয়ার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে।
এদিকে, করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বাড়ার চিত্র উঠে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের (সিজিএস) প্রতিবেদনেও। সংস্থাটি দেশে মহামারির শুরু থেকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে করোনা নিয়ে দুই সপ্তাহ পর পর প্রতিবেদন দিয়ে আসছে।

1