রেকর্ড এবং সিরিজ সেরা হয়ে বিশ্বকাপের ছবি আঁকছেন সাকিব

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:   চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ব্যাট ও বল হাতে সাকিব আল হাসানের পারফরমেন্স ঠিক ‘সাকিবীয়’ ছিল না। সেদিন ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলেছিলেন, ‘সাকিব চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটার। সে ঘুরে দাঁড়াবেই।’ রিয়াদের কথার মতোই চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটারের মতো প্রত্যাবর্তন করলেন সাকিব। ব্যাট হাতে যদিও সেরাটা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে বোলিংয়ে সেটা পুষিয়ে দিয়েছেন। ৩.৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে মাত্র ৯ রানে তুলে নেন অস্ট্রেলিয়ার ৪ উইকেট। এরমধ্যে একটি ওভার করেছেন উইকেট মেডেন। ম্যাচসেরার সঙ্গে সিরিজ সেরাও হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ছুঁয়েছেন ১ হাজার রান ও ১০০ উইকেটের ডাবল। ব্যক্তিগত পারফরমেন্সে পুরো সিরিজে ছিলেন উজ্জ্বল। দলও সিরিজ জিতেছে ৪-১ ব্যবধানে। জিম্বাবুয়ে সফরে তাদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পর সেই ধারা অব্যাহত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও। সাকিব তাই স্বপ্ন দেখছেন অক্টোবরে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে।

অস্ট্রেলিয়া প্রথম সারির ক্রিকেটারদের ছাড়াই বাংলাদেশ সফরে এসেছিল। বাংলাদেশ দলেও ছিলেন না মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। ঘরের মাঠে স্লো-টার্নিং উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হবে আরব আমিরাতে। ব্যাটিং উইকেটে হবে বিশ্বকাপের আসর। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতলেও বাংলাদেশের ‘আদর্শ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি’ নিয়ে তাই প্রশ্ন উঠেছে। তবে সাকিবের ভাবনা অন্যরকম। তিনি বলেন, ‘স্কোরকার্ড দেখে হয়তো অতটা আত্মবিশ্বাসী মনে নাÑও হতে পারে। তবে জিম্বাবুয়ে সিরিজ জয়, এখানে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়, এরপর নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে (সিরিজ) আছে। এসব আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস জোগাবে বিশ্বকাপের দিকে এগিয়ে চলার পথে। আমার মনে হয়, ভালো প্রস্তুতিই হবে। যদিও ব্যাটসম্যানদের হয়তো অত বেশি রান হবে না, যেহেতু আমরা মন্থর, নিচু বাউন্স ও টার্নিং উইকেটে খেলছি। কিন্তু দলের জয়ই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই আত্মবিশ্বাসটা থাকলে দলের ভেতর মানসিকতা অনেক ভালো থাকে এবং জেতার যে মানসিকতা, তা তৈরি হয়।’

প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ উইকেট ও হাজার রানের রেকর্ড গড়েছেন। জিম্বাবুয়ে সফরে ওয়ানডে সিরিজে হয়েছিলেন সিরিজসেরা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও সিরিজ সেরার খেতাব জিতলেন। অজিদের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচে ১১৪ রান ও ৭ উইকেট শিকার সাকিবের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিবের সিরিজ সেরার সংখ্যা এখন ১৬। যা তৃতীয় সর্বোচ্চ। দুইয়ে থাকা বিরাট কোহলি সিরিজের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন ১৭ বার। ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান শচীন টেন্ডুলকার ১৯ বার সিরিজ সেরা হয়ে রয়েছেন সবার উপরে।

তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ড্যানিয়েল ক্রিস্টিয়ান সাকিবের ওভারে নিয়েছিলেন ৩০ রান। ৪ ওভারে ৫০ রান দিয়েছিলেন সাকিব। ১০৫ রানের লক্ষ্য টপকাতে গিয়ে সাকিবের ওভার থেকেই প্রায় অর্ধেক রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। বিবর্ণ বোলিং পারফরমেন্সের কারণে চাপে ছিলেন সাকিব। দ্রুতই ছন্দে ফেরার রহস্য জানিয়েছেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘বাড়তি অনুপ্রেরণা থাকে যখন বড় বড় দলের সঙ্গে খেলা হয়, যারা সাধারণত আমাদের দেশে সফরে আসে না নিয়মিত, তাদের সঙ্গে খেলা হলে একটু বাড়তি অনুপ্রেরণা তো থাকেই। যেহেতু আমাদের জিম্বাবুয়েতে একটা ভালো সিরিজ গিয়েছে এবং সবাই খুব অনুপ্রাণিত ছিল যে এই সিরিজটাও আমাদের ভালো করতে হবে, যেহেতু আমরা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কখনো সিরিজ জিতিনি এবং এটা একটা সুযোগ ছিল, তাই আমরা সবাই চেয়েছিলাম যেন দলগতভাবে ভালো করতে পারি। সেটাই হয়েছে।’

1