আইভির পদত্যাগে সময় বেঁধে দিয়েছে জয় বাংলা নাগরিক কমিটি

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:  শহর রক্ষার আন্দোলন নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া জয় বাংলা নাগরিক কমিটি এবার নারায়ণগঞ্জের বর্তমান মেয়র সেলিনা হায়াত আইভির পদত্যাগে সময় বেঁধে দিয়েছে। তাঁরা বলছে, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শুভ বুদ্ধির উদয় ঘটিয়ে তিনি পদত্যাগ করুক।

অন্যদিকে জয় বাংলা নাগরিক কমিটি বলছে, জয় বাংলা নাগরিক কমিটি হল, একটি কমিটি। সুস্পষ্ট ভাবে বলা হচ্ছে, এই পরিক্রমাকে কেহ ‘সংগঠন’ বলে চালাতে যাবেন না। যে কমিটির কাজ হল নারায়ণগঞ্জ শহরের জন্য করণীয় দিক নিয়ে সুপারিশ রাখার প্রেক্ষাপট। জয় বাংলা নাগরিক কমিটি মনোনীত কোন ব্যক্তি বিশেষকে যদি আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়ে থাকে, তবে ধরেই নিতে হবে এই নারায়ণগঞ্জ শহর কেন্দ্রিক বাসিন্দাদের নাগরিক অধিকার আদায়কল্পে ওই মেয়র প্রার্থীকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে এবং তা বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। সত্যিকারের আধুনিক নগরী হিসাবে আমরা নারায়নগঞ্জকে দেখতে চাই। আমাদের এই পথচলায় তিনটি আবেগময় বাস্তবতা রয়েছে। এক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। দুই, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং তিন, শেখ হাসিনার উন্নত নেতৃত্ব।

শনিবার নারায়ণগঞ্জে জয় বাংলা নাগরিক কমিটির কেন্দ্রিয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন থেকে বলা হয়, আগামী ২৩ আগস্ট হরতাল পালন নয়, এদিন অনশন কর্মসূচীতে থাকা হবে। গেল ১২ আগস্ট জয় বাংলা নাগরিক কমিটি সংবাদ সম্মেলন করেছিল। তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্তে হরতালের মত কর্মসূচী দেয়া হলেও শোকাবহ আগস্টের মাসে এমন উদ্যোগটি সাংঘর্ষিক পর্যায়ে পৌঁছিয়ে যেয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সঙ্গত যুক্তিতে একজন নাসিক মেয়র হিসাবে জনাব সেলিনা হায়াত আইভিকে পদত্যাগের জন্য কিছুটা সময়ও দেয়া উচিত বলে মনে করে জয় বাংলা নাগরিক কমিটি। শুভ বুদ্ধির উদয় ঘটিয়ে তিনি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় নিক। আমরা সে পর্যন্ত অপেক্ষা করব। যদি তিনি ওই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করেন, তবে ১৬ সেপ্টেম্বর আমরা বড় ধরণের আন্দোলনের ডাক দেব। যার মধ্যে হরতালও একটি অধ্যায়। অন্যদিক গুলোও আছে। কারণ, নগরবাসী পরিবর্তনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। তাঁরা হরতাল চায়, তাঁর পদত্যাগ চায় এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনও চায়। এমন তিনটি অনিবার্য দাবীতে ২৩ আগস্ট চাষাড়া চত্বরে অনশন কর্মসূচী পালনে থাকা হবে। সকালের নাশতা না খেয়ে ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষকে প্রত্যাশা করে নয়, জয় বাংলা নাগরিক কমিটির ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির নেতাকর্মীরা সেই অনশনে যোগ দিবে। সেখানে সাধারণ মানুষেরা যোগ দিলেও তা এক ধরণের দৃষ্টান্ত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জোনায়েদ হোসেন জুম্মন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মোস্তাক আহমেদ। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহবায়ক হুমায়ুন কবীর, মিতা প্রধান, সেলিনা শিউলি, ইমরান রোমান সহ প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলন এর শুরুতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে ২১ আগস্টে গেনেড হামলায় নিহত শহীদদের স্মরণে মোনাজাত ধরা হয়।

লিখিত বক্তব্যটি সংযুক্ত করা হলঃ

উপস্থিত সংবাদকর্মী ভাই ও বোনেরা

সালাম গ্রহণ করুন। আজ ২১ আগস্ট ২০২১। শোকাবহ আগস্টের সাংস্কৃতিক আর্তনাদ তো রয়েছেই। রয়েছে আজকের দিনেও মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তির অযাচিত হস্তক্ষেপে বর্বর ও নৃশংস রুপের বাস্তবতাও। আগস্ট মাস টি এলেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের অকাল প্রস্থানের ভয়াবহ সেই ১৫ আগস্টের কথা মনে করে ভাল থাকা যায় না। ঠিক একইভাবে ২০০৪ সালের এই দিনে গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনাকেও পর্যন্ত হত্যা করতে বিএনপি- জামায়াতের কথিত জোট উদ্যোগী হয়েছিল।সেই সরকার ইতিহাসের আঁধারময় অপরাহ্ণকে আলিঙ্গন করে বুঝিয়ে দিয়েছিল, তাঁরা বাংলাদেশকে ভালবাসে না, ভালবাসতে পারে না।

জয় বাংলা নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে আমাদের জাতির জনক হতে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সকল নেতাকর্মীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।যাদের মহান আত্মত্যাগে আমরা বাংলাদেশ পেয়েছিলাম। ২১ আগস্টে নিহত সকল শহীদদের প্রতি জানাই অনিশেষ শ্রদ্ধা। অতি অবশ্যই সেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ অবশ্যি এগিয়েও যাচ্ছে। যাকে চিরতরে বিদায় জানাতে এক সামরিক শাসকের পুত্রের অনভিপ্রেত উদ্যোগে বাংলাদেশ হারায় জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিক বর্গকে ও অসংখ্য নেতাকর্মীদেরকে। আজও গ্রেনেডের স্প্রিন্টার নিয়ে অনেক নেতা কর্মী সুস্থ জীবনে থাকতে পারেনি , পারছে না। তবে রাজনৈতিক অপশক্তিকে রুখে দিয়ে আমাদের গর্ব শেখ হাসিনা দেশের সেবিকা হিসাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এখানেই বেঁচে থাকা। টিকে থাকা। এখানেই জিতে যায় জাতীয় স্লোগান জয় বাংলা। যে চেতনার ওপর ভর করে কবি নজরুল তাঁর কবিতায় একদিন জয় বাংলা উচ্চারণে ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ মার্চের ভাষণে তাঁর দরাজ কন্ঠ দিয়ে বাঙালি জাতিকে এককাট্টা করার সময়েও দীপ্ত উচ্চারণে থেকে বলেছিলেন, জয় বাংলা ! জয় বাংলা, আমাদের জাতীয় স্লোগান।

সুপ্রিয় সংবাদকর্মী বৃন্দ

নারায়ণগঞ্জ শহর রক্ষার আন্দোলনে জয় বাংলা নাগরিক কমিটি ইতোমধ্যে আত্মপ্রকাশ করেছে। এটি একটি কমিটি। সুস্পষ্ট ভাবে বলা হচ্ছে, এই পরিক্রমাকে কেহ ‘সংগঠন’ বলে চালাতে যাবেন না। এটি একটি কমিটি। যে কমিটির কাজ হল নারায়ণগঞ্জ শহরের জন্য করণীয় দিক নিয়ে সুপারিশ রাখার প্রেক্ষাপট। জয় বাংলা নাগরিক কমিটি মনোনীত কোন ব্যক্তি বিশেষকে যদি আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়ে থাকে, তবে ধরেই নিতে হবে এই নারায়ণগঞ্জ শহর কেন্দ্রিক বাসিন্দাদের নাগরিক অধিকার আদায়কল্পে ওই মেয়র প্রার্থীকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে এবং তা বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। তেমন উদ্যোগে যেয়ে ২০১৯ সাল থেকেই আমরা জনাব কামরুল ইসলাম বাবুকে বলে আসছিলাম যে, আপনি প্রার্থী হতে পারেন। কারণ, আপনি নির্দিষ্ট কোন দলের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকলেও আপনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী ব্যক্তিসত্তা। আপনি বঙ্গবন্ধু পাগল একজন মানুষ। তিনি প্রাথমিক ভাবে সম্মতি না দিলেও ২০২১ সালের দিকে এসে আসন্ন নাসিক নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যা জয় বাংলা নাগরিক কমিটিকে স্বস্তি দিয়েছে। কারণ, এই নারায়ণগঞ্জ শহর ঘিরে অযুত পরিকল্পনা করে বদলে দিতে চাই আমরা এই নগরকে। সত্যিকারের আধুনিক নগরী হিসাবে আমরা নারায়নগঞ্জকে দেখতে চাই। আমাদের এই পথচলায় তিনটি আবেগময় বাস্তবতা রয়েছে। এক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। দুই, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং তিন, শেখ হাসিনার উন্নত নেতৃত্ব।

প্রিয় সংবাদকর্মী ভাই ও বোন

দুঃখজনক হলেও সত্যি নারায়ণগঞ্জের বর্তমান মেয়র হিসাবে যিনি রয়েছেন, তিনি তিনটি আবেগকে ধারণ করতে পারেন নাই, পারছেন না। তিনি যদি সত্যিকার অর্থে মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করতেন, তাহলে কেন তাঁর সাথে স্বাধীনতা বিরুদ্ধ শক্তি এবং রাজনৈতিক অপশক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ব্যক্তি বিশেষদের সাথে তাঁর সম্পর্ক থাকবে ? কেন তিনি তাঁদেরকে প্রশ্রয় ও আশ্রয় দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চান? কেন তাঁর সাথে বেগম খালেদা জিয়ার সম্পর্ক থাকবে? কেন তাঁর মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিএনপি-জামায়াতের কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা বুক ফুলিয়ে বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে বলবে, এই যে আমরা এখন নির্বাচিত কাউন্সিলর। কেন?

তিনি কি সত্যিই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করেন? তাঁর আদর্শকে লালন করেন? যদি তাই হত, তবে কেন তিনি এতটা সময় পেয়েও নারায়ণগঞ্জকে বদলে দিতে পারেন নাই? তাহলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা স্বপ্নেই থেকে গেছে। হ্যাঁ, এই নারায়ণগঞ্জের বাস্তবতায়। তিনি এই শহরকে ঘিরে স্বপ্ন বুননের রাস্তায় পথিক হতে পারেন নি। পরিকল্পিত উদ্যোগে ভাসতে পারেন নাই। তাই সোনার নারায়ণগঞ্জ গড়ে উঠে নাই। তিনি সোনায় মুড়িয়েছেন। কি এবং কোথায় ? হ্যাঁ, নিজের স্বার্থকে বড় করে দেখে এখন বুর্জুয়া শ্রেণির কথিত রাজনীতিক হয়ে উঠেছেন। দানবী হয়ে গেছেন। জনপ্রতিনিধি হিসাবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেন নাই। এই শহর তাই এখন অপরিচ্ছন্নতার শহর। এই নগরীতে একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার শহর। এই প্রাচীন শহরের কৃষ্টি বিলুপ্তির পথে হেটে যেয়ে এখন মাদকময় ছোবলে ঝুলে থাকা এক শহর, যে শহর নিশিতে কান্না করে। এই শহর সবুজময় হয়ে ওঠে নাই। এই শহর যখন বন্দর নগরী হিসাবে সারা দেশে পরিচিত, তখন তিনি এক বন্দর দিয়ে প্রতিদিন চাঁদা তুলে ওই সেই ধনী শ্রেণির অংশ হয়ে গিয়েছেন। ক্ষমতার দাপট দেখাতে যেয়ে এখানে তাই সাত খুন হয়ে গেলেও তিনি দিব্যি আছেন, সুখে আছেন। তাহলে কি প্রমাণ হয় না, তিনি বঙ্গবন্ধুকে কার্যত ধারণ করেন না।

বর্তমান মেয়রের সবচাইতে বড় অহংকার হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তিনি দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও সম্মান করতে পারছেন না। সূত্র বলছে, তিনি অহংকার নিয়ে বলে থাকেন, নারায়ণগঞ্জ শহরে আমার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে একজন শেখ হাসিনা এলেও পরাভূত হবেন। এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি কি ডাক দেয় ? কী বার্তা রাখে ? তিনি আসলে কার লোক ? কোন দলের নেত্রী ? গবেষণা বলছে, উন্নয়নের অভিযাত্রায় যে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু তনয়ার হাত ধরে এগিয়ে যাচ্ছে, আর একজন সেলিনা হায়াত আইভিই হলেন দায়িত্বশীল পর্যায়ে থেকেও অন্যতম পিছিয়ে পড়া চরিত্র, যিনি পাল্লা দিয়ে মোটেই শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার উদ্যোগে থাকতে পারছেন না। সেই তিনি বলে বেড়ান, নাসিক নির্বাচনে আমার কাছে শেখ হাসিনাও পরাভূত হবেন। না, জয় বাংলা নাগরিক কমিটি তা বরদাশত করবে না। কার্যকরী পদক্ষেপে যাবে। শহরকে রক্ষা করার সময় এসেছে। এই শহরের নেতৃত্বে ধর্মীয় উগ্রবাদী শক্তির উত্থান হতে পারে তাঁর হাত ধরে। ঢাকার অদুরে শহর হওয়াই , এখান থেকেই সাম্প্রদায়িক শক্তি জাতীয় রাজনীতিতে ভুমিকা রেখে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টে ভুমিকা রেখে ফেলতে পারে। যা বন্ধ হওয়া দরকার। কাজেই জয় বাংলা নাগরিক কমিটি শুধু এই নগরের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা প্রদানেই সচেষ্ট থাকবে না, তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভেসে থেকে যেকোন ধরণের রাজনৈতিক অপশক্তিকেও মোকাবেলা করবে। বলাবাহুল্য, জাতীয় রাজনীতিতে আজকাল বাম বলয়ের সাথে অতি আস্তিক শক্তির সখ্যতাও দেখা যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জেও ঠিক যেন তাই। বলা হচ্ছে, প্রগতির কথা কিন্তু, প্রতিক্রিয়াশীল চক্রদের সাথে হাত মিলিয়ে যিনি রাজনীতি করছেন, তাঁকে চিনে ফেলেছে জনশ্রেণি। তিনি তাই সারাদিনে রফিউর রাব্বীর মনের কষ্টের ভেলায় ভেসে যান কিন্তু রাত হলেই দাঁত কেলিয়ে মৌলবাদী শক্তির প্রেমে মশগুল হয়ে পড়েন। এই দ্বিমুখী বিশিষ্টতার কারণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর গোয়েন্দা নজরদারী বাড়াতে হবে। এমনিতেই হাঁড়ির খবর বের হচ্ছে। তাঁর দুর্নীতি ও স্বজনপ্রিয়তার খবর।

জয় বাংলা নাগরিক কমিটি, আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলেও আহবায়ক ও সদস্য সচিব পদে কাউকে নিযুক্ত না করে এগোচ্ছে। এই কমিটিতে যে কাউকে স্থান দেয়ার সুযোগ নেই। আগামী ১৭ অক্টোবর জয় বাংলা নাগরিক কমিটির পূর্ণতা পাবে। কারণ, সেদিন ১০০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির নাম ঘোষণা করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতিকসহ সব ধরণের পেশাভিত্তিক সমাজের প্রতিনিধিদের এখানে জায়গা মেলার সুযোগ আছে। অক্টোবর, ২০২১ -এ নগরকেন্দ্রিক ভাবনায় সিক্ত হওয়া চরিত্র কামরুল ইসলাম বাবু তাঁর প্রথম নির্বাচনী ইশতেহার প্রদান করবে। দ্বিতীয় কিংবা শেষটি দিবেন আরো পরে। আমরা মনে করছি, নগরীর জন্য যথাযুক্ত পরামর্শ এবং সুপারিশ তাঁকে আমরা দিতে পেরেছি। তিনি ও তাঁর গবেষণা দল এই ইস্যুতে বিস্তর কাজ করছেন ।

জয় বাংলা নাগরিক কমিটি আহুত কর্মসূচীঃ

২৩ আগস্ট অর্ধদিবস হরতাল পালন নয়। গেল ১২ আগস্ট জয় বাংলা নাগরিক কমিটি সংবাদ সম্মেলন করেছিল। তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্তে হরতালের মত কর্মসূচী দেয়া হলেও শোকাবহ আগস্টের মাসে এমন উদ্যোগটি সাংঘর্ষিক পর্যায়ে পৌঁছিয়ে যেয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সঙ্গত যুক্তিতে একজন নাসিক মেয়র হিসাবে জনাব সেলিনা হায়াত আইভিকে পদত্যাগের জন্য কিছুটা সময়ও দেয়া উচিত বলে মনে করে জয় বাংলা নাগরিক কমিটি। শুভ বুদ্ধির উদয় ঘটিয়ে তিনি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় নিক। আমরা সে পর্যন্ত অপেক্ষা করব। যদি তিনি ওই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করেন, তবে ১৬ সেপ্টেম্বর আমরা বড় ধরণের আন্দোলনের ডাক দেব। যার মধ্যে হরতালও একটি অধ্যায়। অন্যদিক গুলোও আছে। কারণ, নগরবাসী পরিবর্তনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। তাঁরা হরতাল চায়, তাঁর পদত্যাগ চায় এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনও চায়। এমন তিনটি অনিবার্য দাবীতে ২৩ আগস্ট চাষাড়া চত্বরে অনশন কর্মসূচী পালনে থাকা হবে। সকালের নাশতা না খেয়ে ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষকে প্রত্যাশা করে নয়, জয় বাংলা নাগরিক কমিটির ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির নেতাকর্মীরা সেই অনশনে যোগ দিবে। সেখানে সাধারণ মানুষেরা যোগ দিলেও তা এক ধরণের দৃষ্টান্ত হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

1