আফগান-পাকিস্তান সীমান্তে বন্দুকযুদ্ধ, নিহত চার

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: আফগান সীমান্তে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দুই সদস্য। এর জবাবে পাকিস্তানের সেনারা হামলাকারীদের কমপক্ষে ২ জনকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। সব মিলে উভয়পক্ষে কমপক্ষে ৪ জন নিহত হয়েছেন। ১০ দিন আগে তালেবানরা কাবুল দখলে নেয়ার পর এটাই এমন প্রথম হামলা। এ বিষয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বলেছে, তারা প্রতিশোধ নিয়েছে এবং পাল্টা হামলায় দুই থেকে তিন হামলাকারী নিহত হয়েছে। তবে এই দাবির সত্যতা যাচাই করা যায়নি। কারণ, পাকিস্তানের সঙ্গে আফগান সীমান্তের বেশির ভাগই উপজাতি অধ্যুষিত। সেখানে সাংবাদিক ও মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলোর প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আছে।

এ খবর দিয়ে অনলাইন আল জাজিরা বলছে, সীমান্তে গোলাগুলির এই ঘটনা ঘটে পাকিস্তানের বাজাউর জেলায় রোববার।

ওই অঞ্চলটিতে কোনো আইন শৃংখলার বালাই নেই। এখানে বসবাসকারী উপজাতিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তারা আফগান যোদ্ধাদের, এমনকি পাকিস্তানের তালেবানদের (টিটিপি) আশ্রয় দেয়। কাবুলের পতনের পর আফগানিস্তানের তালেবানদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে টিটিপি। সম্প্রতি তারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রচারণা বৃদ্ধি করেছে। তবে রোববারের ওই হামলার জন্য কোন গ্রুপ দায়ী সে সম্পর্কে কিছু বলেনি পাকিস্তান। দেশটির সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গুলি করার কারণে সন্ত্রাসীদের ২-৩ জন নিহত এবং ৩-৪ জনকে আহত করা হয়েছে।

এতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের মাটি সন্ত্রাসীদের ব্যবহারের নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, আফগানিস্তানের বর্তমান ও ভবিষ্যত সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এমন কর্মকা- অনুমোদন করবে না।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ আহমেদ বলেছেন, ইসলামাবাদ প্রত্যাশা করে, তালেবানরা পাকিস্তানকে একটি নিশ্চয়তা দেবে। তা হলো, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার লঞ্চপ্যাড হিসেবে টিটিপি’কে আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে দেবে না তারা। জুলাইয়ে পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে আত্মঘাতী হামলা চালানোর জন্য পাকিস্তানি তালেবানদের দায়ী করে ইসলামাবাদ। তারা আফগানিস্তানকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে এসব হামলা করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই হামলায় চীনা ৯ কর্মী এবং পাকিস্তানি চারজন নিহত হন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল বাবর ইফতিখার শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা আশা করি আফগানিস্তানে যেসব ঘটনা ঘটছে, তাকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে পাকিস্তানেও।

ওদিকে তালেবান মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আফগানিস্তানকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহার করতে দেবে না তালেবানরা।

1