বয়সভিত্তিক নাগরিক অধিকার প্রবর্তন করতে চান জয় বাংলার মেয়র প্রার্থী বাবু

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:  এবার আলোচিত মেয়র প্রার্থী কামরুল ইসলাম বাবু বন্দর এলাকায় গণসংযোগ করলেন। সোমবার খুব সকাল করে জয় বাংলা নাগরিক কমিটির নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে শুরু করলেন পথসভা ও প্রাত্যহিক কার্যক্রম। এদিন তিনি বন্দরবাসীর ২৫ ও ২৪ নং ওয়ার্ডের অধিবাসীদের বললেন, বয়সভিত্তিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

বাবু জোরালো কন্ঠে কয়েকটি পথসভায় বললেন, “এই শহরের যাদের বয়স ১২ থেকে ১৮, তাঁদের জন্য আমরা বিনোদন ও শিক্ষামুলক কি কি কাজে অনুপ্রাণিত করতে পারি তার জন্য আলাদা করে পরিকল্পনা করে রেখেছি। তাঁদেরকে নৈতিকতার রাস্তায় নিয়ে যেতে খেলার জন্য মাঠ নিশ্চিত করতে হবে। সংস্কৃতিমনা হয়ে তাঁরা যেন তাঁদের মেধার বিকাশে যেয়ে ভাল শিল্পী, আবৃত্তিকার হতে পারে। তাঁরা শিক্ষা পাঠ্যক্রম রপ্ত করে মানুষ হতে পারলেই আমরা মানব সম্পদ তৈরির কারিগর হতে পারলাম। স্কুল ও কলেজগুলোর শিক্ষা পাঠ পদ্ধতি নিয়ে তাই নাক গলাতে হবে। নজরদারী রাখতে হবে। বাচ্চাদের আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেয়াটাও জরুরী। ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যে তাঁরা সুন্দরের রাস্তা খুঁজে নিক।“

বাবু আরো বলেন, “এই নগরীর যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছর তাঁদের জন্য এমন কিছু করতে হবে যেন তাঁরা মাদকমুক্ত জীবন পায়। সমাজের অসংস্কৃতি থেকে তাঁদের বাঁচাতে হবে। পরকীয়া সম্পর্ক তৈরির হার কমাতে নৈতিক পাঠচক্রের আয়োজন করতে হবে। যা প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে পাঠাগার স্থাপনের পর সাপ্তাহিক আলোচনায় কাউন্সিলিং করে তাঁদেরকে নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলা হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির নানান পথ তৈরি করে তাঁদেরকে বেকার জীবনের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে হবে। কৃষি ভিত্তিক সমাজ গড়তে অধুনা কৃষি ব্যবস্থার সাথে তাঁদের পরিচয় ঘটাতে হবে। শিল্প কল কারখানায় তাঁদের ন্যায্য হিস্যা পেতে শিল্প এলাকায় পঞ্চায়েত কমিটির আত্মপ্রকাশ করানো হবে। সিটি পুলিশ, সিটি পরিছন্ন কর্মী যেহেতু নিয়োগ দেয়া হবে, আমি ধারণা করছি, নতুন করে ধীরে ধীরে দেড় হাজার দক্ষ জনশক্তির নিয়োগে আমি থাকতে পারব। যাদের প্রত্যেকের চাকুরীতে যোগদানের জন্য প্রাথমিক শর্ত হিসাবে থাকবে যে, তাঁদের সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে স্থায়ী আবাস থাকতে হবে। “

বাবু আরো বলেন, “জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য তাঁদের অবকাশ, বিনোদন নিশ্চিত করে এমন অভিনব ব্যবস্থা প্রবর্তিত হবে, যার মধ্যে তাঁরা বাস করে জীবনকে সুখময় মনে করবে।“

বাবু বলেন, নারায়ণগঞ্জের সার্বিক উন্নতি সাধনকে গুরুত্ব না দিয়ে এই শহরের জনগোষ্ঠী দুইটি বিশেষ বলয়কে পছন্দ ও অপছন্দ করার ‘রায়’ দিয়ে সাজিয়েছে প্রাচ্যের ড্যান্ডির সংসার। যা আত্মঘাতি পর্যায়ের সিদ্ধান্ত বলে অনুমিত হয়। স্বভাবতই নাসিক ভবন গড়ে উঠলেও মানুষের মনের মধ্যকার উচ্চতার স্থাপনা গড়ে ওড়েনি। স্বপ্নই দেখেনি তাঁরা। তাঁরা ভাবেনি এই শহর কতটা রঙ্গিন হতে পারে ! জনস্বার্থ থেকেছে তাই উপেক্ষিত।আসুন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতিকে ‘না’ বলে এবার অন্তত শহরটাকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নগর হিসাবে দাঁড় করায়ে ফেলি। তা করা ‘সম্ভব’। যেমনটি আমার মেয়র হওয়া শুরুতে অসম্ভব মনে হলেও ধীরে ধীরে সব্বাই বলছে, ‘সম্ভব’ !

বন্দরের দুইটি ওয়ার্ডের গণসংযোগে জয় বাংলা নাগরিক কমিটির সদস্য সোহেল খান, আনিসুর রহমান, মোহাম্মদ রনি, তুষার খান, মোমিন তালুকদারসহ প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

1