কারখানার শ্রমিক ইয়াসমিন এর সভাপতিত্বে সমাবেশে

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার যাত্রামুড়ায় অবস্থিত দেওয়া নীট কম্পোজিট ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ কারখানা খুলে দাও, ২ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধসহ ১৩ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে অদ্য ২৯/০৯/২০২১ইং সকাল ১১-১২টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ কলকারখানা অধিদপ্তরের উপ মহাপরিদর্শক বরাবরে সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

কারখানার শ্রমিক ইয়াসমিন এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সভাপতি রুহুল আমিন সোহাগ, কাঁচপুর আ লিক শাখার সহ-সভাপতি আনোয়ার খান, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান, আরও বক্তব্য রাখেন কারখানার শ্রমিক সোহেল, মাজহারুল, শিল্পী প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আজ ৪ দিন যাবত শ্রমিকরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছে। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পুলিশ সুপার, বিকেএমইএ, রূপগঞ্জ থানাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবহিত করার পরও কর্তৃপক্ষ অদ্য পর্যন্ত সংকট সমাধানের কোন উদ্যোগ গ্রহন করেনি। তাই আজ আমরা স্মারকলিপি প্রদানের জন্য উপস্থিত হয়েছি। স্মারক লিপি গ্রহন কালে কলকারখানা উপ-মহা পরিদর্শক সৌমেন বড়–য়া আশ্বস্ত করেন অচিরেই শ্রমিকদের সংকট সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, শ্রমিকদের ২ মাসের বকেয়া বেতন মেনে নিতে হবে। গত ৩ বৎসর যাবৎ মালিক কর্তৃপক্ষ শ্রম আইন অমান্য করে কারখানা পরিচালনা করে আসছে। কখনই শ্রমিকদের শ্রম আইন অনুুযায়ী বেতন ভাতা পরিশোধ করা হয় না, বেতন পরিশোধের কথা বললেই বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে শ্রমিকদের হুমকি ধামকি দেওয়া হয়। গত ২ মাসের বেতন শ্রমিকরা পায় নাই। যখন শ্রমিকরা বেতনের কথা বলে আজ নয় কাল এই বলে কালক্ষেপন করে থাকে। ন্যুনতম মজুরি বাস্তবায়ন করেন নাই। গত ৪ দিন যাবৎ বেতন পরিশোধ করবে বলে আশ্বাস দিয়ে বেতন পরিশোধ করেন নাই। কারখানা সামনে গেলে কারখানা তালাবদ্ধ করে রাখে। একটি রপ্তানীমুখী শিল্প কারখানা শ্রম আইন লঙ্ঘন করে দীর্ঘদিন যাবৎ পরিচালনা করে আসছে। করোনাকালীন সময়ে এই সংকটে পড়ে শ্রমিকরা দোকান বাকী, বাসা ভাড়া, সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে পারছে না। বাড়ীওয়ালা ভাড়া না পেয়ে ঘর থেকে বের করে দিচ্ছে। এমতাবস্থায় দেশের অন্যতম রপ্তানীমুখী শিল্প কারখানার শ্রমিকরা মানবেতর জীবন যাপন করছে।

অবিলম্বে কারখানা খুলে দিয়ে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের জোর দাবি জানান। অন্যথায় যে কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য প্রশাসন এবং মালিক কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেন।

1