নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে কাজ করবে গণঅধিকার পরিষদ

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকমঃ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর গণঅধিকার পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন, এই মুহুর্তে নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে আন্দোলন করাকে তারা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন না। এই মুহুর্তে জরুরি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন। এজন্য বিভিন্ন দলের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী গণঅধিকার পরিষদ। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সদস্য সচিব নুরুল হক নুর বলেন, কুৎসা, হামলা, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, কারাবরণ ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এক বৈরী বাস্তবতায় আমরা কোটা সংস্কার আন্দোলন করেছি। তাতে দেশজুড়ে পেয়েছি শিক্ষার্থীদের অভাবনীয় সমর্থন। আমরা আজ যখন একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিচ্ছি, তখন পৃথিবী দুটি বড় সংকট মোকাবিলা করছে। সবার সম্মুখে দাঁড়িয়ে এই প্রত্যয় ঘোষণা করছি যে আমরা নানান ক্ষেত্রে সৃষ্টি হওয়া বহু স্তরবিশিষ্ট বৈষম্য লাঘব করে বাংলাদেশকে মানবিক উন্নয়নের প্রগতিশীল ধারায় স্থাপন করবো ইনশাআল্লাহ।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নতুন দলের আহবায়ক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, আমি নির্বাচন কমিশন নিয়ে আন্দোলন করা তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না। আমাদের আসল দাবি হলো, আমরা একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই।

এটা ছাড়া নির্বাচনে নামার কোনও মানে হয় না। যারা এর আগে দুইবার প্রতারণা করেছে তারা যে আবার করবে না, সেটার ভরসা আমি করি না। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে অন্য সব দলের সঙ্গে আমরা আলোচনা করবো। আমি আশা করি, দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে তারা আমাদের সহযোগিতা করবে।
তিনি আরও বলেন, কার সঙ্গে জোট করবো সেটা তখনকার পরিস্থিতি দেখে আমরা ঠিক করবো। আমাদের পরিকল্পনা ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়া। তবে পরিস্থিতির ওপর তা নির্ভর করছে। এ সময় রেজা কিবরিয়া আরও জানান, দলটি যেহেতু গণমানুষের সেহেতু গণমানুষের টাকায় এই দল পরিচালিত হবে।

দলের সদস্যসচিবের দায়িত্ব নেয়া নুরুল হকের কাছে সাংবাদিকেরা জানতে চান, নতুন দলের নতুনত্ব কী হবে? জবাবে নুরুল হক নুর বলেন, বাংলাদেশে বড় দুটি দলের রাজনীতি পরিবারকেন্দ্রিক। কারও বাবার পরে মেয়ে, কারও স্বামীর পরে স্ত্রী। আমাদের দল কখনো রেজা কিবরিয়া ও নুরুলের দল হবে না। এখানে গণতান্ত্রিক উপায়ে পরবর্তী নেতৃত্ব ঠিক হবে। আমরা গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের কথা বলছি।

মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, আমরা এ ব্যাপারে এখন যে প্রধানমন্ত্রী আছেন, ওনার শিক্ষা নেব। উনি যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ১৯৯১ সালে কাজ করেছেন, আমরা সেভাবে অগ্রসর হওয়ার চিন্তা করছি। যারা বাংলাদেশের জনগণের ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করতে রাজি আছেন, আমরা তাদের কথা বলব, তাদের সঙ্গে কাজ করব।
নিরপেক্ষ সরকার ফেরাতে না পারলে কী করবেন, প্রশ্নের জবাবে গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক বলেন, জনগণ সঙ্গে থাকলে আমরা নিশ্চয়ই আদায় করতে পারব। জনগণ আমাদের বড় শক্তি, এই শক্তির ওপর ভরসা করে রাজনৈতিক কর্মকা- শুরু করেছি।

গণ অধিকার পরিষদ নির্বাচনে কারও সঙ্গে জোটবদ্ধ হবে কি না, জানতে চাইলে রেজা কিবরিয়া বলেন, জোটবদ্ধ নিশ্চয়ই হব। তবে কার সঙ্গে জোট হবে, সেটা তখনকার পরিস্থিতির আলোকে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

নতুন দলের প্রথম কর্মসূচি কী হবে, এ প্রশ্নের জবাবে রেজা কিবরিয়া বলেন, এখানকার বড় ইস্যু হলো সাম্প্রদায়িকতার সমস্যাটা বেশি মাথা তুলেছে অনেক বছর পর। আমরা মনে করি, যেগুলো ঘটেছে, এগুলো সাজানো নাটক। এ দেশের কিছু লোক এবং বাইরের কিছু লোকের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য এই অসহায় মানুষদের অত্যাচার করা হয়েছে। আমরা এটার বিরুদ্ধে একটা শক্ত অবস্থান নেব।

আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, আমি এসেছি একটা বিশ্বাস নিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে। রেজা কিবরিয়া অক্সফোর্ডে পড়ুয়া উচ্চশিক্ষিত। আর নুরুলরা স্বপ্ন দেখাতে জানে এবং স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে। এই তরুণদের সংগ্রামের ঐতিহ্য আছে। তোমরা সততার প্রতীক, তোমরাই নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারো। নতুন উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই।

নতুন দলের নাম ঘোষণার জন্য বড় মিলনায়তন না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছরেও আমরা কাঙ্খিত রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারিনি। আজকে এমন একটা শাসনকাল অতিক্রম করছি, যখন মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, ভোটের অধিকারগুলো বলতে গেলে হারিয়ে গেছে। যে কারণে আজ সভা-সমাবেশ করার অধিকারও নেই। আজকের অনুষ্ঠান করার জন্য আমরা আবেদন করেও বড় মিলনায়তন পাইনি। আমরা এর নিন্দা জানাই।

সংবাদ সম্মেলনে নুরুল হক গণ অধিকার পরিষদের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। দলের চার দফা মূলনীতি (গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ) ও ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান।

1