আর্থিক-মানসিক দুই ভাবেই আমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি’

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকমঃ   বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) অষ্টম আসরে খেলতে পারছে না সাইফুদ্দিন আহমেদ। এ নিয়ে টানা তিনটি আসরে তার খেলা হচ্ছে না। কারণ একটাই ইনজুরি। এবারো নির্বাচকরা চিকিৎসকদের কাছ থেকে সবুজ সংকেত না পাওয়াতে তার নামই রাখেনি ড্রাফটে। তবে না খেলতে পারার কষ্ট নিয়ে বসে নেই এই তরুণ পেস বোলিং অলরাউন্ডার। মাঠে ফিরতে মুখিয়ে আছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চিকিৎসকদের পরামর্শে শুরু করেছেন পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। তবে দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই টুর্নামেন্টে খেলতে না পারার কষ্টে অনেকটা ভাষাহীন হয়ে পড়েছেন তিনি।গতকাল দৈনিক মানবজমিনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তেমনটাই জানিয়েছেন। এমন অবস্থায় নিজের পরিকল্পনা নিয়ে সাইফুদ্দিন বলেন, ‘এখন আর পরিকল্পনা দিয়ে কি হবে বলেন! মন তো চাচ্ছে কাল থেকেই মাঠে নেমে ম্যাচ খেলি। আমি মাঠের ক্রিকেটার সেখানে না থাকতে পারলে আর কি করা। আমার সঙ্গের সবাই এখন মাঠে অনুশীলন করছে। আর আমি বাইরে এটি ভাবতেই ভীষণ খারাপ লাগছে। তারপরও কি করা বসে থাকলে তো হবে না। এখন আমার জন্য যেটি গুরুত্বপূর্ণ রিহ্যাবের কাজগুলো ঠিকমতো করা। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা, সময়মতো সব ঠিক হয়ে যাবে।’ টানা তিন আসরে বিপিএল খেলতে পারছে না সাইফুদ্দিন ইনজুরির কারণে। শুধু তাই নয় ইনজুরির কারণে ২০১৯ বিশ্বকাপে তার সব ম্যাচ খেলা হয়নি। দেশে-বিদেশে বেশ কয়েকটি সিরিজেই ছিলেন না জাতীয় দলে। তাই তার ইনজুরি ম্যানেজমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর আগেও তাকে অতিরিক্ত খেলানো তার ওয়ার্ক লোড ম্যানেজমেন্ট ঠিকভাবে হচ্ছে না বলেই অভিযোগ ছিল বিসিবির মেডিকেল বিভাগের। এমনকি তিনি পুরোপুরি সুস্থ না হতেই সবশেষ বঙ্গবন্ধু বিপিএলে শেষ দিকে মাঠে নামানো হয়েছিল। তাই তার ইনজুরি ম্যানেজমেন্টাই এখন প্রশ্নবিদ্ধ। এ বিষয়ে সাইফুদ্দিন বলেন, ‘আসলে ইনজুরি ম্যানেজমেন্ট ঠিকভাবে হচ্ছে কিনা তা বলা কঠিন। আমি চেষ্টা করে চলছি নিজেকে সঠিকভাবে ফিট রাখার। তারপরও এমন হচ্ছে কেন সেটি বুঝতে পারছি না। যেহেতু দ্বিতীয়বার একই ইনজুরি নিয়ে ভুগছি তাই আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে তৃতীয়বার যেন এমনটা না হয়। এজন্য যে কাজগুলো করার সেগুলো ঠিকভাবে করে যাচ্ছি।’ গতকালই সাইফুদ্দিনের এমআরআই রিপোর্ট বিসিবির মেডিকেল বিভাগের হাতে আসার কথা। তার ভিত্তিতেই এই পেস অলরাউন্ডারের সামনে করণীয় ও মাঠে ফেরার বিষয়টি জানা যাবে। এ বিষয়ে বিসিবির মেডিকেল বিভাগের প্রধান চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরী বলেন, ‘ওর রিপোর্টটা আমরা হাতে পাবো আজই (মঙ্গলবার)। তবে কাল (আজ) সকালে আমি সেটি দেখতে পারবো। এমনিতে ও এখন নিয়মিত রিহ্যাব প্রক্রিয়ার কাজ করে যাচ্ছে। আমরা সাইফুদ্দিনের রিপোর্টটা দেখে রিহ্যাবটা নিয়মিত করবো। সামনের একটা মাস ওকে আমরা পর্যবেক্ষণে রাখবো। যদি দেখি অবস্থার উন্নতি হয়েছে তাহলে আমরা তাকে ব্যাট করার অনুমতি দেবো। বল করতে আরও একটু সময় লাগবে। অপেক্ষা করতে হবে বেশ কিছুটা সময়।’
মাঠের বাইরে থাকা যেমন ক্রিকেটারের অনেক রকমের ক্ষতি। একটি নিয়মিত খেলা বাইরে থাকলে স্কিলে ঘাটতি হয়। অন্যটা আর্থিকভাবেও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। তিনটি বিপিএল খেলতে না পারা সাইফুদ্দিনের জন্য যেমন ক্রিকেটীয় ক্ষতি তেমনি আর্থিকভাবেই বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে এই পেসারের। দুটি ক্ষতি সমান বড় মনে করেন সাইফুদ্দিন। তিনি বলেন, ‘দুটিই (আর্থিক ও ক্রিকেটীয়) আর আমার জন্য মেজর ক্ষতি। কোনোটার চেয়ে কোনোটা কম নয়। দেখেন অন্য যেকোনো পেশার মানুষ তারা কিন্তু অনেক সময় পায়। কিন্তু ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারের নিশ্চয়তা খুব কম। এই দেখেন ইনজুরির জন্য কিন্তু খেলতে পারছি না। আবার বয়স ও ফর্মের ও একটা ব্যাপার থাকে। এখন আমাদের দেশের ঢাকা লীগ আর বিপিএলই অর্থ আয়ের বড় পথ যদি ক্যারিয়ারের শুরুর সময়টাই খেলতে না পারি তাহলে আয় কোথা থেকে করবো! কতদিন খেলতে পারবো তার তো কোনো নিশ্চয়তা নেই। যে কারণে আর্থিক ক্ষতিটাও কম নয় আমার জন্য।’

1