কাউন্সিলর প্রার্থী মুন্নার পক্ষে একাট্টা ১৮নং ওয়ার্ডবাসী

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগম ২৭টি ওয়ার্ড। মেয়র, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলরদের পদচারনায় মুখরিত ওয়ার্ডের অলিগলি। চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে সর্বত্র আলোচনা নির্বাচন নিয়ে। কার সাথে কার প্রতিদ্বন্দি¦তা হবে, কে জিতবেন, কার অবস্থা কেমন, ভোটাররা কাকে পছন্দ করছেন। কেন করছেন, কার দ্বারা ওয়ার্ডের উন্নয়ন হবে, কাকে দিয়ে আগামী দিনে আধুনিক ও সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ এবং মাদকমুক্ত ওয়ার্ড গড়ে উঠবে। এমন নানা বিষয় নিয়ে ভোটাররা হিসেব-নিকেষ করছেন।

এমনই একটি ওয়ার্ড ১৮ নাম্বার। এই ওয়ার্ডে বর্তমান, সাবেক মিলিয়ে ৬জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। তারা হলেন-কবির হোসাইন (ঠেলাগাড়ি), কামরুল হাসান মুন্না (ঘুড়ি), মকছুদুর রহমান (ব্যাডমিন্টন র্যা কেট), খলিলুর রহমান (লাটিম), শাকিল হোসেন (ঝড়ি) ও হান্নান মিয়া (টিফিন ক্যারিয়ার)।

গত দুইদিন ওয়ার্ডের জমিদারি কাচারি গলি, ঋষিপাড়া মাঠ, তামাকপট্টি, বি,কে রোড, নলুয়া রোড, মুসলিম নগর, আল আমিন নগর, ডিয়ারা ঘুরে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কথা একটি চিত্রই ফুটে উঠেছে আর তা হলো ‘পরিবর্তন’। ওয়ার্ডবাসী অভিযোগ করে বলেন, ২০১৬ সালে কবির হোসাইনকে আমরা ভোট দিয়েছি। কিন্তু তার কাছ থেকে আমরা কাংখিত সুবিধা এবং উন্নয়ন পাই নাই। তার লোকজন অনেকেই চাঁদাবাজি ও মাদকের সাথে জড়িত। বিশেষ করে দাসপাড়া এলাকার মাদক বাবসায়ীদের উৎপাত অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়েছে। তিনি কখনোই তা নির্মূলে কার্যকর ভূমিকা নেননি। নিতাইগঞ্জ ট্রাকস্ট্যন্ড, অটোস্ট্যান্ডের চাদাবাজি নির্মুলেও কোন ভূমিকা রাখেননি। তাছাড়া নিতাইগঞ্জ এলাকার আটা ময়দা বাবসায়ীরা চোরের উৎপাতে অতিষ্ট হয়ে কবির হোসেনের কাছে বেশ কয়েকবার দ্বারস্থ হলেও তিনি কোন প্রতিকার করেননি। শুধু তাই নয় এলাকার রাস্তাঘাট ড্রেন জলাবদ্ধতা নিরসনেও কবির হোসেন ছিলেন উদাসীন। সবচেয়ে বড় বিষয় নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য ১৮ন ওয়ার্ডের শহীদনগর এলাকাকে তিনি পরিনত করেছেন ময়লার ভাগাড়ে। যার ফলে বিগত বছরগুলোতে ওয়ার্ডবাসী স্বাস্থঝূঁকি ছিলো চরমে। এমন সব অভিযোগের কারনে ১৮নং ওয়ার্ডবাসী বলছেন নির্বাচনে পুরোনো সেই ভুল আর করবে না তারা। এলাকার উন্নয়নে পূনরায় কামরুল হাসান মুন্নাকে নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।

এদিকে, বর্তমান কাউন্সিলরের বিভিন্ন অযোক্তিক কর্মকান্ডের বিরোধীতা করে পশ্চিম মুসলিম নগরের হাজী মোসাদুল্লাহ বলেন, ভুলে গেলে চলবে না মুন্না ভাইয়ের আমলে যে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, তার ছিটেফোটাও গত পাঁচ বছরে হয়নি। মুন্না ভাইয়ের সময়ে বাপ্পী স্মরণী, শহীদ নগরের ২টা ব্রীজ, আলামিন নগরের ব্রীজ, শহীদনগরের রাস্তাসহ অধিকাংশ এলাকার রাস্তাই তৈরী করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অনেক ডিপ টিউবওয়েল, অনেক পাকা ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের ব্যবস্থা মুন্না ভাই করেছেন। গত পাঁচ বছরে আমাদের এলাকায় কয়টি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে এ প্রশ্ন রইলো আপনাদের কাছেই। সামনে নির্বাচন, যদি উনি কোনো ভুল করে থাকে তাহলে আল্লাহর ওয়াস্তে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দিবেন। উনার পক্ষ থেকে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

বাচ্চু মিয়া নামে আরেকজন বলেন, এই এলাকাকে মুসলিমনগর নামে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন কামরুল হাসান মুন্না। এই এলাকার নাম আগে ছিলো বাটা কোম্পানির মাঠ এলাকা হিসাবে পরিচিত ছিলো। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মুন্না বলেছে, মুসলিমনগর এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এখন বক্তব্য রাখবেন অমুকে অমুকে। তিনি আরও বলেন, আগে এই অঞ্চলে ঝুলন্ত টয়লেট ছিলো, মুন্নার আমলে একশ’র বেশী স্বাস্থ্যসম্মত ও পাকা পায়খানার ব্যবস্থা করেছেন এবং ২০টিরও বেশী ডিপ টিউবওয়েল বসানো হয়েছিলো। কিন্তু গত ৫ বছরে কয়টা ডিপ টিউবওয়েল বসানো হয়েছে?

বর্তমান কাউন্সিলরের বিরোধীতা করে এক যুবক বলেন, যদি মাথা ব্যাথা হয় তাহলে আমাদের বর্তমান কাউন্সিলর মাথা কাইট্টা ফালাইবো। তার কাছে এর কোনো চিকিৎসা নেই। সমাজ একটার পর একটা ভাগ করে দিতাছে। এখন শুধু বাকী ঘরগুলোকে আলাদা করা। আমরা এ ধরনের সমাজ চাই না, আমরা চাই সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকতে। তাই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হলে আমাদেরকে সামনের নির্বাচনে মুন্না ভাইকে বিপুল ভোটে জয়ী করে আনতে হবে।

১৮ ওয়ার্ডের মুরুব্বী আলহাজ্ব ফয়েজ উদ্দিন লাভলু বলেন, “আপনারা এখানে দাড়িয়ে দক্ষিণ নলুয়া জামে মসজিদ দেখছেন সেটা মুন্না করেছে, একটা স্কন দেখছেন, তার আগে একটা মন্দির দেখছেন, স্বাধীণতা চত্বর, বাপ্পী চত্বর সবই মুন্না করেছেন। একটা মাদ্রাসা দেখছেন এটা আমরা এবং মুন্না সকলে মিলে করেছি। যেহেতু ও মানুষ, ওর ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে, তবে আমরা কথা দিচ্ছি মুন্নার পক্ষ থেকে আর কোনো ভুল হবে না। মুন্না এখন খাঁটি সোনা হয়েছে, এই খাঁটি সোনা আপনাকে চিনতে হবে। একজন দক্ষ মানুষকে চিনতে হবে।

“মানুষ গতবার যে ভুল করেছে, সেটা এবার শুদ্ধ করতে চায়। আমরা মনে করি, প্রত্যেকটা প্রার্থী যোগ্য। তবে আমার প্রার্থী (কামরুল হাসান মুন্না) সবার চেয়ে যোগ্য। আমার প্রার্থী জয় বাংলার প্রার্থী, শেখ হাসিনার প্রার্থী, আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগ-ছাত্রলীগের প্রার্থী, এলাকার সকল মানুষের প্রার্থী।”

তিনি আরও বলেন, আপনারা আগেও কমিশনার দেখেছেন, এর আগেও কমিশনার দেখেছেন, আমার বড় ভাই দুলু কমিশনারকেও দেখেছেন। যাই হোক আমরা আর ভুল করতে চাই না, আমাদের এলাকাকে নর্দমার এলাকা করতে চাই না, আমাদের এলাকা সুইপার কলোনী এলাকা করতে চাই না। আমাদের এলাকা হবে নারায়ণগঞ্জের সর্বশ্রেষ্ঠ এলাকা, তার জন্য মুন্নার যতটুকু সহযোগীতা প্রয়োজন, ইন্শাআল্লাহ আমরা তাকে তা করবো।”

1