অন্য পণ্য না কিনলে তেল নেই

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকমঃ   দোকানের তাকে সাজিয়ে রাখা নেই তেল। শুধু তেল কিনতে এলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ক্রেতাকে। তবে অন্য পণ্য নিলে গুদাম থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে সয়াবিন তেল। দামও রাখা হচ্ছে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি। সিলেটে এভাবেই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে তেল। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বোতলের গায়ে লেখা দামের চেয়ে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে তাদের। তাই বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন কোম্পানি শুধু তেলের অর্ডার নিচ্ছে না। তেলের সঙ্গে কোম্পানির অন্যান্য পণ্যের অর্ডার কাটলে তবেই দিচ্ছে সয়াবিন তেল।

সরকার বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৯৮ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু সিলেটের খুব কম দোকানে নির্ধারিত দামে তেল পাওয়া যাচ্ছে। নগরের আম্বরখানা, শিবগঞ্জ, সুবিদবাজার, রিকাবিবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে বেশির ভাগ দোকানে সয়াবিন তেল সাজিয়ে রাখা নেই। শুধু তেল কিনতে আসা ক্রেতাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন দোকানিরা। ৩-৪ হাজার টাকার বাজার নিলে সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে ৫ লিটার সয়াবিন তেল। বেশির ভাগ দোকানের গুদামে সয়াবিন তেল সরিয়ে রাখতে দেখা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেটের পাইকারি বাজার কালিঘাটের সবকটি দোকানে বোতলের গায়ে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের চেয়ে বেশি দামে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে তেল। তাই খুচরা ব্যবসায়ীরাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। ১৯৮ টাকা লিটারের তেল ২১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির ডিলাররা দোকানে এসে তেলের অর্ডার কাটলেও দোকানদারদের জুড়ে দিচ্ছেন নানা শর্ত। এক কার্টন (৫ লিটারের চার বোতল) সয়াবিন তেলের সঙ্গে অর্ডার কাটতে হচ্ছে দুই বস্তা (৪৮ কেজি) আটা কিংবা ময়দা। আটা-ময়দার অর্ডার না দিলে কোম্পানির পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে না তেল। এ অবস্থায় দোকানদাররাও পড়েছেন বিপাকে।

সিলেট নগরের আম্বরখানার এক দোকানদার জানান, প্রতিদিন তার দোকানে অন্তত ১০ কার্টন তেলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সারা দিনেও এক বস্তা (২৪ কেজি) আটা-ময়দা বিক্রি হয় না। এরপরও বিভিন্ন কোম্পানি আটা-ময়দার বড় অর্ডার করতে বাধ্য করছে। তেল কিনতে গিয়ে আটা ও ময়দায় গুদাম ভরে গেছে। অনেক আটা ও ময়দা গুদামে নষ্ট হচ্ছে। ফলে তেল বিক্রি করতে গিয়ে এখন লোকসান গুনতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একই বাজারের আরেক ব্যবসায়ী জানান, কালিঘাট থেকে ১৯৮ টাকা লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল ২০২ টাকায় কিনে আনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে ২০৫ টাকায় তাকে বিক্রি করতে হচ্ছে। বাড়তি দামে বিক্রি করলে ভোক্তা অধিকার জরিমানা করতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে ওই ব্যবসায়ী বলেন, ‘অভিযান হলে তেল কেনার মেমো দেখাব। এরপরও জরিমানা করলে কিছু করার নেই।’ ডিলার ও পাইকারি দোকানগুলোতে অভিযান চালানো হলে তেলের বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

1