‘পাকিস্তান ভেঙে তিন টুকরো হয়ে যাবে’: ইমরান মানসিকভাবে অসুস্থ, অযোগ্য হওয়া উচিত

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ  টুয়েন্টিফোর ডটকম:    ‘এস্টাবলিশমেন্ট’ যদি যথাযথ সিদ্ধান্ত না নেয় তাহলে পাকিস্তান ভেঙে তিন টুকরো হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি আরও বলেছেন, এমন হলে সবার আগে ধ্বংস হয়ে যাবে সেনাবাহিনী। এতে পাকিস্তান দেউলিয়া হয়ে পড়বে। অন্যদিকে বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাকারীদের উদ্বুদ্ধ করছে ভারতীয় থিংক ট্যাংকগুলো। তার এমন বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে পাকিস্তানে। তুরস্ক সফরে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এ বিষয়ে জবাব দিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি ইমরান খানের এমন মন্তব্যকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নগ্ন হুমকি বলে অভিহিত করে তাকে সাবধান করেছেন। শেহবাজ শরীফ বলেছেন, ইমরান খান রাজনীতি করতে পারেন। কিন্তু পাকিস্তানকে বিভক্ত করার কথা বলার মতো সাহস দেখাতে পারেন না। এমন কথা বলার পর সরকারি দায়িত্বে তার অযোগ্য হওয়া উচিত।

প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন পিএমএলএনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মরিয়ম নওয়াজও। তিনি ইমরান খানের কড়া সমালোচনা করে প্রশ্ন রেখেছেন- (দেশ ভাগ করে) তিন খ-ের মতবাদের প্রবর্তক কে? তিনি জি জ্যাক গোল্ডস্মিথ নাকি ইসরাইল আপনাকে এই মতবাদ দিয়েছে? অন্যদিকে এমন মন্তব্যের জন্য ইমরান খানকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলে মন্তব্য করেছেন পিএমএলএনের নেতা তালালা চৌধুরী। তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, একমাত্র মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিই এমন কথা বলতে পারে। এর আগে তিনি পাকিস্তানের ওপর পারমাণবিক বোমা ফেলা উত্তম বলে মন্তব্য করেন। তিনি জনগণকে গণ অসহযোগ আন্দোলন করার আহ্বান জানিয়েছেন। লোকজনকে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে বলেছেন। ফলে ইমরান খানের বিরুদ্ধে এখন ব্যবস্থা নেয়ার সময় এসেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ।
এতে বলা হয়, পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান বুধবার একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তিনি মন্তব্য করেন, যদি এস্টাবলিশমেন্ট যথার্থ সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে পাকিস্তান ভেঙে তিন টুকরো হয়ে যাবে। এমনিতেই দেশ ‘আত্মহত্যার’ দ্বারপ্রান্তে। যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া না হয়, তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে দেউলিয়াত্বের দিকে। ইমরান খানের ভাষায়, প্রকৃত সমস্যা হলো পাকিস্তান এবং এস্টাবলিশমেন্টের মধ্যে। যদি এস্টাবলিশমেন্ট সঠিক সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে আমি আপনাকে লিখিত দেবো যে, তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। সবার আগে ধ্বংস হয়ে যাবে সেনাবাহিনী।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী সতর্কতা দিয়ে বলেন, একবার যখন দেশ ধ্বংস হয়, তখন তা দেউলিয়া হয়ে যায়। তখন আন্তর্জাতিক মহল পাকিস্তানকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত হওয়ার জন্য বলবে, যেমনটা ১৯৯০এর দশকে ঘটেছিল ইউক্রেনে। ইমরান খান বলেন, বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয় থিংক ট্যাংকরা বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উস্কানি দিচ্ছে। তাদের পরিকল্পনা আছে। এ জন্যই আমি চাপ দিচ্ছি। এখানে উল্লেখ্য, তিনি কাকে চাপ দিচ্ছেন তা পরিষ্কার করেননি।

ইমরান খান আরও বলেন, যেকোনো উপায়েই হোক যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করবে পাকিস্তানের জোট সরকার। কারণ, পিএমএলএনের প্রধান নওয়াজ শরীফ, পিপিপির সহ-সভাপতি আসিফ আলি জারদারি সব সময় যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও ইসরাইলকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য কাজ করেছেন। পাকিস্তানকে শক্তিশালী করার কোনো পরিকল্পনা ছিল না তাদের সরকারের। যখন আমাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হলো, তখন ভারতের মতো শেহবাজ শরীফও সেলিব্রেশন করেছে। কারণ, তিনি একজন ভারতীয়। ইমরান খান আরও অভিযোগ করেন, তিনি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছিলেন, এ জন্য তাকে ক্ষমতায় পছন্দ করেনি ভারত। সুতরাং কেউ স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করতে চাইলে, তাকে কখনো কখনো না বলতে হবে।
হুমকি দিয়ে লেখা চিঠির বিষয়ে তিনি প্রধান বিচারপতি উমর আতা বান্দিয়ালকে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আবারও তিনি ইসলামাবাদমুখী লংমার্চ করবেন। তবে উল্লেখ করেন, তার এই প্রতিবাদ র‌্যালি নির্ভর করছে শীর্ষ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর।

ওদিকে প্রতিক্রিয়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ টুইটারে লিখেছেন, দেশের স্বার্থের জন্য তিনি তুরস্কের সঙ্গে চুক্তি করছেন। কিন্তু পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান ইমরান খান দেশের বিরুদ্ধে নগ্ন হুমকি দিচ্ছেন।

1