মামলার জট: বিকল্প বিচার ব্যবস্থা- এ্যাডঃ তৈমূর আলম খন্দকার

1

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ  টুয়েন্টিফোর ডটকম: বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি প্রদত্ব তথ্য অনুযায়ী ৪৩ লক্ষ মোকদ্দমা দেশব্যাপী বিভিন্ন আদালতে এখন বিচারাধীন, তন্মধ্যে ৫ লক্ষ মামলা বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে সুপ্রীম কোর্টে, বিশ্ব জাতীয় প্রেক্ষাপটে বিদ্যালয়ের শেসন জটের চেয়ে এর বেশী ক্ষতিকর দিক রয়েছে। মামলার জট নিরসনের জন্য পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলি মেডিয়েশন (মধ্যস্থতা) করে অষঃবৎহধঃরাব উরংঢ়ঁঃব জবংড়ষঁঃরড়হ (অউজ) এর মাধ্যমে মামলা জট কমিয়ে এনেছে। বাংলা-ভারত উপমহাদেশে পঞ্চায়াতে প্রথার মাধ্যমে উভয় পক্ষের বিরোধ সম্মানজনকভাবে নিষ্পত্তি করার রীতি প্রচলিত আছে। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংগঠিত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য “মহাজন” নামক সম্মনজনক একটি গোষ্টি গড়ে উঠেছিল। মামলার জট নিরসনের জন্য বিচার বিভাগের দায় দায়িত্বের চেয়ে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা এর জন্য বেশী দায়ী। কারণ প্রতিপক্ষকে দমানোর জন্য ক্ষমতাসীনরা হালে আইন আদালতকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছে। বিনা ভোটে জাতীয় নির্বাচনে জয় লাভ করার জন্য রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্যেও ক্ষমতাসীনরা মিথ্যা মামলা সৃজন করে বাংলাদেশে “গায়েবী” মোকদ্দমা সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে। নি¤œ আদালত অনেক সময় রাজনৈতিক মোটিভেশনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার কারণে প্রতিকারের জন্য ক্ষতিগ্রস্থ বিচারপ্রার্থীরা দিনে দিনে উচ্চ আদালতে ভীর জমায় বিধায় মামলার জট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ফলে দেশবাসী অউজ পদ্ধতিতে বিচার মিমাংশায় বেশী পক্ষপাতী, পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলিতে এ পদ্ধতি জবংঃৎড়ঃধঃরাব ঔঁংঃরপব নামে ব্যাপক পরিচিত, প্রচারিত রয়েছে যে, এ পদ্ধতিতে তারা ৮০% মোকদ্দমার বিরোধ নিষ্পত্তি করেছে।

গোটা বিশ্বে বিরোধ নিষ্পত্তির আনুষ্ঠানিক পদ্ধতি হলো বিচার ব্যবস্থা। সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে আদালত বিরোধের নিষ্পত্তি করে থাকে। কিন্তু অনেক মামলার ভারে আমাদের আদালতগুলো এখন কঠিন অবস্থার মুখোমুখি। এছাড়াও আইনি জটিলতা ও নানারকম পারিপার্শ্বিক কারণে বিচারাধীন মামলাগুলো নিষ্পত্তি করতে আদালতকে রীতিমত হিমসিম খেতে হচ্ছে। ফলে মামলা নিষ্পত্তিতে নতুন করে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘসূত্রতা। এ কারণে আদালতের পাশাপাশি বিকল্প পদ্ধতিতে মামলা নিষ্পত্তির বিষয়টি বিশ্বব্যাপী দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। অষঃবৎহধঃব উরংঢ়ঁঃব জবংঁষধঃরড়হ (অউজ) শান্তিপূর্ণ উপায়ে আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তি করার পদ্ধতি। এডিআর সাধারণত দেওয়ানি মোকদ্দমায় প্রয়োগ করা হলেও বর্তমানে ছোটখাটো ফৌজদারি মামলায়ও আদালতের বাহিরে এর প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে। মোকদ্দমা দায়ের থেকে শুরু করে ডিক্রি জারি পর্যন্ত বিপুল সময় ব্যয় করতে হয় মামলায় জড়িত পক্ষগুলোকে। এছাড়া মামলা চালাতে গিয়ে মোকদ্দমার পক্ষগণকে আইন, আদালত ও আইনজীবীর পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। এমনকি কখনও কখনও দেখা যায় মোকদ্দমার পেছনে যে খরচ হয়, তা মোকদ্দমার বিষয়বস্তু বা সম্পত্তির মূল্যমানকে ছাড়িয়ে যায়। ইউরোপ, আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতির সফল প্রয়োগ করে মামলার ভার হতে তাদের আদালত ব্যবস্থাকে রক্ষা করেছে।

অউজ ব্যবস্থার অল্প খরচে একদম কম সময়ের মধ্যে বিরোধীয় পক্ষের পারস্পারিক আলোচনার ভিত্তিতে সহজেই বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব। এ ব্যবস্থায় বিরোধ নিষ্পত্তি করতে আনুষ্ঠানিকতা কিংবা পদ্ধতিগত কোনো জটিলতার মুখোমুখি হতে হয় না। পক্ষগণের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই একটি সমাধান বের হয়ে আসে। এর ফলে কেউই মামলায় হারে না। দু’ পক্ষই বিজয়ী হয়। বিচারপ্রার্থীরা খোলামন নিয়ে মধ্যস্তাকারীর মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে কথা বলে সহজেই সমাধান বের হয়ে আসে। এ ব্যবস্থার আরেকটি সুবিধা হলো মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় পক্ষগণ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে বলে গৃহীত সিদ্ধান্তটি তারা নিজেদের বলে মনে করে। ফলে গৃহীত সিদ্ধান্তটি সব পক্ষগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়। এর মাধ্যমে বিরোধের কার্যকর অথচ শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি হয়।

অউজ ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো শান্তিপূর্ণ উপায়ে ও দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি করা। সাধারণত বিচার প্রক্রিয়ার প্রায় প্রতিটি স্তর আইনের ছকে বাধা। ফলে প্রচলিত পদ্ধতিতে মামলা নিষ্পত্তি করতে অনেক দেরি হয়ে যায়। এর ফলে মামলা জড়িতদের ওপর একদিকে যেমন মানসিক চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চালাতে গিয়ে মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের পক্ষপাতিত্বমূলক আচরন ছাড়াও দূর্নীতির অভিযোগও শোনা যায়, বিশেষ করে নি¤œ আদালত সমুহে; অথচ বিচারিক পদ্ধতিতে না গিয়ে আলাপ-আলোচনা বা সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধটি নিষ্পত্তি করা গেলে অতিরিক্ত অর্থ বা সময় ব্যয় ছাড়াই মানুষ সম্ভাব্য প্রতিকার পেতে পারে। এ কারণেই বিকল্প পন্থায় বিরোধ নিষ্পত্তি বা অউজ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। আইনগত কিছু উদ্দেশ্যে পূরণ ছাড়াও অউজ ব্যবস্থা অর্থনৈতিক ও সামাজিক উদ্দেশ্যে পূরণে বিরাট অবদান রাখছে। অউজ ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের পারস্পারিক বন্ধনও সুদৃঢ় হয়। অউজ ব্যবস্থা যে উদ্দেশ্য পূরণ করে:- (১) জয়সূচক ফলাফল (ডরহ-ডরহ ড়ঁঃপড়সব), (২) ব্যয় কমানো অথবা কোনো ব্যয় ছাড়াই মামলা শেষ (গরহরসরংব পড়ংঃ ড়ৎ হড় পড়ংঃ ধঃ ধষষ), (৩) সময় বাঁচায় (খবংং ঃরসব পড়হংঁসরহম), (৪) সামাজিক বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করে (ঈৎবধঃবং ংড়পরধষ নরহফরহম), (৫) যুদ্ধ যুদ্ধভাব থাকে না (অনংবহপব ড়ভ পড়হভৎড়হঃধঃরড়হধষ ধঃঃরঃঁফব), (৬) সামাজিক রীতি-নীতি বজায় থাকে (গধরহঃধরহ ংড়পরধষ হড়ৎসং) (সূত্র: মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন প্রদত্ব তথ্য)।

মেডিয়েশনের বাংলা শব্দার্থ হলো মধ্যস্থতা বা শালিশী। যিনি মধ্যস্থতা বা শালিশী করেন তিনি ইংরেজী ভাষায় মেডিয়েটর যার বাংলা শব্দার্থ হলো মধ্যস্থতাকারী। নিরপেক্ষ ও স্বতন্ত্র তৃতীয় পক্ষ একজন ব্যক্তির মাধ্যমে বাদী বিবাদী উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে ক্ষতিপূরণ প্রদান করে বিরোধ নিষ্পত্তি করা যায়। এ পদ্ধতিতে উভয় পক্ষ সরাসরি মূখোমূখী হয়ে নিজেদের দাবী উপস্থাপন করত: সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে মেডিয়েটর কোন পক্ষ অবলম্বন করতে পারবে না এবং সমাধানের ফলাফলের উপর কোন সিদ্ধান্ত বা কৌশল অবলম্বনপূর্বক কোন পরামর্শ কোন পক্ষের উপরে চাপিয়ে দিতে পারবে না।

আদালতের বিচার ব্যবস্থা সর্বসাধারনের জন্য উম্মুক্ত, কিন্তু মেডিয়েশন হতে হবে ব্যক্তিগত ও গোপনীয়। মেডিয়েশন সফল না হলে, উক্ত বৈঠক চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে কথোপোকথন প্রকাশ করা হবে নৈতিকতা বিরোধী ও অগ্রহনযোগ্য এবং মেডিয়েটর কোন আদালতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোন প্রকার স্বাক্ষ্য প্রদান করলে তা ন্যায়ত ও আইনত: গ্রহণযোগ্য হবে না।

প্রবাদ রয়েছে যে, যেখানে আইনের প্রয়োগ বেশী সেখানে বিচার পাওয়ার ব্যবস্থা নগন্য (ঞযব গড়ৎব ষধ,ি ঃযব ষবংং ঔঁংঃরপব)। এটা সকলেই স্বীকার করেন যে, আইনই ন্যায় বিচার পাওয়ার একমাত্র চাবিকাঠি নহে। যেখানে আইন ন্যায় বিচার করতে ব্যর্থ সেখানে ইকুইটি (ঊয়ঁরঃু) শূন্যস্থান পূরন করে। মেডিয়েশন পদ্ধতিতে কে হবে মেডিয়েটর বা তার যোগ্যতাই কি হবে এমর্মে কোন বাধা ধরা নিয়ম পদ্ধতি নাই, তবে তাকে হতে হবে সততার উর্দ্ধস্থানে অবস্থিত ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন একজন ব্যক্তি, ব্যবহার ও আচরনে থাকতে হবে নিরপেক্ষতা এবং সিদ্ধান্ত (রায়) (ঔঁফমসবহঃ) প্রদানের পূর্ব চিন্তা মুক্ত একজন ব্যক্তি। বিরোধ নিষ্পত্তিতে মেডিয়েটর তার প্রজ্ঞা ও সিনসিয়রইটির মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি “শান্তির দূত” হিসাবে কাজ করবে এবং মেডিয়েটর হওয়ার জন্য এটাই হবে তার প্রথম যোগ্যতা।

বাংলাদেশে মেডিয়েশনের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করার কার্যক্রম দেওয়ানী বিচার ব্যবস্থায় শুরু হলেও ফৌজদারী বিচারে এর ব্যাপকতা লাভ করে নাই, কারণ এর পিছনে আইনগত জটিলতা রয়েছে। দেওয়ানী কার্যবিধির ১৯০৮ এর ৮৯(ক) ধারা সন্নিবেসিত করে ১-১০ সেকশন পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে আউট-অব-কোর্ট দেওয়ানী বিষয় আইনে মেডিয়েশনে বিরোধ নিষ্পত্তির সূযোগ দেয়া হয়েছে। অথচ ফৌজদারী কার্যবিধি’ ১৮৯৮ এ ৩৪৫ ধারায় আপোষযোগ্য ও অআপোষযোগ্য মামলার তালিকা নির্ধারিত থাকায় ফৌজদারী আদালত সর্বক্ষেত্রে আউট-অব-কোর্ট বিরোধ নিষ্পত্তি করার অনুমতি দিতে পারে না। তবে কোন কোন ফৌজদারী মামলা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও আতœীয় স্বজনদের মধ্যস্ততায় অআপোষযোগ্য বিচারাধীন মামলায় বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি হচ্ছে, এজন্য আইন মেনে কিছু কিছু টেকনিক্যাল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়।

রাষ্ট্রে প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার পদ্ধতি মূলত: তিনটি যথা : (১) আইন প্রয়োগ, (২) বিচার করে সাজা বা খালাস প্রদান, (৩) সাজা হলে কারাবন্ধী করা। কিন্তু ভিকটিম বা ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করার বিধান প্রচলিত আইনে নাই। বহুপূর্বে বিচার ব্যবস্থায় নাকের পরিবর্তে নাক, কানের পরিবর্তে কান কেটে ফেলার বিধান ছিল, কিন্তু বর্তমানে সে বিধান না থাকলেও ভিকটিম মানসিক, আর্থিক, শারিরীক, পারিবারিক, সুনাম বা আবেক প্রবনতার (ওগগঙঝওঙঘ) ক্ষেত্রে যে ক্ষতি হয় তা পূরনের আইনগত কোন বিধান নাই। তবে সম্প্রতি ওহংঃৎঁসবহঃ অপঃ’ ১৮৮১ আইনে ১৩৮(ক) ধারা সংযুক্ত করে মামলার বাদীকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রভিশন চালু করা হয়েছে।

দেওয়ানী মামলায় মেডিয়েশন পদ্ধতি আরো সহজ করার জন্য ২০০৬ ইং সালে আপীল চলা অবস্থায় আপোষ নিষ্পত্তি করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধি ২০০৮ সংশোধন করা হয়। অতপর ২০১২ এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে উক্ত আইন সংশোধন করে বিরোধ নিস্পত্তির জন্য লিগ্যাল এইড অফিসারের নিকট প্রেরণ করার জন্য আদালতকে ক্ষমতা প্রদান করা হয়। লিগ্যাল এইড একট’ ২০০০ আইন বলে লিগ্যাল এইড অফিসার নিয়োগ ও ক্ষমতা প্রাপ্ত। মেডিয়েশনে উভয় পক্ষের সম্মাতিতে চূড়ান্ত চুক্তি (অমৎবসবহঃ) স্বাক্ষরিত হওয়ার পর বিদ্যমান কোন পক্ষই নতুন করে একই বিষয়ে কোন মামলা, আপীল বা রিভিশন আদালতে দায়ের করতে পারবে না। অর্থঋন আদালত আইন’ ২০০৩ এর ২২ ধারা ২০২১ ইং সালে সংশোধন করে মেডিয়েশনের সূযোগ সৃষ্টি করে দেয়া হয়েছে। উক্ত আইনের ৪৪ক এবং ৩৮ ধারা মোতাবেক আপীল, রিভিশন, এমনকি রায় ঊীবপঁঃরড়হ এর সময়ে মেডিয়েশন পদ্ধতি প্রয়োগের সূযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

গ্রাম আদালত, ২০০৬, আরবিট্রেশন এ্যাক্ট’ ২০০১, মুসলিম ফ্যামিলি ল অর্ডিন্যান্স’১৯৬১, ফ্যামিলি কোর্ট অর্ডিন্যান্স’ ১৯৮৫, ইনকাম টেক্স অর্ডিন্যান্স’ ১৯৮৪, ভ্যাট এ্যাক্ট’ ১৯৯১, কাস্টম এ্যাক্ট’ ১৯৬৯, ঞযব ঈড়হপরষরধঃরড়হ ড়ভ উরংঢ়ঁঃবং (গঁহরপরঢ়ঁষ অৎবধং) ইড়ধৎফ অপঃ’ ২০০৪, জবধষ ঊংঃধঃব উবাবষড়ঢ়সবহঃ ধহফ গধহধমবসবহঃ অপঃ’ ২০১০ প্রভৃতি আইনে মেডিয়েশন পদ্ধতিতে বিচার নিষ্পত্তি করার সূযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

আইনে অনেক সূযোগ থাকা স্বত্বেও মেডিয়েশন পদ্ধতি বাংলাদেশে এখনো জনপ্রিয়তা লাভ করে নাই, যার কারণগুলি নি¤েœ উল্লেখ করা হলো ঃ-

(১) আইজীবীদের অসহযোগীতা ঃ

(ক) গত ২০০ বৎসরের আইন পেশার ধারাবাহিকতায় মেডিয়েশন পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিজ্ঞ আইনজীবীরা উৎসাহ বোধ করেন না। এতে অর্থনৈতিক বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলিতে স্কুলে মেডিয়েশন প্র্যাকটিস করানো হয়। বাংলাদেশে নূন্যতম কলেজ ও এল.এল.বি কোর্সে মেডিয়েশন পদ্ধতি প্র্যাকটিস করা সিলেবাসে অন্তর্ভূক্ত করা আবশ্যক।

(খ) মেডিয়েশন করায় উপর্যুক্ত স্থানের প্রয়োজন। পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) মেডিয়েশন সেন্টার রয়েছে যা বাংলাদেশে নির্ধারিত এ ধরনের স্থান বা অবকাঠামো নাই। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি আদালত প্রাঙ্গনে মেডিয়েশন সেন্টার স্থাপন করা আবশ্যক।

(গ) মেডিয়েশন পদ্ধতি সস্পর্কে অজ্ঞতা। এ পদ্ধতি জনগণের নিকট জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারে নাই। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় জনগণের প্রতি সচেতনামূলক প্রচার ব্যাপকভাবে করা দরকার।

(ঘ) মেডিয়েটরের অভাব

মেডিয়েশন করার জন্য নিরপেক্ষ, সৎ, প্রজ্ঞাসীন ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ব্যক্তির অভাব থাকার কারণে এ পদ্ধতি প্রসার লাভ করতে পারে নাই। বিভিন্ন এলাকায় মেডিয়েটর প্রশিক্ষন দেয়া আবশ্যক। প্রশিক্ষিত মেডিয়েটরদের জন্য সরকারী কোষাগার থেকে একটি সম্মানী নির্ধারিত হওয়া আবশ্যক।

(ক) মন মানসিকতার পরিবর্তন

সর্বক্ষেত্রেই প্রতিশোধমূলক না হয়ে উপর্যুক্ত ক্ষতিপূরনে প্রাপ্তির মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিরোধে জর্জরিত জনগণের মনমানসিকতার মধ্যে পরিবর্তন আনতে হবে।

(খ) আইনের প্রতিবন্ধকতা

আরবিট্রেশন এ্যাক্ট’ ২০০১ এর মতে বাংলাদেশে এখনো মেডিয়েশন এ্যাক্ট প্রনয়ন ও পাশ করা হয় নাই, যা কার্যকর করা অত্যান্ত জরুরী।

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া মেডিয়েশন পদ্ধতি চালু ও কার্যকর করা সম্ভব নয়। এ বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করার সময় এসেছে, কারণ বিশ্ব সভ্যতার সাথে সমতলে চলার জন্য বাংলাদেশকেও এগিয়ে আসতে হবে। বিচার প্রার্থনা করে প্রার্থীগণ যে হয়রানী হয় তাতে বিচার পাওয়ার তৃষ্ণা অটোমেটিক মিটে যায়। এ মর্মে আরো গবেষনা ও কার্যকর পদক্ষেপ রাষ্ট্রের তত্বাবধানে এখনই শুরু করা দরকার। মানুষ শুধু যান্ত্রিক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার চায় না, মনস্তাত্বিক শান্তি লাভের বিজ্ঞান সম্মত উপায় খোজ করার চেষ্টা করে। বিজ্ঞানময় কোরান শরীফে মেডিয়েশন পদ্ধতি কথা উল্লেখ রয়েছে।

1