তিন মাসে ইউরোপে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে সাড়ে ১২ শতাংশ

0

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকমঃ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েই চলেছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। এ সময়ে সেখানে রপ্তানি প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ইপিবির তথ্যানুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর তিন মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ৪.৯৪ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১২.৪৩ শতাংশ বেশি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে বৃহত্তম রপ্তানি বাজার জার্মানিতে বাংলাদেশের রপ্তানি তিন মাসে বেড়েছে ১.৩৪ শতাংশ। রপ্তানির পরিমাণ ১.৫২ বিলিয়ন ডলার। স্পেন ও ফ্রান্সে রপ্তানি যথাক্রমে ২১.৩৫ শতাংশ ও ৩৬.৭২ শতাংশ বেড়েছে। ইইউর অন্যতম সম্ভাবনাময় বাজার পোল্যান্ড। তবে দেশটিতে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর- এ তিন মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪.৪৯ শতাংশ কমেছে।

এদিকে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি ৫.১৩ শতাংশ বেড়েছে। এতে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২.০১ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাজ্য এবং কানাডায় রপ্তানি যথাক্রমে ১৫.১১ শতাংশ এবং ১৭.৪০ শতাংশ বেড়েছে। এতে যুক্তরাজ্যে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১.১৯ বিলিয়ন ডলার ও কানাডায় ৩৩৪.৬৫ মিলিয়ন ডলার। জুলাই-সেপ্টেম্বর তিন মাসে অপ্রচলিত বাজারে দেশের পোশাক রপ্তানি ২৫.৪৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১.৭৬ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ১.৪৩ বিলিয়ন ডলার। অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে জাপানে রপ্তানি ১৬.৬০ শতাংশ বেড়ে ৩২০.৪০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ভারতেও দেশের পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিন মাসে প্রতিবেশী দেশটিতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৬৬.২০ শতাংশ, যার পরিমাণ ৩০৬.৩৯ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ের মধ্যে রাশিয়ায় রপ্তানি কমেছে ৪৭.৩০ শতাংশ। এ ছাড়া চীন, সংযুক্ত আরব-আমিরাত ও দক্ষিণ আফ্রিকায় রপ্তানি কমেছে যথাক্রমে ৩.৬৯ শতাংশ, ০.১৩ শতাংশ, ৮.৭১ শতাংশ। তৈরি পোশাক মালিক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও খুচরা বাজারে প্রভাবের কারণে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানিসহ প্রধান বাজারগুলোতে রপ্তানি তুলনামূলক কম হয়েছে। তবে অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে জাপানে রপ্তানি বেড়েছে। ভারতে আমাদের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। এদিকে করোনার প্রভাব থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ১৩ মাস পর গত সেপ্টেম্বর বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ভাটা পড়েছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দেশের পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানির বিপরীতে আয় হয়েছে ৩৯০ কোটি ডলার। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৪১৬ কোটি ৫৪ লাখ ৫ ডলার। সেই হিসাবে আগের বছরের চেয়ে আয় ৬.২৫ শতাংশ কমেছে। ইপিবির সেক্টরওয়াইজ ডাটা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসে ৩১৬ কোটি ১৬ লাখ ৭ হাজার ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৩৪১ কোটি ৮৮ লাখ ৪ হাজার ডলার আয় হয়েছিল। অর্থাৎ গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ৭.৫২ শতাংশ কমেছে। ওভেন ও নিটওয়্যার উভয় ধরনের পোশাক রপ্তানিই কমেছে। খাত সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা বলছেন, সেপ্টেম্বর থেকে যে প্রবৃদ্ধিতে মন্দা হবে, সে বিষয়ে আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল বিজিএমইএ। সেপ্টেম্বরের রপ্তানি পরিসংখ্যানে আশঙ্কা স্পষ্টতই প্রতিফলিত হয়েছে। উল্লেখ্য, বিজিএমইএ সূত্র মতে, বাংলাদেশের আরও তিনটি তৈরি পোশাক কারখানাকে ‘সবুজ কারখানা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনাইটেড স্টেটস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি)। এ নিয়ে দেশের পোশাক খাতে মোট পরিবেশবান্ধব প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৬টিতে। সবুজ পোশাক কারখানা ভবনের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে আছে। দেশের ৫৭টি পোশাক কারখানা প্লাটিনাম রেটিং, ১০৫টি গোল্ড রেটিং ও ১০টি সিলভার রেটিং পেয়েছে। সবুজ কারখানার তালিকায় বাংলাদেশের পরের অবস্থানে রয়েছে ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া।

0