কোনঠাসা ফতুল্লায় আ’লীগের ত্যাগীরা !

0

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোর ডটকমঃ  ফতুল্লায় ক্ষমতাসীনদলের ভিতর নামধারী ও নব্য আওয়ামীলীগারদের দাপট দিন দিন বেড়েই চলছে। নব্যরা আওয়ামীলীগ নেতা পরিচয়ে এলাকাতে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। আর এই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে আসছে। ক্ষমতায় থাকা প্রভাবশালী কতিপয় নেতাদের প্রত্যক্ষ মদদে বহিরাগত বিতর্কিতরা একের পর অপকর্ম করার মাধ্যমে দলের ভাবমূতি ক্ষুন্ন করে আসলেও রহস্যজনক কারনে নীরব রয়েছে দলের হাই কমান্ড। শ্রুত রয়েছে, দলের নাম ভাঙ্গিয়ে বিতর্কিত কর্মকান্ডের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া অর্থের বড় একটি অংশ বহিরাগত নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকা প্রভাবশালী কতিপয় নেতৃবৃন্দ পেয়ে থাকেন বলে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না দলীয় ফোরাম থেকে।

সূত্রে জানা যায়, ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকার চাঁদনী হাউজিং এলাকায় বসবাস এক সময়ের পুলিশের সোর্স হামিদ ওরফে পাগলা হামিদের। স্থানীয় আওয়ামী ঘরানার রাজনীতির সাথে জড়িত প্রভাবশালী এক নেতার আর্শিবাদে সাবেক সাংসদ সারাহ্ কবরীর ক্যাডার হিসেবে আর্ভিভাব ঘটে পাগলা হামিদের। ঐ সময়ে সাংসদ কবরীর আর্শিবাদ পুষ্টে বেপরোয়া হয়ে উঠে পাগলা হামিদসহ তার সাঙ্গ পাঙ্গরা। ফতুল্লার চাঁদনী হাউজিং এলাকায় নতুন ভবন নির্মানাধীন মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়সহ তার ভাগিনা তুহিনের মাধ্যমে মাদকের বিশাল সিন্ডিকেট পরিচালনার মাধ্যমে অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানেই টোকাই থেকে কোটিপতি বনে যান পাগলা হামিদ। চিত্রনায়িকা কবরী সাংসদ থাকাকালীন সময়ে বর্তমান সাংসদ শামীম ওসমানকে নিয়ে বিভিন্ন কুটুক্তি করে বিভিন্ন সভা সমাবেশে বক্তব্যও দিতে দেখা গেছে যুবলীগ নেতা পরিচয়দানকারী পাগলা হামিদকে। পরবর্তীতে দশম সাংসদ নির্বাচনে সাংসদ শামীম ওসমান এমপি হওয়ার পর পররই ভোল্ট পাল্টিয়ে থানা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এক নেতার শেল্টারে চলে যান পাগলা হামিদ। এরপর তার তার অপরাধের লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হযনি। দলের ভাবমূতি ক্ষুন্ন করে একের এর পর অপকর্ম করে বেড়ালেও রহস্যজনক কারনে পাগলা হামিদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না স্থাণীয় আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে! কথিত যুবলীগ নেতা পাগলা হামিদের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। কুতুবআইল এলাকার এক সময়রে ত্রাস বলে পরচিতি হাজী আলাউদ্দনিরে ছেলে আক্তার ও সুমন নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। হাজী আলাউদ্দীন এক সময় বিএনপির কট্টর সর্মথক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং আওয়ামীলীগসহ ওসমান পরবিাররে বিরোধী হিসেবেই তৎপর ছিলেন। আলাউদ্দনি হাজীর দুই ছেলে আক্তার ও সুমন এবং পালিত পুত্র রতন বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও তারা এখন আওয়ামীলীগের নেতা হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়ে আসছে। র‌্যাবের হাতে বিপুল পরিমান মাদকসহ গ্রেফতার হওয়ার পর কিছু দিন আক্তার ও সুমন নিশ্চুপ থাকলেও সম্প্রতি তাদের দাপট বেড়েছে বহুগুণ। মাদকসহ নানা অপকর্মের মূল হোতা আক্তার ও সুমনের দাপটে এলাকাবাসী অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। রামারবাগ এলাকার রাজ্জাক আওয়ামীলীগে যোগ দিয়েই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। আব্দুর রাজ্জাক বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্বে হালুয়া-রুটির আশায় আওয়ামীলীগে যোগদান করেছেন। আব্দুর রাজ্জাক কুতুবপুরের চেয়ারম্যান সাবেক বিএনপি নেতা বর্তমানে আওয়ামীলীগের হাইব্রিড নেতা মনিরুল আলম সেন্টুর সাথে যুবদলের রাজনীতি থেকে সম্পৃক্ত ছিলো। সাহারা বেগম কবরী এমপি থাকা কালীন সময়ে লাল চাঁন মেম্বারের পুত্র মজিবুর রহমান কবরীর শেল্টারে থেকে ভূমিদস্যুতা থেকে শুরু করে নানা অপকর্ম করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছেন। পরবর্তিতে সাংসদ শামীম ওসমানের একজন ঘনিষ্টজনকে ম্যানেজ করে শামীম ওসমানের সাথে রাজনীতি শুরু করেন। পদ-পদবী না থাকলেও আওয়ামীলীগ নেতা পরিচয়ে মজিবর রহমানের দাপট দিন দিন বাড়ছে। মজিবরের ভাতিজা শাহরিয়া রেজা হিমেল একই ভাবে সাংসদ পুত্র অয়ন ওসমানের ঘনিষ্টজনের মধ্যমে তার সাথে রাজনীতি শুরু করেছেন। বিগত সময়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত না থাকলেও বর্তমানে নিজেকে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন। এতে করে ছাত্রলীগের কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সূত্র বলছেন, শিবু মার্কেট, সস্তাপুর, কুতুবআইল, রামারবাগসহ আশপাশ এলাকার বিভিন্ন সেক্টর নিয়ন্ত্রনে এলাকাতে উত্তাপ বাড়ছে। এরই মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীনদের দু-গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার। স্থানীয়দের মতে, মূলত বিভিন্ন সেক্টর নিয়ন্ত্রনে নিতে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা জানান, সাংসদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্টজনদের শেল্টারে থেকে শিবু মার্কেট, সস্তাপুর, কুতুবআইল, রামারবাগ এলাকায় নব্য আওয়ামীলীগারদের দাপট দিন দিন বাড়ছে। নব্যদের কারণে স্থানীয় আওয়ামীলীগের ত্যাগীরা কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন দলের দুঃসময়ে থাকা রাজপথের কর্মীরা। দ্বাদশ নির্বাচনের আগ মুহুর্তে ভোল্ট পাল্টানো হাইব্রীড এ সকল নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া হলে এর প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়ার আশংকা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকমহল।

0